যায়যায়দিন
ঝিনাইদহে ফুটবল খেলা নিয়ে যুবলীগ সভাপতিকে পিটিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহে ফুটবল খেলা নিয়ে যুবলীগ সভাপতিকে পিটিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহের মহেশপুরের আলামপুর গ্রামে ফুটবল খেলার সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবু হানিফ মন্ডলকে (৩০) পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার বিকালে নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধ করে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের আলামপুর কলোনীপাড়ার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই গ্রামের ৪নং কলোনীপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং উপজেলার ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। এ ঘটনায় আহত হয় অন্তত আরো ৬ জন। আহতদের মধ্যে মতিয়ার রহমান, রফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও আতিয়ার রহমানকেক কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিহতের মা বেনেসাঁ বেগম মানববন্ধনে বলেন, আমার ছেলে অসুস্থ্য ছিল। খেলা দেখবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুল মাঠে আসে। কিছুক্ষণ পর আমি স্কুল মাঠের দিকে এসে দেখি আমার ছেলেকে মালেক মেম্বার ও তার লোকজন কলার ধরে টেনে নিয়ে পিটাচ্ছে। আমার ছেলের যারা পিটিএম হত্যা করেছে তাদের আমি বিচার চাই, ফাঁসি চাই। নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই আতিয়ার রহমান মানববন্ধনে জানান, আমাদের গ্রামের আলামপুর কলোনি পাাড়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসী কৃষক দল ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। আমার ভাইকে মালেক মেম্বার ও তার গ্রুপের লোকজন জালাল উদ্দীন, রাসেল আহম্মেদ, আলামিন ও মনিসহ আরো অনেকে মারপিট করে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েয়ে। হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছি। স্থানীয়রা জানায়, বিকালে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের আলামপুর গ্রামের কলোনীপাড়ার মাঠে কৃষক একাদশ ও ব্যবসায়ী একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলা চলছিল। খেলার বিরতিতে কৃষক একাদশের খেলোয়ার বদল করতে চাইলে তাতে বাধা দেয় ব্যবসায়ী একাদশ। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পাশের দোকানে থাকা ক্রিকেট খেলার স্টাম্প ও লাঠি সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আবু হানিফসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়। পরে তাদের মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় কোটচাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে চিকিৎসক আবু হানিফ মারা যান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন জানান, নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে শনিবার একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে যোগ করেন ওসি। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-07-23 05:51:59.97643 +0200 CEST