যায়যায়দিন
বহুমুখী জটিলতায় ব্যাহত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

বহুমুখী জটিলতায় ব্যাহত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

কয়েক বছর ধরেই দেশে কমছে বিদেশি বিনিয়োগ। জ্বালানি সংকট, জমি সংক্রান্ত জটিলতা, ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিটসহ শুল্ক জটিলতা এর প্রধান কারণ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া গ্যাস সংকটে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় বিনিয়োগও। এ অবস্থার মধ্যেই আগামীকাল বুধবার শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম। মূলত কমনওয়েলথের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে এই আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও এসব সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি ঢাকার চীনা দূতাবাস এবং বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরেন চীনা দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সং ইয়াং এবং চায়না এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সিইএবি) সভাপতি কে চাংলিয়াং। তারা বলেন, বাংলাদেশে জমি কেনা বা ইজারা দেওয়ার সময় বিদেশি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি জটিলতায় পড়েন। এছাড়া স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বলছেন, জ্বালানি সংকট তাদের বিনিয়োগে অনাগ্রহী করে তুলেছে। এ বিষয়ে আকিজ গ্রুপের পরিচালক আমিন উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ১৩ বছর আগে টাঙ্গাইলে আকিজ সিএনজি প্ল্যান্ট স্থাপনের পর তিতাস গ্যাসের কাছে সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদনের ১০ বছরেও তিতাস সংযোগ দিতে পারেনি।’ তিনি জানান, আকিজ গ্রুপ তিতাসের কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংক গ্যারান্টি দুইবার বাড়িয়েছে এবং চারবার সিকিউরিটি ডিপোজিট সংশোধন করেছে। এমনকি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তাদের কাছে সাহায্য চেয়েও গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেও গ্যাস না পাওয়ায় কারখানাটি উৎপাদনে যেতে পারেনি। আকিজের মতো ছোট-বড় অনেক স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা জ্বালানি সংকটে বিনিয়োগ করতে পারছে না। বিদেশি বিনিয়োগে জমির ইজারা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, ‘বাংলাদেশে ভূমি আইন খুবই জটিল। ভূমি মন্ত্রণালয় সেগুলো নিয়ে কাজ করছে। আপাতত এর কোনো সমাধান আমাদের কাছে নেই’। তবে উদ্যোক্তাদের বেজার ইকোনমিক জোন এবং বেপজার এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন, বিসিকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বা হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে জমি কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী স্বাগত কুমার সাহা বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে সংযোগ দেওয়া হবে।’ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ বাংলাদেশে এক বছরের ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। এ বিষয়ে বিডার কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য নথিগুলো ম্যানুয়ালি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তা ম্যানুয়ালি পাঠানো হয় পুলিশের বিশেষ শাখায়। তবে ডিজিটাল ফাইল ট্রান্সফারাল চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। শিগগিইি এটা চালু করা হবে। তখন সময় অনেক কম লাগবে। এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জানি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করার পর উদ্যোক্তাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া, জমি কেনা, কর ও শুল্কসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন। সেসব সমস্যা সমাধানের জন্য আফটার কেয়ার সার্ভিস চালু করেছি। আমরা ইতোমধ্যেই আফটার কেয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিএসআরএম এবং লাফার্জ সিমেন্টসহ বিভিন্ন কোম্পানির অনেক সমস্যার সমাধান করেছি।’ বিডার কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো একটি দেশে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক ও স্থিতিশীলতা, ট্যাক্স অব্যাহতি সুবিধা ও অন্যান্য ইস্যু, যার সবকিছু বাংলাদেশে রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগের ৭০.৪২ শতাংশ রিইনভেস্টমেন্ট। অর্থাৎ এখানে যেসব বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন তারা মুনাফা করায় আবার বিনিয়োগ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে যা কমে ৪৫০ কোটি ডলারে নেমেছে। এছাড়াও কমেছে নিট বিনিয়োগের পরিমাণও। যাযাদি/এস
Published on: 2023-09-12 06:13:57.295127 +0200 CEST