যায়যায়দিন
শেরপুরে কৃষকলীগ নেতার হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

শেরপুরে কৃষকলীগ নেতার হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

শেরপুরে সন্ত্রাসী হামলায় হাত-পা, কোমর গুড়িয়ে দেওয়ার ১৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক (৫০) । ১৭ জুলাই সোমবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে থাকাবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খালেক জেলা চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও কামারিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি ২ সন্তানের জনক। একইদিন দুপুরে ওই হাসপাতাল মর্গে তার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে-সাথে এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর চকপাড়া এলাকার মৃত ফরহাদ আলীর ছেলে আব্দুল খালেককে রাস্তায় একা পেয়ে ঘেরাও করে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকীর (৪৫) নেতৃত্বে তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে কুপিয়ে, পিটিয়ে রক্তাক্তসহ হাত-পা ও মেরুদন্ড ভেঙ্গে ফেলে, ক্ষতি হয় কিডনির। পরে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে দুর্বৃত্তরা ২ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে সটকে পড়ে। পরে আব্দুল খালেককে তারা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে সেদিন রাতেই তাকে মচিমহার আইসিইউতে রাখা হয়। তার পর থেকেই জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন খালেক। ওই ঘটনায় খালেকের স্ত্রী আসমাউল হোসনা বাদী হয়ে নূরে আলম সিদ্দিকীকে প্রধান আসামী করে তার সহযোগীসহ ২২ জনকে স্ব-নামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ ফারুক আহম্মেদ (২৬) ও সোহেল রানা (৩৭) নামে এজাহারনামীয় ২ আসামীকে গ্রেফতার করলেও কদিন পরই তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। এর পর থেকেই প্রধান আসামীসহ অপরাপর সকল আসামী পলাতক রয়েছে। এদিকে সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ থেকে গ্রামের বাড়িতে আব্দুল খালেকের লাশ পেীঁছার পর পরিবারের লোকজনসহ স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে, শুরু হয় শোকের মাতম। খালেকের লাশের পাশে বুক চাপড়িয়ে কাঁদতে-কাঁদতে স্ত্রী আসমাউল হোসনা বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় নুরে আলম ও তার বাহিনীর লোকজনের টার্গেটে ছিলেন তার স্বামী। তিনি প্রধান আসামী নূরে আলমসহ পলাতক সকল আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারসহ স্বামী হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল জানান, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আহত আব্দুল খালেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে শুনেছি। তার মৃত্যুর সনদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় মোড় নিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেইসাথে ওই ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামী নূরে আলমসহ অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-07-18 06:19:35.678591 +0200 CEST