যায়যায়দিন
ওসমানীনগরে ভয়ে স্কুলে আসছে না শিক্ষার্থীরা

ওসমানীনগরে ভয়ে স্কুলে আসছে না শিক্ষার্থীরা

বিদ্যালয়ের সীমানা নিয়ে সংঘর্ষের পর ওসমানীনগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে। প্রধান শিক্ষক নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিলেও ভরসা পাচ্ছেন না অভিভাবকরা। বরং ভয় ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা দখল করে একটি ডাস্টবিন নির্মাণ করে প্রতিবেশী মতিউর রহমান গংরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করলে মতিউররা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এরপ্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে ক্লাস চলাকালিন সময়ে মতিউর গংরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করে যে যার মতো বাড়ি পৌঁছায়। সংর্ঘষের সময় তড়িঘড়ি করে প্রধান শিক্ষক স্কুল ছুটি দিলে বিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আটকা পড়েন দুই শিক্ষিকা। ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন। ওইদিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মতিউর রহমানের ঘরের পাশ থেকে দেশীয় পাইপ গান, গুলি, রামদা, লোহার পাইপ ও চাপাতি উদ্ধার ও সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করে। কিন্তু ঘটনার মূলহোতা মতিউর ধরা না পড়ায় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেন অভিভাবকরা। গতকাল দুপুরে হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পিনপতন নিরবতা লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয়ের অফিসে বসে থাকা শিক্ষকদের চোখ-মুখে অজানা আতঙ্ক। শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছে ১জন মাত্র শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্লাস চলাকালিন সময়ে বিদ্যালয়ের ভিতরে হামলার ঘটনায় ভয়ে বাচ্চারা স্কুলে আসছে না। অভিভাবকরা বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠাবেন কি-না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রামের ৪৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় বাচ্চাদের সারাক্ষণ নিজেদের কাছেই রাখছেন মায়েরা। বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে আসা ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামিম মিয়া জানায়, স্কুলে মারামারি হওয়ার পর থেকে গত কদিন সে একাই ক্লাস করছে। স্যার বলেছেন-স্কুলে আসলে কিছু হবে না, তবুও ফাঁকা স্কুলে তার ভয় লাগে। গ্রামের সারওয়ার জাহান, 'আজিজুর রহমান বলেন, স্কুলের জায়গা দখলের বিষয়টি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে লিখিতভাবে জানানোর কারণে দখলদার পক্ষ স্কুলের মধ্যে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কজন আহত হন। এ ঘটনায় আতঙ্কে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এদিকে দখলদার পক্ষ আমাদের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও পঞ্চায়েতের ২৬ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। স্কুলের জায়গা দখলের প্রতিবাদ করায় আজ আমরা আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।' হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুর রহমান শিবলু বলেন, 'বিদ্যালয়ের পাশে মতিউরের বাড়ি থাকায় আবারও যদি সে হামলা চালায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সে ভয় বিরাজ করছে।' হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালেহ আহমদ বলেন, 'করোনার পর আমাদের বিদ্যালয়ে এমনিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গড় উপস্থিতি ৮০/৮৫ ভাগ। কিন্তু জায়গা নিয়ে সংঘর্ষের পর বাচ্চারা বিদ্যালয়ে আসছে না। সে বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অভিভাবকদের অভয় দিয়ে বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে প্রশাসন থেকে আমায় বলা হয়েছে। কিন্তু আমার আশ্বাসেও অভিভাবকরা ভরসা পাচ্ছেন না। গ্রামের সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।' ওসমানীনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপময় দাশ চৌধুরী বলেন, 'সংঘর্ষের পর থেকে হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনক ভাবে কমে গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভয় দূর করে বিদ্যালয়মুখি করতে আমরা চেষ্টা করছি।' উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা জানান, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি এলাকার সবাইকে নিয়ে সমাধান করা হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনারা ভয় না পেয়ে বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠান। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।' যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-08 09:59:34.550572 +0200 CEST