যায়যায়দিন
ডিমের হালি ৬০ টাকা, পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে

ডিমের হালি ৬০ টাকা, পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে

গত দুই মাসে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি সত্ত্বেও বাজারে দাম বেড়েই চলছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এমন অজুহাতে ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা দরে। মূলত সরকার কর্তৃক মুরগির উৎপাদন খরচ নির্ধারণ ও উৎপাদন হ্রাসে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি ও বাজার সিন্ডিকেট রোধসহ সম্প্রতি লোকসানে বন্ধ হওয়া প্রায় ৪০ হাজার লেয়ার ফার্ম উৎপাদনে না ফিরলে সহসা সংকট কাটবে না। পেঁয়াজ : বছরে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। এর পরও বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা হয়। কিন্তু বাজার সিন্ডিকেট ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত পেঁয়াজের বড় একটা অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এই সুযোগ বাজারে সংকট আরও বাড়িয়ে দেয় সিন্ডিকেট। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন করে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত দু’মাসে আমদানি হয়েছে রেকর্ড ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ। এছাড়া আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে নতুন অনুমতি নেওয়া আরও ৮ লাখ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে এবার বাজারে চাহিদার দ্বিগুণ পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারে ভালোমানের প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকার ওপরে। যা দুই দিন আগেও ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ছিল। একইভাবে ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, বাজারে আমদানি পেঁয়াজের চাহিদা কম, অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজে চলছে সরবরাহ সংকট। ফলে দাম বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। মূলত কৃষকের পেঁয়াজ শেষ হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের বাজার এখন পুরাপুরিই মহাজনদের হাতে। গত এক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত চাহিদার মাত্র অর্ধেক পণ্য সরবরাহ করছেন তারা। টিসিবির তথ্য বলছে, গত বছর এই সময়ে যে দামে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে তার চেয়ে প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি দামে এখন বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ের তুলনায় আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দামে। ডিম : এদিকে বাজারে রীতিমতো উত্তাপ বিরাজ করছে ডিমের দামে। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমে দাম বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা এবং সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নতুন উৎপাদন খরচ ও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় ডিমের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারে ডিমে হালি বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা, যা পাড়া-মহল্লায় বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকার ওপরে। ডজন হিসেবে কিনতে গেলে ভোক্তাকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১৭০ টাকার ওপরে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব বলছে, এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম প্রায় ১০ শতাংশ এবং মুরগির দাম বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা অনুমোদন করেছে। তবে ডিমের উৎপাদন দর নির্ধারণ করা হয়নি, ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে খামারিদের সংগঠক সুমন হাওলাদার। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর মো. এমদাদুল হক তালুকদার জানিয়েছেন, ডিমের উৎপাদন খরচ নির্ধারণ নিয়ে সরকার কাজ করছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুমন হাওলাদার বলেন, লোকসানের কারণে গত এক মাসে প্রায় ২০ হাজার ও সম্প্রতি মোট ৪০ হাজার লেয়ারের খামারিরা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। সাময়িকভাবে উৎপাদন কমিয়েছেন আরও অনেকেই। এতে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। যদি এসব খামারিদের ফের উৎপাদনে না আনা যায় তাহলে এই সংকট আরও দীর্ঘ হবে। এছাড়াও উৎপাদন খরচের পাশাপাশি খুচরায় দাম নির্ধারণ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-11 05:44:08.798052 +0200 CEST