যায়যায়দিন
ফের বিএনপি-জামায়াতের ঐক্য!

ফের বিএনপি-জামায়াতের ঐক্য!

ভোটের আগে প্রচার ছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি নয় নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশনা আমলে নেবে না বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। একদফা দাবিতে দেড় মাস ধরে চলা হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিই অব্যাহত রাখবে তারা। ফাঁকে ফাঁকে পেশাজীবী ও দলীয় ব্যানারেও জামায়াতের কর্মসূচি দেওয়া হবে। বিজয় দিবসের পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় বিরোধীরা। জানা গেছে, বিএনপি ও যুগপতে থাকা মিত্রদের লক্ষ্য এখন ভোট ঠেকানো। এজন্য ভোটের প্রচার শুরুর দিন থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যবর্তী সময়কে আন্দোলনের ‘মোক্ষম সময়’ হিসেবে বিবেচনা করছে তারা। এ সময়ে হরতাল-অবরোধের ফাঁকে ফাঁকে বিএনপিপন্থি পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ সমাবেশের মতো কর্মসূচি চালু থাকবে। এছাড়া নেতাকর্মীদের আত্মগোপন অবস্থা থেকে বাইরে নিয়ে আসতে দলীয় ব্যানারেও জামায়াত কর্মসূচি দিতে পারে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে উপলক্ষ করে ঢাকায় বড় জমায়েত করতে চায় বিএনপি। ওইদিন রাজধানীতে বিজয় শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এই শোভাযাত্রাকে ‘একতরফা’ নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শোভাযাত্রায় পরিণত করতে চায় বিএনপি। ওইদিন দুপুর ১টায় নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মগবাজার পর্যন্ত এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছে দলটি। বুধবার বিকালে ডিএমপি কমিশনার অফিসে গিয়ে চিঠি দেয় বিএনপির প্রতিনিধি দলটি। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। এছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এদিকে আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসও যথাযোগ্য মর্যাদায় পাল করবে বিএনপি। দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা জানান, বড় জমায়েত করার জন্য জাতীয় দিবসের কর্মসূচিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চান তারা। বিএনপির সূত্র মতে, চলতি মাসজুড়ে কঠোর আন্দোলন করতে চায় বিএনপি। এই সময়ের মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ঘেরাওয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বিএনপি ও যুগপতে থাকা মিত্রদের। আর জানুয়ারির শুরু থেকে শক্তভাবে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। ওই সময়ে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতকে যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করারও চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি। সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় চূড়ান্ত আন্দোলনে জামায়াতকে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে পাশে চায় দলটি। বিশেষ করে নির্বাচন ঠেকাতে ২০১৪ সালের মতো জামায়াতের সক্রিয় ভূমিকা আশা করছেন দলটির নীতিনির্ধাকরা। একই সঙ্গে এবার চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে তারা। বিজয় দিবসের পরে কঠোর আন্দোলনের আভাস দিয়েছে সরকার বিরোধী নেতারা। পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে আন্দোলনে বিএনপির অন্যতম শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘১৭ তারিখ কি হয় দেখবেন ১৭ তারিখের পরেও যতই দিন যাক এই সরকারের পতন পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। এই অবৈধ একতরফা পাতানো নির্বাচনকে আমরা প্রতিহত করব। আন্দোলন হচ্ছে, আন্দোলন চলবে, আরও বড় আকারে আন্দোলন হবে। বাম-ডান যত দল আছে যুগপৎ ভিত্তিতে সবাই মাঠে নামবে এবং এবার আন্দোলনের জোয়ারে এই সরকার ভেসে যাবে।’ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলাকালে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির পক্ষ থেকে ওই সময়ে সর্বপ্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা থেকে সবাইকে বিরত রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইসির এই চিঠির উদ্দেশ্য একটাই- বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা, বিরোধী দলের আন্দোলন দমানোর অপেচষ্টা করা। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে আর তার বশংবদ নির্বাচন কমিশন তাতে শেষ পেরেক ঠকাতে চাচ্ছে। এসব নির্দেশনা জারি করে কোনো লাভ হবে না, কোনো পরিপত্র জারি জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না। এবার জনগণ বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবে। ইসির এই চিঠি প্রসঙ্গে বিএনপি ও যুগপতের শরিক একাধিক নেতা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে বহুবার রাজনৈতিক দলগুলো ভোট বর্জন করেছে। এরশাদের আমলে, ’৯৬ সালে, ২০১৪ সালে এমনটা হয়েছে। কিন্তু তখন এমন কোনোকিছু হয়নি। কেবল সংবিধান স্থগিত থাকলে তখন এ ধরনের সামরিক ফরমান জারি হতে পারে। সুতরাং এমন চিঠি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত, সাংবিধানিক বিধানের পুরোপুরি পরিপন্থী। ভোটে অংশ নেওয়া, ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করা যেমন নাগরিকের অধিকার; তেমনি একতরফা নির্বাচন, জালিয়াতির ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অধিকারও জনগণের রয়েছে। নাগরিকদের এই অধিকার হরণ করার কোনো এখতিয়ার-অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। ফলে কোনো বিরোধী দলের এটাকে (চিঠি) আমলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে এই চিঠি প্রত্যাহার করা। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-12-15 06:00:31.823594 +0100 CET