যায়যায়দিন
জামায়াত নেতার বাসায় ডেপুটি স্পিকারসহ ১৪ সাংসদ

জামায়াত নেতার বাসায় ডেপুটি স্পিকারসহ ১৪ সাংসদ

জামায়াত নেতার বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজন করে এবারে আলোচনায় আসলেন ডেপুটি স্পিকারসহ ১৪ নারী সংসদ সদস্য। বুধবার রাষ্ট্রিয় সফরে এসে তারা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পৌর এলাকার ইসলামপুরের ভুতেরগাড়ি এলাকায় মধ্যাহ্ন ভোজনে এবং বিশ্রাম নেন। এ ঘটনায় লোকমুখে আলোচনা সমালোচনার ঝড় অন্যদিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন আওয়ামীলীগ নেতারা। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শোয়াইবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান যায়, রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনে বুধবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী আসেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর নেতৃত্বে সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস, শাহিন আক্তার, খালেদা খানম, শিরিন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, বাসন্তি চাকমা, শামসুন্নাহার, নার্গিস রহমান, মনিরা সুলতানা, নাদিরা ইয়াসমিন জলি, রত্মা আহমেদ, সেলিনা ইসলাম, সালমা চৌধুরী এবং মোছা: ডরথী রহমান। রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের বিস্তারিত অবহিত হয়ে তারা স্থানীয় জামায়াত নেতার শিল্প প্রতিষ্ঠান আরআরপি গ্রুপের মালিকের পৈত্রিক বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে যান। সেখানে বিশ্রাম শেষে ফেরার সময় আরআরপি ফিড মিলের আঙিনায় একটি গাছের চারা রোপনও করেন তারা। এ সময় তাদের আপ্যায়ন ও আথিতেয়তা দেন ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমীর মো. গোলাম আযমসহ আরআরপি গ্রুপের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। পরে তারা পাবনা সার্কিট হাউসে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সমাবেশে যোগ দিতে ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, আরআরপি গ্রুপের মালিক গোলাম আজম, মনসুর আলম, মনিরুল আলম, আজমত আলম চার ভাই। গোলাম আজম ঈশ্বরদী পৌর জামাতের আমীর। সেখানে সংসদ সদস্যগণ আমন্ত্রিত ছিলেন জেনে আমিও সেখানে গিয়েছিলাম। তবে এটি রাজনৈতিক কোন অনুষ্ঠান নয় দাবী করে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা তার জন্য বিব্রতকর বলে জানান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমীর গোলাম আজমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে আরআরপি গ্রপের পরিচালক ও গোলাম আজমের ভাতিজা রফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু আমার মামা। আমাদের আমন্ত্রনে তিনিসহ এমপি মহোদয়রা আমাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। তারা দুপুরে খাওয়া শেষে বিশ্রাম নিয়ে চলে গেছেন। পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা ইকবাল হোসাইন গোলাম আজমের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, আমরা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলিতে অংশ গ্রহন করি, সেখানে রাষ্ট্রের এমপি মন্ত্রী পর্যায়ের লোকজন আসতেই পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে এক সাথে ১৪ এমপির জামায়াত নেতার বাড়িতে আগমনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব বলেন, এতো জায়গা রেখে সরকার দলীয় এমপিরা খাওয়ার আর জায়গা পেলনা। জামায়াত নেতারবাড়িতে খেতে হবে, বিষয়টি লজ্জাজনক। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এমপি বলেন, এমপিদের আগমনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যবস্থাপনায় খাবারের আয়োজন ছিল। এ বিষয়ে তিনিই ভালো জানেন। পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, সংসদ সদস্যদের সফর ও খাবারের বিষয়টি জাতীয় সংসদের ব্যবস্থাপনায় হয়েছে। তাদের আমন্ত্রনেই আমি রুপপুর প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আরআরপি গ্রুপের নিমন্ত্রন পেলেও আমি সেখানে না গিয়ে জরুরী কাজে ঢাকায় চলে এসেছি। সচেতন মহলের অভিমত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলের এতোগুলো সংসদ সদস্যের জামায়াত নেতার বাসায় মধ্যাহ্ন ভোজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-07-27 08:38:10.241824 +0200 CEST