যায়যায়দিন
বিভিন্ন স্থানে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

বিভিন্ন স্থানে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রায় এক সপ্তাহের টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি বাড়ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। জেলার বেশির ভাগ এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে থইথই করছে পানি। জেলার নিম্নাঞ্চলের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা দু’টি সারা দেশের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় আজ ও আগামীকাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩ হাজার ৪৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অঞ্চলের প্রধান নদ-নদী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, সারিগোয়াইন, ঝালুখালি, ভোগাই-কংশ, সোমেশ্বরী, যাদুকাটার সমতলের পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও দুই দিন প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ দুই জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি ও ভূমিধস মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে উদ্ধার তৎপরতা, জরুরি ত্রাণকার্য পরিচালনা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করবেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, অতি বৃষ্টিতে বন্যা এবং জলাবদ্ধতার কারণে বুধবার (৯ আগস্ট) ও বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিতে ভাসছে বান্দরবান। জেলা সদর, রুমা, আলীকদমসহ বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানিতে চৈক্ষ্যং ইউপি পরিষদ এলাকায় প্লাবিত হয়েছে সড়ক। সব মিলিয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে পার্বত্য জেলাটি। সোমবার পাহাড় ধসে বান্দরবান সদরে একই পরিবারের মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। তারা পৌরসভার কালাঘাটা গোধার পাড় এলাকার বাশি শীলের স্ত্রী ও মেয়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলার প্রধান দু’টি পাহাড়ি নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরির ন্যাব্য কমে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। শুধু বান্দরবান নয়, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বন্যার কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও খাবার পানির সংকট। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ও পানিতে তলিয়ে থাকায় চলাচলের কোনো উপায় নেই। এতে এসব গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একই সঙ্গে মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টসহ উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার কেরানিহাট থেকে চন্দনাইশের হাশিমপুর পর্যন্ত সড়ক ডুবে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার রাত থেকে চন্দনাইশ কলেজ গেট এলাকা থেকে কেরানিহাট অংশে সড়কের ওপর পানি বাড়তে শুরু করে। রাতেই মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। সোমবার রাত ৩টার পর থেকে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সড়কের সাতকানিয়া কেরানিহাট অংশে গোলচত্বরে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কেও এই মোড় দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের ওসি খান মো. ইরফান বলেন, ‘চন্দনাইশ বাগিচারহাট থেকে দেওয়ানহাট জসিম কনভেনশন পর্যন্ত এবং নয়াখালের মুখ থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত অংশে পানি উঠে গেছে। এতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে’ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ঈদগাঁও নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সামুদ্রিক জোয়ারের ঢেউতে মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা পয়েন্ট, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মেরিন ড্রাইভের কিছু অংশে জিওব্যাগে বালির বাঁধ তৈরি করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও নতুন করে আরও কয়েকটি স্পটে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের সড়কের ওপর দিয়ে পানি চলাচল করছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘জেলায় পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ভারী বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে পাহাড়ের পাদদেশ। যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষণের কারণে ঝিরি-ছড়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে পানি প্রবাহ। এরপরও বাঁশখালী বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে তিন হাজারও বেশি পরিবার। উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে এই বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বললেও তাতে বিন্দুমাত্র সায় দিচ্ছে না তারা। বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের নাটমুড়া, সিন্নিরছড়া, সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও, বানীগ্রাম, লটমনি, জঙ্গল সাধনপুর, কালীপুর ইউনিয়নের জঙ্গল গুনাগরি, জঙ্গল কোকদণ্ডি, পালেগ্রাম, জঙ্গল কালীপুর, বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ি, পূর্ব চেচুরিয়া, সরল ইউনিয়নের জঙ্গল পাইরাং, পৌরসভার পূর্ব জলদি, জঙ্গল জলদি, শিলকূপ ইউনিয়নের বামেরছড়া, ডানেরছড়া, ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকা, চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বল, দুইল্লাঝিরি, জঙ্গল চাম্বল, শেখেরখিল ইউনিয়নের জঙ্গল নাপোড়া, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ভিলেজের পাড়া, জঙ্গল পুঁইছড়ি ও পূর্ব পুঁইছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় ৫০টিরও বেশি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলসহ পাইকগাছাার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ৭ দিনের হালকা ও ভারী বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তবে বৃষ্টিপাতে আমন আবাদে চাষিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবেশ-প্রকৃতি ও কৃষির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন সবাই। তাই নতুন করে আমন চাষে শুরু করেছে কৃষকরা। তারা আমন চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে। আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, দোকানপাট, হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে বীজতলা ও শাকসবজি ক্ষেত। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক। যান চলাচল বন্ধ। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলাবাসী। দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি জানান, প্রবল বর্ষণের কারণে নদীর পানির প্রবল স্রোতে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের জাতমলী বেইলি সেতুর একপাশের মাটি সরে গিয়ে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই যান চলাচল বন্ধ হলে বেইলি সেতুর দু’পাশে ছোট-বড় যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের মানুষ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘনশ্যাম ত্রিপুরা মানিক বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে প্রবল স্রোতে জামতলী বেইলি সেতুর একপাশের ভরাটকৃত মাটি সরে গিয়ে সেতুটি যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় যানচলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করা হচ্ছে।’ কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, লাগাতার বৃষ্টির প্রভাবে কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। টানা বৃষ্টিপাতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। লালুয়া এলাকায় বাসিন্দা জব্বার খান বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকায় মানুষ খুব কষ্টে আছে। আমাদের এলাকার অধিকাংশ মাটির রাস্তায় হওয়া হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয়েছে। সে কারণে উপকূলের মানুষ দুর্ভোগ আছে। এছাড়া বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে আছি। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে প্রায় তিন থেকে চার ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টে জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কিছু এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। নানিয়ারচর (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বগাছড়িতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জানান, পাহাড় ধসের ফলে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া নূরীয়া জানান, উপজেলা প্রশাসনসহ আমাদের জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও মনিটর করছেন। আমিও সুবিধা-অসুবিধা জানার চেষ্টা করছি। ঝড় বা পাহাড়ি ঢলের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার কড়া নির্দেশ রয়েছে। চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর জেলায় গত এক সপ্তাহ বৃষ্টিপাত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নদ-নদী ও খাল বিলের পানি। অতি বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ মুহাম্মদ শোয়েব জানান, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। গত সাত দিন ধরে বৃষ্টিপাত চলমান রয়েছে। সোমমবার ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তাপমাত্রা ২৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, মেঘনা নদীর চাঁদপুর অংশে সকাল সাড়ে ৯টায় পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। আর সর্বনিম্ন ছিল ২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। এখনো বিপৎসীমা থেকে ২০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। পানির বিপজ্জনক উচ্চতা হচ্ছে ৪ দশমিক শূন্য মিটার। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-08-09 06:07:37.976367 +0200 CEST