যায়যায়দিন
২৭১৩ মনোনয়নপত্র জমা, এক চতুর্থাংশই স্বতন্ত্র

২৭১৩ মনোনয়নপত্র জমা, এক চতুর্থাংশই স্বতন্ত্র

বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের ৩শ’ আসনে মোট ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১৯৬৬ জন, বাকি ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এবার মোট প্রার্থীর এক-চতুর্থাংশই স্বতন্ত্র। আর প্রতি আসনে গড়ে প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। ইসির তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সারা দেশ থেকে আসা তথ্য সমন্বয় করে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ শুক্রবার মনোনয়নপত্র জমার পরিসংখ্যান সাংবাদিকদের জানান। মনোনয়নপত্র দাখিলকৃতদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন। ইসিতে নিবন্ধিত মোট ৪৪টি দলের মধ্যে এবার ৩২টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এখনো আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রেকর্ড ৭৪৭ স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে প্রায় ছয়গুণ বেশি। রাজনৈতিক দল থেকে যত প্রার্থী: জাতীয় পার্টি: ৩০৪ জন, আওয়ামী লীগ: ৩০৩ জন, তৃণমূল বিএনপি: ১৫১ জন, জাসদ: ৯১ জন, ইসলামী ঐক্যজোট: ৪৫ জন, জাকের পার্টি: ২১৮ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ: ৩৯ জন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি: ৩৩ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ: ৩৪ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট: ৩৭ জন, গণফ্রন্ট: ২৫ জন, গণফোরাম: ৯ জন, জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ: ১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি: ১৪২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ: ২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন: ১৩ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন: ৪৭ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি): ২০ জন বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল: ৬ জন, গণতন্ত্রী পার্টি: ১২ জন, বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি: ৬ জন, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ: ১৪ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল: ১ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি: ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি: ১৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল): ৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট: ৭৪ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ): ৫৫ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস: ১১৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম): ৪৯ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি: ৮২ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৭৪৭ জন। আওয়ামী লীগ প্রাথমিকভাবে ২৯৮টি আসনে দলের মনোনয়ন জমা দেয়। পরে ৫টি আসনে দুটি করে মনোনয়ন জমা পড়ে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মনোনয়ন জমা দেয় ২৮৬টি আসনে। পরে ১৮টি আসনে দুটি করে দলীয় মনোনয়ন জমা দেয়। এদিকে, শুক্র থেকে সোমবার পর্যন্ত এসব মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলবে। বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ পাবেন। আগামী ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল ও নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে দলীয়ভাবে জানাতে হবে তাদের জূড়ান্ত প্রার্থী কারা। যেসব আসনে একাধিক মনোনয়ন এখন রয়েছে, সেখানে চ‚ড়ান্ত প্রার্থী থাকবে, বাকিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যাবেন। এরপর ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হলে জানা যাবে, কারা থাকছেন ৭ জানুয়ারি ভোটের লড়াইয়ে। দশম সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে প্রায় তিনগুণ। এর কারণ কেবল বেশি দলের অংশগ্রহণ নয়, আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলেও নৌকার বিরুদ্ধে দলের নেতাদের স্বতন্ত্র ভোট করতে বাধা না দেওয়ার নীতি নিয়েছে। এ কারণে আবার অবরোধ-হরতালের মধ্যেও আসনে আসনে নির্বাচনী আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে নানাভাবেই। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ঘোষণার দিন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বলেছেন, কোনো আসনে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত দেখতে চান না তিনি। এমনটি হওয়ার চেষ্টা হলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা উৎসাহের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি তিনবারের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার মানসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যে এ রকম থাকবে না, সে ইঙ্গিতও এসেছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘কোন কোন আসনে কারা কারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে, আর তাদের মধ্যে আমাদের দলের কারা, সেই বিষয়গুলো জানতে হলে পুরো তালিকা পেতে হবে। আশা করি দ্রুত পেয়ে যাব। তালিকা পাওয়ার পর আমরা এটা নিয়ে বসব, সেখানে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করব। এদিকে, ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল মোট ১ হাজার ১০৭টি, বাছাইয়ের পর টিকে ছিলেন ৮৭৭ জন। সেবার ১৫৩টি আসনে একজন প্রার্থী ছিল বলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৬১ জন। তাদের মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৩৩ জন; বাকি ১২৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা এবারের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল। ওই বছর দলীয় মনোনয়নপত্র ছিল ২ হাজার ৫৬৭টি, স্বতন্ত্র মনোনয়ন ছিল ৪৯৮টি। প্রসঙ্গত, চলতি একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, এর আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন। নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮৫২ জন। যাযাদি/ এসএম
Published on: 2023-12-02 04:32:39.217718 +0100 CET