যায়যায়দিন
২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা : চলতি বছরই রায়ের প্রত্যাশা

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা : চলতি বছরই রায়ের প্রত্যাশা

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ইতিহাসের নারকীয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু হলেও পেপারবুক পড়া এখনো শেষ হয়নি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় এই মামলার রায়ও কার্যকর করা যাচ্ছে না। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, অক্টোবর মাসের মধ্যে এই মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়ে রায়ের জন্য প্রস্তুত হবে। এর মাধ্যমে চলতি বছরই হাইকোর্ট থেকে রায় ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন তারা। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিভীষিকার ২৯ বছর পর বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালত ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। এ ছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলার রায়সহ প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পাতার নথি ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়। পরে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাড়ে ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এদিকে, আসামিদের মধ্যে ২২ জন খালাস চেয়ে আপিল করেন। অন্যদিকে ১২ জন আসামির জেল আপিল দায়ের করেন। এর চার বছর পর ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল, জেল আপিল শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। এর আগে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর বহুল আলোচিত এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল, জেল আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন ওই সময় প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এ ছাড়া ওই বছরের আগস্ট মাসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল, জেল আপিল দ্রুত শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই মামলার পেপারবুক পড়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি অসুস্থ থাকায় আপাতত বেঞ্চ বসছেন না। আশা করি, সুস্থ হলেই তিনি বেঞ্চে বসবেন। বেঞ্চ বসলেই আমরা শুনানি শেষ করব। শুনানি শুরু হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন। পরে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব। শুনানি শেষ করতে আমাদের ১০-১২ কার্যদিবস লাগবে। এর বেশি লাগবে না।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, বিচারিক আদালতের রায় যেন বহাল থাকে। কারণ, আমরা বিচারিক আদালতের পুরো রায় পড়েছি। বিচারক যুক্তি তুলে ধরে, আইনকে বিশ্লেষণ করে সুন্দর রায় দিয়েছেন। এই রায়টা বহাল রাখার জন্য আমরা আবেদন করব। তারেক রহমানসহ সব আসামির রায় বহাল রাখার আর্জি জানাব।’ তবে হাইকোর্টে আইনি যুক্তিতর্ক তুলে ধরে আসামিদের খালাস চাইবেন জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির সংবাদমাধ্যম্যকে বলেন, ‘এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক পড়া এখনো শেষ হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক পড়া শেষ হলে আমরা আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করব। আমরা আদালতের কাছে দুটি প্রার্থনা করব। এক নম্বর হচ্ছে- এই মামলায় ভিকটিম পক্ষ এবং আসামিপক্ষ কেউই বিচার পায়নি তদন্তের দুর্বলতার কারণে। দ্বিতীয় কথা বলব, মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে এর কোনো নজির নেই। এ কারণে মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রদত্ত যে সাজা এটি আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এই যুক্তি উপস্থাপন করে আমরা সাজা থেকে আসামিদের খালাস চাইব।’ যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-21 05:32:26.008451 +0200 CEST