যায়যায়দিন
খালেদা জিয়া দেশ বিক্রির মুছলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো : শেখ হাসিনা

খালেদা জিয়া দেশ বিক্রির মুছলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো : শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও সেই চেতনা পুনরুদ্ধার করেছে। আর খালেদা জিয়া দেশ বিক্রির মুছলেখা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো। ২০০১ এ বিএনপি ক্ষমতায় এসে লুটপাট ও সন্ত্রাসী করেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ ছিলো বাংলাদেশের অন্ধকার যুগ। আর এদের দোসর হচ্ছে জামায়াত, যারা স্বাধীনতার সময় তাণ্ডব চালিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত দেশে নাশকতা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে অন্ধকারের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। দেশকে করেছে স্বয়ং সম্পূর্ণ। শান্ত দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চায় বিএনপি-জামায়াত। রেল লাইনে, বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে বিশ্বজুড়ে নারা দিয়েছে। বিএনপি সন্ত্রাসী দল, এদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। এজন্য শাহজাহান ওমর সন্ত্রাসী দল ছেড়ে চলে এসেছেন। ঘরের ছেলে ঘরে এসেছেন। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। শিক্ষা-অর্থনীতি সব হবে স্মার্ট। তাই ৭ তারিখ সকাল সকাল কেন্দ্রে যাবেন, নৌকা প্রতীকে ভোট দিবেন। এই নৌকা নুহ নবীর নৌকা। এই নৌকাই গড়বে স্মার্ট বাংলাদেশ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মানুষ আজ বিনা জামানতে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন পাচ্ছে। সারা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে পদ্মা সেতু করেছি। বিশেষ প্রনোদনা দিয়ে শিল্প কারখানা চালু রেখেছি। কৃষকদের সব ধরনের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। পিছিয়ে নেই বরিশাল বিভাগও। বরিশাল বিভাগ ছিলো অন্ধকার, আওয়ামী লীগ আলোকিত করেছে। এখন বিভাগের প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ রয়েছে। সেনা, নৌ ঘাটি হয়েছে। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা হচ্ছে। বরিশালের ভূমিহীনদের ঘর দেয়া হয়েছে। বরিশাল ছিলো শষ্য ভান্ডার। আমরা বরিশালের সুনাম ফিরিয়ে আনতে চাই। এখানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন হবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত সড়ক দেখলে মনে হবে বিদেশে আছি। আমি ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। তাই আগামী ৭ জানুয়ারী নৌকায় ভোট দিতে হবে। তারুন্যের শক্তি বাংলাদেশের অগ্রগতি। তাই তরুনরা ভোট ব্যার্থ হতে দিবেননা। সবাই নৌকায় ভোট দিবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সদর আসনে নৌকার প্রার্থী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল-১ আসনে আবুল হাসানত আব্দুল্লাহসহ বিভাগের বিভিন্ন আসনের নৌকার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন ও ভোট চান। সব শেষে তিনি বলেন, রিক্ত আমি, নিঃস্ব আমি, দেবার কিছু নেই। আছে শুধু ভালবাসা দিয়ে গেলাম তাই। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুল হাফিজ মল্লিক, মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: শাহজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, দলের কেন্দ্রিয় সংসদের সদস্য গোলাম রব্বানী চিনু, আনিচুর রহমান, এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, অভিনেতা মীর সাব্বির ও তারিন আহমেদ। সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কোথায়, পালিয়ে গেছে। এখনও কি তারা খেলবে। বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। এক দফার আন্দোলন ভুয়া। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ইসতিহারে বলেছেন, অতীতে কোন ভুল হয়ে থাকলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে পথ চলবেন। এই সৎ সাহস কেবল শেখ হাসিনারই আছে। আগামী ৭ জানুয়ারী শেখ হাসিনার নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে আবারো প্রধান মন্ত্রী করতে হবে। তবেই কেবল উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। যাযাদি/ এসএম
Published on: 2023-12-29 14:33:15.46197 +0100 CET