যায়যায়দিন
নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে অর্ধেকই হিসাব বিবরণী জমা দেয়নি ইসিতে

নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে অর্ধেকই হিসাব বিবরণী জমা দেয়নি ইসিতে

এবারও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক অডিট রিপোর্ট বা আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যদিও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো এক যুগের বেশি সময় ধরে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়ে আসছে। দলগুলো ইসিতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে শুধু আয়, ব্যয় ও স্থিতির সংখ্যাটুকু জানিয়ে দেয়। তবে দলীয় ওয়েবসাইট কিংবা ইসির ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয় না। অথচ তা প্রকাশ না হওয়ায় জনগণের জানার সুযোগ ঘটছে না। এদিকে, দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন মেনে তারা জমা দিচ্ছে, প্রকাশ করা বা না করার এখতিয়ার ইসির। অন্যদিকে, ইসির ভাষ্য, তারা এই হিসাব প্রকাশের জন্য নিচ্ছে না। দলগুলোর জমা-খরচের এই হিসাব প্রকাশ না হলে তা নেওয়াটাই অর্থহীন বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর থেকে প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করে দলগুলোর আর্থিক আয়-ব্যয় বিবরণী জমা নেয় ইসি। নির্বাচন কমিশনের কাছে দলগুলো প্রতিবেদন জমা দিয়ে শুধু আয়-ব্যয় ও স্থিতির সংখ্যাটুকু জানিয়ে দেয় গণমাধ্যমে। দলীয় ওয়েবসাইট বা ইসির ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয় না। এ বছর ২০২২ সালের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল জুলাই মাস। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জেপিসহ নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে অর্ধেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। তিনি বলেন, অন্তত ২০টি দল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে, বাকিরা সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। কোনোটি এক মাস, দেড়-দুই মাস সময়ও চেয়েছে। দলগুলোর আবেদন বিবেচনা করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়ার পক্ষে কমিশনে ফাইল উপস্থাপন করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রতিবেদন দিতে সময় বাড়বে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব। টানা তিন বছর অডিট রিপোর্ট জমা না দিলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির। ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর সব দলই তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়ে এসেছে। তাই চলতি বছর এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে এখনো কোনো দল নেই। প্রধান তিন দলের আয়-ব্যয় : এদিকে, ২০২২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১০ কোটি ৭১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৮ টাকা আয় দেখিয়েছে। আর ব্যয় দেখিয়েছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৯ টাকা। তাতে উদ্বৃত্ত থেকেছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার ১৮৯ টাকা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইসি সচিবের কাছে আর্থিক আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দিয়ে জানান, ২০২২ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ৫ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬৩২ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮২৯ টাকা। জাতীয় পার্টির (জাপা) অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বার্ষিক আর্থিক হিসাব জমা দেয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালে তাদের আয় হয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ টাকা। ব্যয় হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪২ টাকা। ব্যাংকে স্থিতি আছে এক কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ টাকা। এর আগে, ২০১৬ সালে ছয় নাগরিকের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে ‘বাধা নেই’ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, যে কোনো ব্যক্তি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন দলের সম্মতি ছাড়াই তা প্রকাশ করতে পারবে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-20 05:24:14.886814 +0200 CEST