যায়যায়দিন
দেশে ৪৮ বছরে পাওয়া গেছে ৬ লাখ কোটি টাকার গ্যাস

দেশে ৪৮ বছরে পাওয়া গেছে ৬ লাখ কোটি টাকার গ্যাস

দেশের ৫টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার গ্যাস উৎপাদন করেছে সরকার। ৪৮ বছর ধরে উৎপাদনের পরও এ গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে আরও ৩ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার গ্যাস। বুধবার রাতে বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত রশিদপুর গ্যাসফিল্ডে “জ্বালানী নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধুর অবদান” শীর্ষক স্মৃতিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেয় সরকারের মালিকানাধীন জাতীয় তেল কোম্পানি পেট্রো বাংলা। ৫টি গ্যাসক্ষেত্র হল, তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা, রশিদপুর ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র। পেট্রো বাংলা জানায়, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বিদেশী কোম্পানী শেলওয়েলের নিকট থেকে ৪.৫ মিলিয়র পাউন্ড স্টার্লিং মূল্যে এ ৫টি গ্যাস ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন থেকেই গ্যাসক্ষেত্রেগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে রশিদপুরে দৈনিক ৩৭৫০ ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেছিলেন। রশিদপুরে দৈনিক ৩৭৫০ ব্যারেল ও ৪০০ ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট এবং প্রতিদিন ৩০০ ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট স্থাপন করা হয়। কনডেনসেট থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও এলপিজি। বক্তারা বলেন, দেশে উৎপাদিত মোট গ্যাসের অর্ধেকই হবিগঞ্জে। তবে ৪৮ বছরে যদি ৬ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার গ্যাস উৎপাদন হয়ে থাকে তাহলে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি গ্যাস উৎপাদন হল হবিগঞ্জ জেলা থেকেই। সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন হরিপুর, কৈলাশটিলা, রশিদপুর ও বিয়ানীবাজার ফিল্ড থেকে এখন দিনে ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও উপজাত হিসেবে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। পেট্রো বাংলা আরও জানায়, ক্রয়কালীন সময়ে রশিদপুরসহ ৫টি ক্ষেত্রের মধ্যে ২টি গ্যাসক্ষেত্রের ৬টি কূপ থেকে উৎপাদন হতো দৈনিক ৬২.৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া ৫টি গ্যাস ক্ষেত্রের মোট মজুদ ৫.৫৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) ধরা হয়েছিল। সর্বশেষ পুণর্মূল্যায়নে এই ৫টি গ্যাস ক্ষেত্রের মোট গ্যাস মজুদ প্রাক্কলন করা হয় ১৫.৫৮ টিসিএফ। ক্রয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০.২৬ টিসিএফ গ্যাস উৎপাদন হয়েছে এবং এখনও মজুদ রয়েছে ৫.২৩ টিসিএফ গ্যাস। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জনসাধারণের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রধান অতিথি থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি উপস্থিত হননি। পরে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহিরসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার ও স্বাগত বক্তব্য রেখেছেন এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান। হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ, বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন ফাতেমাসহ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমপি আবু জাহির তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলোর ফলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশ আজ সমৃদ্ধ। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত উদ্যোগের বিভিন্ন উদাহরণ টানেন তিনি। আবু জাহির বলেন, ’৯৬ সনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২ হাজার ৬শ’ হাজার মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট করেছিল। এরপর বিএনপির আমলে তারেক রহমানের খাম্বা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে তা কমে ৩ হাজারে নামে। পরে ফের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তা ২৭ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ২০২৩ সালে ৪০ হাজার এবং ৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-10 06:47:44.846816 +0200 CEST