যায়যায়দিন
ইসির সংলাপে যায়নি ১৮টি দল

ইসির সংলাপে যায়নি ১৮টি দল

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘রাজনৈতিক যে সংকটগুলো আছেÑ আমরা বলেছি, সে বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা সবসময় ইতিবাচক। কিন্তু সেই সংকট নিরসনের সামর্থ্য আমাদের নেই।’ রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে শনিবার সকাল ও বিকালে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক ২৬টি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকের এসব কথা বলেন তিনি। জানা গেছে, এদিন দুই দফায় ইসি আমন্ত্রিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেয় ২৬টি দল। তবে বিএনপিসহ ১৮টি দল দল বৈঠকে আসেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আলোচনা যথেষ্ট ইতিবাচক ছিল। কেউ কেউ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। অধিকাংশ আমাদের অবস্থান বুঝেছেন। নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল নয়, কিছু কিছু দল এখনো অংশ নিতে পারছে না, আমরা সেটি স্বীকার করেছি। পরিবেশ অনুকূল-প্রতিকূল হওয়ার বিষয়টি আপেক্ষিক।’ তিনি বলেন, আমরা কম সময় নিয়ে দাওয়াত দিয়েছি। দ্রুততার কারণে কোনো দল অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। তারা যদি ইচ্ছা পোষণ করেন, কমিশনে আলাপ করে তাদের কথা শোনার চেষ্টা করবে। কারণ, আমাদের ইচ্ছা আমরা সবার সঙ্গে মতবিনিময় করতে চাই। সিইসি আরও বলেন, নির্বাচনের বড়জোর দুই মাস সময় আছে। আমাদের কিছু কাজ দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। নির্বাচন বিষয়ে যে প্রস্তুতিগুলো গ্রহণ করেছি, তা আপনাদের অবহিত করার জন্যই এই আয়োজন। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলোই হচ্ছে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এবং নির্বাচনের প্রধান অংশীদার। এর আগে সকালে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করতে হবেÑ এমন কোনো কথা সংবিধানে লেখা নেই। পৃথিবীর কোনো আইনেও লেখা নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি যে, অনেক রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে না। যাদের জনসমর্থন নেই, জনগণের যাদের ওপর আস্থা নেই তারা তো নির্বাচনে আসবে না। তিনি আরও বলেন, সংবিধানসম্মতভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু আছে, ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে। ইলেকশন কমিশন জানিয়েছে নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহিত করার জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাবে। আমি মনে করি, জনগণ তখন আরও বেশি উৎসাহিত হবে এবং আগামী নির্বাচনের জন্য আসবেন। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি যে কর্মসূচি দিচ্ছে, সেটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এগুলো সহিংসতার কর্মসূচি। এগুলোকে টেরোরিস্ট অ্যাকশন বলা যেতে পারে। ফারুক খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার লক্ষ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টা নির্বাচন কমিশন যে ব্রিফিং করেছে, সেটা শুনলাম। বিভিন্ন দল ও আমরা প্রশ্ন করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার তার উত্তর দিয়েছেন। আমরা খুশি, এটা দেখে যে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার লক্ষ্যে ইসি যে ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে এবং এতে আমাদের সরকার যে সহায়তা করেছে, প্রায় ৮২টি সংস্কার আইনে করা হয়েছে, তা ইসির ব্রিফিংয়ে দেখেছি। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় ব্যালট পেপারের পেছন দিকে, আগে নিয়ম ছিল যে, ৭২ সালে আইনে ছিল ব্যালট পেপারের পেছনে সিল এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সই থাকবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অন্য বিষয়ে যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে, এর মাধ্যমে সংবিধান সম্মতভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আমরা মনে করি। বিএনপিকে চিঠি দেওয়ার মতো কোনো ব্যক্তি ইসি পেল না, বিষয়টি সামনে আনলে ফারুক খান বলেন, আমি মনে করি বিএনপির জন্য এটা লজ্জাজনক ব্যাপার। তারা দলীয় কার্যালয়ে থাকবে না কেন? এদিন বিকালে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপেও ১৩টি দল অংশ নিয়েছে। আসেনি বিএনপি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি। সিইসির সভাপতিত্বে সংলাপে অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপের সংলাপে জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতারা অংশ নিয়েছেন। এদিকে, এর আগে বুধবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলকে। ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ ২২টি দলকে সকাল ১০টায় এবং বিএনপিসহ ২২টি দলকে বিকাল ৩টায় আলোচনায় বসার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। যেসব দলকে সকালে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), তৃণমূল বিএনপি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে ওলাময়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণতন্ত্রী পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ),গণফ্রন্ট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ। যেসব দলকে বিকালে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে : বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-11-05 04:58:17.044937 +0100 CET