যায়যায়দিন
বইছে তাপপ্রবাহ, হতে পারে লঘু-নিম্নচাপ

বইছে তাপপ্রবাহ, হতে পারে লঘু-নিম্নচাপ

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে এবং একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাতটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তিনটি, সাগর মোহনায় দুটি, দৌলতখানের মেঘনায় একটি এবং সদর উপজেলার তুলাতলি মেঘনা নদীর মাঝের চর সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রলারডুবি ঘটে। এসব ঘটনায় ৬৭ জন জেলেকে উদ্ধার করা হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ছয় জেলে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মনপুরা থানার ওসি জহিরুল ইসলাম কামরুল ও ইলিশা নৌ-থানার পরিদর্শক মো. আখতারুজ্জামান। এদিকে চলতি আগস্ট মাসে দেশের ওপর দিয়ে ফের বয়ে যেতে পারে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ। সাগরে সৃষ্টি হতে পারে লঘুচাপ ও নিম্নচাপ। এ ছাড়া অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য এলাকার হতে পারে বন্যা। মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘আগস্ট মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে’ এমনই আশঙ্কার তথ্য জানানো হয়েছে। ভোলার মনপুরা থানার ওসি জহিরুল ইসলাম কামরুল জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মধ্যে মনপুরার মাছ ব্যবসায়ীদের মাছ ধরার পাঁচটি ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে একটি হাজির হাট এলাকার মাইনুদ্দিন মাঝির, একটি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ মাঝির, একটি উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের জসিম মাঝির, একটি দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ইউনুস বলির এবং অন্যটি এক নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের। এর মধ্যে তিনটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবেছে, দুটি ডুবেছে সাগরের মোহনায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাইনুদ্দিন মাঝির ট্রলারের ২২ জেলে, হাফেজ মাঝির আট জেলে, জসিম মাঝির আট জেলে, ইউনুস বলির ১০ জেলে উদ্ধার হলেও ট্রলারগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এ ছাড়া আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের ট্রলারের ১০ জেলের মধ্যে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চারজনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ ছয় জেলে। নিখোঁজ জেলেদের সাগরে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. কামরুল ইসলাম। অন্যদিকে, চলতি বছর মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা’র কারণে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পোড়ে দেশের জনজীবন। রেকর্ড ভেঙে দেশের তাপমাত্রার পারদ ওঠে প্রায় ৪৪ ডিগ্রিতে। এরপর বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসার পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমাও অতিক্রম করে। তবে এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়নি। তবে বৃষ্টির এই ধারাবাহিতায় ছেদ ঘটে জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। অল্পবিস্তর বৃষ্টিও ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। দেশে গড়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় জুলাই মাসে। এর পরিমাণ ৫২৩ মিলিমিটার। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া সেই মাসেই স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫১ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে গত বছরের এই সময়ের চেয়ে তা বেশি। এ মাসে গড় তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। আর চলতি আগস্ট মাসে লঘুচাপ, নিম্নচাপ, তাপপ্রবাহ, বন্যা সবই হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এ সময় এক থেকে দুটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তা মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসেও মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য এলাকার কিছু স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সিলেট বাদ দিয়ে দেশের বাকি সাত বিভাগে জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে প্রায় ৬৬ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এরপর আছে বরিশাল বিভাগ। সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৮ শতাংশ কম বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেটে প্রায় স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে অবশ্য স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে এটাকে স্বাভাবিক হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ঢাকা বিভাগে ৪৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছর জুলাই মাসে ৫৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। এটি ছিল একটি রেকর্ড। সেই তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বেশি।’ স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি ছিল জুলাই মাসে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ এবং ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আর দেশের গড় তাপমাত্রা বেশি ছিল ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ মাসে ১০, ১৮ থেকে ১৯, ২২ থেকে ২৫ এবং ৩০ থেকে ৩১ জুলাই বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু থেকে মাঝারি আকারের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-02 09:50:15.037697 +0200 CEST