যায়যায়দিন
গাজীপুরে বন্ধুর পায়ের রগ কেটে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

গাজীপুরে বন্ধুর পায়ের রগ কেটে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌসকে (২৭) সহপাঠি ছাত্রলীগের কথিত নেতা রবিন সরদারসহ তার অনুসারীরা তুলে নিয়ে যায়। মুক্তিপনের জন্য দুই লাখ টাকাও দাবি করেন। টাকা না পেয়ে মারধোর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের দুটি রগ কেটে মারাত্নক জখম করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার বিকালে। ঘটনার পর সোমবার দুপুরে রবিন সরদার তার ফেইসবুক থেকে আহত বন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। ওই ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থী ফেরদৌসের মা নাজমা বেগম বাদি হয়ে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় অপহরন ও মারধরের অভিযোগ একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত হলেন, গাজীপুর মহানগরীর বিলাশপুর এলাকার শহিন মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম ওরফে সজিব (২৩)। আহত ওই শিক্ষার্থী হলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভেঙ্গুরদী গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মো. ফেরদৌস। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। কলেজ শিক্ষার্থী, পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শরিয়তপুরের গোসাইর মোল্লাকান্দি গ্রামের রবিন সরদার বর্তমানে জয়দেবপুর শহর এলাকায় বসবাস করে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে লেখাপড়া করেন। রবিন সরদার এবং ফেরদৌস এক সঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির করনে। তবে তাদের কোনো দলীয় পদ নেই। কলেজের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কোন্দলের সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে গত রোববার দুপুরে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কালেজের সামনে ফেরদৌস অন্য বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। এমন সময় রবিন সরদারের নেতৃত্বে একটি গাড়ি ও কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে কলেজের শিক্ষার্থীরা রোববার বিকালে কলেজের সামনে বিক্ষোভ করে এবং ফেরদৌসকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ ছাত্রদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে কলেজ শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে ফোন করে তার মুক্তিপন হিসাবে দুই লাখ টাকা দাবি করে। পরে তিনি বিষয়টি বাসন থানা পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জয়দেবপুর শিববাড়ি মোড় এলাকা থেকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুর শহর এলাকা থেকে আশরাফুল ইসলাম সবিজ নামের এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত কলেজ শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস জানান, ভাওয়াল কলেজে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ায় রবিন সদর আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায়। চাকু দিয়ে আমার পায়ের দুইটি রগ কেটে দিয়েছে। আমার মোবাইল ও ফেইসবুক সবকিছুর পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয়। পরে আমার ফেইসবুক থেকে পোস্ট করে, ‘ বন্ধু জীবনে অনেক বেঈমানি করছি, অনেক স্বার্থপরতামী করছি অমারে মাফ কইরা দিয়ো। আগের মতো বন্ধু হইয়া থাকমু সারাজীবন। আর ভুল করমুনা কোনো সময়। তুমিই আমাদের মধ্যে একমাত্র নেতা হওয়ার যোগ্য এটা মেনে মনে জানি কিন্তু প্রতিহিংসার কারণে মানতে পারতাম না, ক্ষমা কইরা দিয়ো। এপর আজকে (সোমবার) দুপুর রবিন সরদার তার ফেইসবুক পোস্ট দিয়ে আমাকে জন্ম দিনের শুভচ্ছা জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, রবিন সরদার সন্ত্রাসী কাযকলাম করায় আমি তার কাছ থেকে সরে এসেছি। যার কারনে সে আমাকে ধরে নিয়ে মারধোর করে। কলেজ শিক্ষার্থীরা জানায়, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নেই অনেক বছর ধরে। এসময়ে রবিন সরদার ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলে। রবিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বেশ কয়েকবার জেল খাটতে হয়েছে। তবে জামিনে বের হওয়ার পর থেকে কলেজে একক অধিপত্য করে যায়। ফেরদৌস তার প্রতিপক্ষ হওয়ায় তাকে ধরে নিয়ে মারধোর ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। রবিন সরদারের মুঠোফোনের একাধীকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। আজকের ঘটনা জানতে রবিন সরদারের ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদা সিকদার বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ফেরদৌসকে ধরে নিয়ে য়ায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর রাতেই পুলিশ গুরুত্বর জখম অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ওই ঘটনায় ফেরদৌসের মা নাজমা বেগম বাদি হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2023-09-05 05:11:26.863049 +0200 CEST