যায়যায়দিন
মাহমুদউল্লাহ অধ্যায় কি শেষ?

মাহমুদউল্লাহ অধ্যায় কি শেষ?

জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ এ বছরের মার্চে খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর আর স্কোয়াডেই জায়গা পাননি তিনি। নতুনদের আগমনে তার গুরুত্ব কমেছে অনেকটা। টানা তিন সিরিজে দলের বাইরে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এশিয়া কাপে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেও জুটেছে আবারও হতাশা। ৩৭ বছর বয়সি ব্যাটার ফিটনেস টেস্টে ভালোভাবে উতরে গেলেও ভবিষ্যতের ভাবনায় এশিয়া কাপের স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়নি। এশিয়া কাপের স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই রিয়াদকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এখনই মাহমুদউল্লাহ অধ্যায়ের শেষ দেখছেন না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। অবশ্য রিয়াদকে দলে না রাখার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তার কথায়, ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় না থাকায় রিয়াদকে অফ করা হয়েছে। এমনকি কোচ, অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর শুধু ওয়ানডে ও টি২০ খেলে আসা রিয়াদ শুরুতে কাটা পড়েন টি২০ দল থেকে। এরপর ওয়ানডে দল থেকে বিশ্রাম ও পরে বাদ যান তিনি। আর সে কারণেই রিয়াদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দেয়। এশিয়া কাপে জায়গা হারিয়ে বিশ্বকাপ দলেও রিয়াদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায়। তাহলে কি শেষই হয়ে গেল রিয়াদের ক্যারিয়ার? তেমনটি অবশ্য মনে করছেন না সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। ভেঙে না পরে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সুজনের মতে মাহমুদউল্লাহর সামনে ফেরার সুযোগ আসতেও পারে। কেননা এখনো তিনি বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার। মঙ্গলবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি সুজন বলেন, ‘আমি এটা এখনই বলব না যে, ওর শেষটা দেখছি। এখনো রিয়াদ একজন গুড ফাইটার। আমি মনে করি, দলের কম্বিনেশন বা যে কারণেই বাদ পড়ুক না কেন তাতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। এটা সত্যি কথা রিয়াদের বয়সও হচ্ছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি রিয়াদ যেভাবে লড়াই করে চেষ্টা করে, তাতে শেষ হয়ে গেছে বলাটা ঠিক হবে না। সুযোগ আবার আসতেও পারে।’ গত মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। পরে ইংল্যান্ড সফরের আয়ারল্যান্ড সিরিজ ও ঘরের মাঠে আফগানিস্তান সিরিজেও সুযোগ মেলেনি তার। রানের চেয়েও বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল রিয়াদের স্ট্রাইক রেট। এখনো সেটিই বড় প্রশ্ন। এ কারণে বিশ্বকাপ দলেও তার জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সুজন অবশ্য মনে করছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন রিয়াদ। তার আশা, ফিরলে পারফরম্যান্সের কারণেই ফিরবেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘কেউ খারাপ খেলুক, রিয়াদ ওখানে জায়গা করে নিক আমি এটাও বলছি না। আবার এটাও বলতে পারি না কেউ ইনজুরি আক্রান্ত হোক আর রিয়াদ ওখানে খেলুক। রিয়াদের যদি যোগ্যতা থাকে সে অবশ্যই সুযোগ করে নেবে। তবে আমি এটা বলতে চাই, বিশ্বকাপটাই রিয়াদের শেষ কেন। বিশ্বকাপ তো অক্টোবরে শেষ। এরপর তো অনেক ক্রিকেট আছে। রিয়াদ যদি ইয়ো ইয়ো টেস্টে ১৭.৬ পায়, তাহলে তো ও নিজেকে তৈরি করে আরও এক বছর চেষ্টা করতে পারে। বিসিবির বিভিন্ন মাধ্যমের বক্তব্য থেকে বেরিয়ে এসেছে এশিয়া কাপকে সামনে রেখে ঘোষিত দলটাই হবে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল। আর সেখানে নাও থাকতে পারেন রিয়াদ। বিসিবির কয়েকজন কর্তার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। সুজন আরও বলেন, ‘কোনো একটা বিশ্বকাপ আসুক, সেটা ওয়ানডে বা টি২০, কোনো ক্রিকেটার সুযোগ না পেলে আপনারা বলেন শেষ হয়ে গেল। রিয়াদ তো আর অন্য কিছু করে না, এটাই তার পেশা। আমার মনে হয় ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে। আমার ক্যারিয়ারে আমি দশবার বাদ পড়েছি, দশবার ঢুকে গেছি। এটা ইস্যু বানানোর কিছু নেই। রিয়াদ গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। সুযোগ পায়নি। যে পেয়েছে, সে হয়তো এই মুহূর্তে কাজে লাগবে। ফেয়ার এনাফ, তবে হ্যাঁ, রিয়াদের অভিজ্ঞতা যেটা আমাদের বর্তমান মিডল অর্ডারে কারো কাছে নেই। আমি মনে করি, অভিজ্ঞতা সবসময় বিবেচনা করা হয়।’ এশিয়া কাপ শুরু হবে আগামী ৩০ আগস্ট থেকে। এই টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্বকাপের আগে আর মাত্র একটি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। এশিয়া কাপের স্কোয়াডে না থাকায় এই সিরিজেও রিয়াদকে দলের বাইরে রাখতে পারে বিসিবি। সব মিলিয়ে তার ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমন অবস্থায় রিয়াদকে জাতীয় দলে ফেরার আশা বাদই দিতে হতে পারে। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে আগমন ঘটেছিল রিয়াদের। ওই বছরই টি২০’র জার্সিতে অভিষেক হয় তার, প্রথম টেস্ট খেলেন আরও দু’বছর পর। সেই রিয়াদ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফিনিশারে পরিণত হন। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৩ রান করার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ১২৮ রান। ২১৮ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩ সেঞ্চুরিতে রিয়াদ করেছেন ৪ হাজার ৯৫০ রান। ৫০ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরিতে তার রান সংখ্যা ২ হাজার ৯১৪। ১২১ টি২০-তে তার রান ২ হাজার ১২১। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-16 05:15:17.689014 +0200 CEST