যায়যায়দিন
৭ এজেন্ডা নিয়ে কাল নির্বাচন কমিশনের বৈঠক

৭ এজেন্ডা নিয়ে কাল নির্বাচন কমিশনের বৈঠক

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার মাস। এই চার মাসেই কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশনকে সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সব ধরনের কর্মযজ্ঞ শেষ করতে হবে। এ লক্ষ্যে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে ভোট গ্রহণ নীতিমালাসহ সাতটি এজেন্ডা নিয়ে কমিশন সভা করতে যাচ্ছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের ওই সভায় প্রায় সব আলোচ্য বিষয় হবে সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক। তবে এর মধ্যে একটি আলোচ্য বিষয় সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের ‘পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার’ সংক্রান্ত। এ অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে- তাহলে কি আরও সুযোগ-সুবিধা চাচ্ছে আউয়াল কমিশন? কিন্তু এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে গত ৩১ জুলাই প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। যদিও বৈঠকের পর সিইসি বলেন, তার অফিস (নির্বাচন কমিশন সচিবালয়) পরবর্তীতে সাক্ষাৎ বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানাবেন। কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে আর কিছু জানায়নি ইসি। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিইসি জানিয়েছিলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই ইসির প্রতিনিধি দল সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন। নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের বিশেষ আইনে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছিল। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সিইসির গত ৩১ জুলাই যে সাক্ষাৎ হয়েছিল, সেখানেও এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। কারণ, প্রধান বিচারপতি ও সিইসিসহ কমিশনাররা বিশেষ আইনে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ কর্মকর্তা আরও জানান, সোমবার কমিশন সভায়ও সিইসিসহ কমিশনারদের ‘পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার আইন-২০২৩’ নিয়ে আলোচনা করা হবে। এটা আলোচ্য বিষয়ের প্রথমেই আছে। যেহেতু কমিশন সভায় এটি নিয়ে আলোচনা হবে, সেহেতু বলাই যায় নিজেদের ক্ষমতা বা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে কিছু একটা করতে চাচ্ছে বর্তমান কমিশন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের বিষয়ে নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করছি। এটা আগামী কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে তা প্রজ্ঞাপন করে মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়ে দেব। তিনি জানান, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের পরই ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও তা চূড়ান্ত হবে। কাজগুলো আগে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে, ডেটাবেজ করে রাখলে তা সুবিধা হবে। এছাড়া প্যানেল প্রস্তুত নির্দেশিকা ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ বর্ষপঞ্জির খসড়াও কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা একজন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দু’জন এবং ভোটকক্ষ প্রতি ২ জন পোলিং অফিসার মিলিয়ে কেন্দ্রপ্রতি অন্তত ৮ থেকে ১০ জন পোলিং অফিসার প্রয়োজন হয়। এবার জাতীয় নির্বাচনে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার লোকবল প্রস্তুত রাখতে হয়। সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষাধিক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের বিষয় রয়েছে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগে যতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকের প্রয়োজন হবে তার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি লোকবল বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত করতে হয়। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনেও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) নিয়োগের প্যানেল প্রস্তুত ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অফিস/প্রতিষ্ঠান থেকে জরুরি ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা সংগ্রহ করার জন্য ইসি সচিবালয় অক্টোবরের দিকে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠায়। প্যানেলভুক্ত করার জন্য নীতিমালা মেনে নির্ধারিত ছকে তফসিল ঘোষণার আগেই ইসি সচিবালয় ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পাঠাতে বলা হয়ে থাকে। এদিকে, সোমবার কমিশন সভায় আলোচনায় যে ৭ বিষয় থাকতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে- ১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২৩। ২. নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ এর সংশোধন। ৩. স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন ২০১০ এর সংশোধন। ৪. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্যানেল প্রস্তুতের নির্দেশিকা। ৫. নির্বাচনকালীন অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের জন্য আপ্যায়ন বাবদ অর্থ প্রদান সংক্রান্ত গাইডলাইন। ৬. নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ২০২৩-২৪ সালের প্রশিক্ষণ বর্ষপঞ্জির খসড়া চূড়ান্তকরণ। ৭. বিবিধ। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-20 05:40:04.699263 +0200 CEST