যায়যায়দিন
কিছু বড় দেশ বাংলাদেশে তাঁবেদার সরকার চায় : প্রধানমন্ত্রী

কিছু বড় দেশ বাংলাদেশে তাঁবেদার সরকার চায় : প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেক দেশ চায়, এদেশে এমন সরকার আসুক যারা তাদের পদলেহন করবে।’ বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থার কারণে অনেক দেশ চায়, এদেশে এমন সরকার আসুক যারা তাদের পদলেহন করবে। ইউক্রেনের অবস্থা দেখেন। সেখানে নারী ও শিশুদের কী অবস্থা?’ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নানা বক্তব্য দেওয়া পশ্চিমা বিভিন্ন দেশকে বিএনপির ‘প্রভু’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের আবার কিছু প্রভু আছে, তারা আবার একই সঙ্গে সুর মেলায়। বাংলাদেশে এখন নাকি একেবারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতেই হবে। আমার প্রশ্ন সেইসব লোকের কাছে বা সেই সব দেশের কাছে যারা এখন শুধু গণতন্ত্র খুঁজে বেড়ায় বাংলাদেশে, যখন জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল করেছিল বা যখন এরশাদ মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল করেছিল, আমরা যখন আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, কই তাদের তো সেই চেতনা দেখি নাই। তখন তো তাদের কথা শুনিনি।’ জিয়াউর রহমান ও এরশাদের আমলের নির্বাচনের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের তিনটা আর বিএনপির চারটা নির্বাচন। অর্থাৎ হ্যাঁ না ভোট, ’৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ’৭৯ সালে দিল সংসদ নির্বাচন আবার ’৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পর তখনো বিএনপি ক্ষমতায়, ছাত্তার সাহেবকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এইসব নির্বাচনে কীভাবে ভোট কারচুপি করে সেটা তো আমরা দেখেছি। আজকে যারা বাংলাদেশে টর্চলাইট দিয়ে নির্বাচন খুঁজছেন, তাদের দৃষ্টিশক্তি কোথায় ছিল?’ তিনি বলেন, ‘৮৬ সালে আমরা নির্বাচনে গেলাম। ৪৮ ঘণ্টা পর রেজাল্ট দিল। তখন তো তাদের সোচ্চার দেখিনি। বরং মিলিটারি ডিক্টেটরদের কেন আমরা সমর্থন দেই না, সেই কথাই তারা আমাদের বলেছে। আমরা কেন সমর্থন দেব? আইয়ুব খান থেকে জিয়া, এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমার অবাক লাগে যখন বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনি। যাদের জন্মই হয়েছে হত্যা-ক্যু-যড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে, যাদের সৃষ্টিই হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত থেকে, যাদের যাত্রা শুরু হয়েছে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে, কারচুপির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে; তাদের মুখে আর যাই হোক গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।’ তিনি বলেন, ‘আজকে শুনতে হয় আমাদের হাতে নাকি গণতন্ত্র সুরক্ষিত নয়। গণতন্ত্র সুরক্ষিত মিলিটারি ডিকটেটর, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী আর যারা চুরি ডাকাতি করে মানিলন্ডারিং করে, যাদের আন্দোলনের মাধ্যমে বিতাড়িত করেছি, নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত করেছি। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের। যারা শ্রমিকের অর্থ আত্মসাৎ করে, যারা কৃষকের ভাগ্য কেড়ে নেয় গুলি করে হত্যা করে, শ্রমিক হত্যা করে, যারা এদেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি তারাই গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়ে গেছে’। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের হত্যাযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় ইতিহাসের নানা ঘটনাপ্রবাহও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার-সদস্যদের হত্যা করে। বিমান বাহিনীর শত শত অফিসারদের হত্যা করেছে। হত্যা করে লাশ কারও কাছে দেয়নি, গুম করে ফেলেছিল জিয়াউর রহমান। এখনো তাদের পরিবার তার লাশ খুঁজে ফেরে কোথায় তাদের কবর। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যেভাবে জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে সেও কিন্তু খুন হয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার (জিয়া) লাশের কিন্তু কোনো খবর নাই। সংসদ ভবনে যে কবর দেওয়া হয়েছে, সেখানে জিয়ার কোনো লাশ নেই। জেনারেল এরশাদ সেই কথা কিন্তু বলে গেছে। সে বলেছে, জিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি। জিয়ার লাশ খালেদা বা তারেক বা কোকো বা পরিবার পরিজন কেউ দেখে নাই। তাহলে লাশ গেল কোথায়?’ তিনি বলেন, ‘এরশাদ ধূর্ত লোক ছিল বলে একটি বাক্স এনে লোক দেখানোর জন্য সংসদ ভবনে একটি অবৈধ স্থাপনায় কবর দিয়েছে। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মী ফুল দেয়। কিন্তু কাকে ফুল দিচ্ছে সেটা কি তারা জানে? জানে না।’ জিয়া জড়িত না থাকলে খোন্দকার মোশতাক কখনো এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারতেন না দাবি করে তিনি বলেন, ‘জিয়া যে জড়িত, তা প্রমাণিত সত্য। সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে একাধারে সেনাপ্রধান আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। আর ‘হ্যাঁ-না’ ভোট অর্থাৎ ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা জিয়াই শুরু করেছিল। অবৈধভাবে যে ক্ষমতায় দখল করেছিল, সেটির বৈধতা দেওয়ার জন্য জিয়াউর রহমান ভোট কারচুপির মাধ্যমে... ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে কিছু লোক এনে এবং চাপ সৃষ্টি করে কিছু লোক এনে অবৈধভাবে দল গঠন করে। বিএনপি একটি অবৈধ দল।’ ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনির্বাচিত এফবিসিসিআই সভাপতির সাক্ষাৎ এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নতুন সভাপতি মাহবুবুল আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। বৈঠকে দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় ২০২৩-২৫ মেয়াদে এফবিসিসিআইর সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ায় মাহবুবুল আলমকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে এফবিসিসিআইর প্রতি সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এসময় বিগত ১৪ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধিসহ সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এফবিসিসিআইর সব উন্নয়নমুখী কার্যক্রমে সব সময় পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান নতুন সভাপতি। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-31 05:40:20.090181 +0200 CEST