যায়যায়দিন
ইলিশের জন্য চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দোয়া মাহফিল

ইলিশের জন্য চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের দোয়া মাহফিল

ইলিশের ভরা মৌসুমেও মাছের দেখা নেই জেলেদের জালে। চাহিদার তুলনায় বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনায় দোয়ার আয়োজন করেছেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির ব্যবসায়ীরা। গত রোববার মাছ ঘাটের সকল ব্যবসায়ীরা এই দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। গাছতলা দরবারের পীর খাজা ওয়ালী উল্লাহ এই দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার জানান, জেলেরা নদীতে কোন মাছ পাচ্ছে না। আমরা ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে ভরা মৌসুমেও মাছ বিক্রি করতে পারছি না। এতে আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর দরবারে আমরা অনুগ্রহ চাই। তাই আজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে মাছঘাটে দোয়ার আয়োজন করা হয়। আমরা আশাকরি আল্লাহ আমাদের দিকে ফিরে তাকাবেন। ব্যবাসায়ীরা বলেন, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলিশের মৌসুম হলেও এবছর মধ্য জুলাইয়েও ইলিশের দেখা নেই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায়। অথচ আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মা ইলিশ রক্ষায় শুরু হবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম। জেলে হাবু ছৈয়াল বলেন, নদীতে মাছ নাই বললেই চলে। তাই আমাদের কষ্টেরও শেষ নেই। মাছ ধরে খরচ বাদ দিয়ে কোন দিন ২শ’-৩শ’ টাকা পেলেও কোন কোন দিন দেনা করে বাড়ি ফেরা লাগে। প্রতিদিন নৌকার জ্বালানি খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। বাসা হালদারের মতই দূরাবস্থা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলের। আশা নিয়ে নদীতে গিয়ে অধিকাংশ সময়ই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। সংসার চালাতে গিয়ে বাড়ছে ঋণের বোঝা। নদীতে মাছ না পড়ায় অনেক জেলেই মাছ ধরায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে কাশেম হোসেন বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুমেও নদীতে মাছ নাই। অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। ঋণের টাকা পরিশোধ করার বদলে ঋণের বোঝা বাড়ি হচ্ছে। জেলেদের জালে মাছ না পড়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। ইলিশের দাম শুনেই ফিরে যাচ্ছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। কম দামে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে ইলিশ কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক মানুষ আশাহত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নিতান্তই প্রয়োজন না হলে কেউ ইলিশ কিনছে না। পদ্মা-মেঘনায় মাছ সংকটের পাশাপাশি সাগরে অভিযান চলায় মাছের সরবরাহ অনেক কম। বর্তমানে বাজারে ৩০-৩৫ মণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। অত্যাধিক দামের কারণে ইলিশ বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। কুমিল্লা থেকে আসা ফারুক হোসেন বলেন, ইলিশের জন্য বিখ্যাত চাঁদপুর। তাই এখানে শখ করে ইলিশ কিনতে এসেছি। কিন্তু মাছের দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। এতো দামে মাছ কিনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। মাছ কিনতে আসা আরেক ক্রেতা ইয়াছিন আলী বলেন, বাজারে ১ মণ ধানের মূল্য ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এক কেজি ইলিশের মূল্য ২৫শ’ টাকা। অর্থাৎ দুই মণ ধান বিক্রি করেও একটা ইলিশ কিনা যাচ্ছে না। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা খাবে কিভাবে। ইলিশ ব্যবসায়ী বিপ্লব খান বলেন, বাজারে মাছ নেই বললেই চলে। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ নেই বললেই চলে। অপর দিকে সাগরে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘাটে মাছের আমদানি অনেক কম। তাই দাম অনেক বেশি। তিনি জানান, বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-২৫০০ টাকায়। ৭-৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২২০০ টাকায় এবং কেজিতে ১৪০০-১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ৫-৬শ’ গ্রামের ইলিশ। এ ব্যাপারে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের পাশাপাশি নদী দূষণের কারণে এই অঞ্চলে কিছুটা ইলিশ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টিতে নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সহসায় জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাবে। এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দামও নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠছেন তারা। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-07-18 05:31:35.227524 +0200 CEST