যায়যায়দিন
শীতের তীব্রতা কমেছে, দেখা মিলল রোদের

শীতের তীব্রতা কমেছে, দেখা মিলল রোদের

ঘন কুয়াশা কেটে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে দেখা মিলেছে হালকা রোদের। সোমবার মাঘের প্রথম দিন ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগে ওঠে সূর্য। তবে সপ্তাহের শেষে শীত ফের বাড়বে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, বরিশাল ও ভোলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হতে পারে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও। কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে কয়েকদিন। অন্যদিকে শীত বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে খেটেখাওয়া এবং ছিন্নমূল মানুষ। ঠান্ডার নানা ধরনের অসুখ বিসুখে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক সোমবার বলেন, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারিপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ ও সিলেটে সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে কুয়াশা থাকায় সূর্যের আলোর উত্তাপ তেমন নেই। তিনি বলেন, ঢাকায় মাঝারি কুয়াশা আছে। দিনের তাপমাত্রা একটু বাড়বে। তাতে শীতের অনুভূতির তীব্রতা কমে যাবে।’ অধিদপ্তর বলছে, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে দেশের সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, বরিশাল ও ভোলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কালাম মল্লিক বলেন, বুধবার খুলনা বিভাগে হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরে কুয়াশার ভাব কমবে। এবং তাপমাত্রাও কমে শীত কিছুটা বাড়বে। চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এ মাসে দেশে এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতনিধি জানান, উপজেলায় ৬ দিনেও দেখা নেই সূর্যের। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে এ জনপদ। ব্যাহত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। সোমবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয় অটোরিকশা চালক সাজু মিয়া বলেন, ঠাণ্ডায় মানুষ বাড়ি থেকে বাহির হচ্ছে না। শহরে লোকজনও অনেক কম, অটোর যাত্রীও তেমন হচ্ছে না। রাজারহাট বাজারের বনিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জুতা ব্যবসায়ী চান মিয়া বলেন, ৭-৮ দিন থেকে ঠান্ডার মাত্রা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে বাজারে লোকসমাগম অনেক কমে গেছে। রাজারহাট কুষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, তাপমাত্রা আরও কয়েক দিন এমন থাকবে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা কম। পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ উপজেলার জনজীবন। ঘন কুয়াশা আর শীতের দাপটে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা বেসামাল হয়ে পড়েছে। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। উপজেলার জালুয়া গ্রামের আনিছুর রহমান জানান, শীতে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পাচ্ছেন না। এতে তার কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ভ্যান চালক হামিদুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা ও শীতে রাস্তায় ভ্যান নিয়ে বের হলেও তেমন লোকজন হচ্ছেনা। ফলে তার পরিবার চালনার মত আয় করতে পারছেনা। জেলার বদলগাছি আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সোমবার সকাল ৬টা এবং ৯টার দিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নাগেশ^রী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, কনকনে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে এ উপজেলার জনপদ। ব্যহত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। এক সপ্তাহ ধরে মিলছে না সূর্যের দেখা। দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ¦ালিয়ে যান চলাচল করছে। হিম কুয়াশায় সকালে স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপ চরের মানুষগুলো। রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর দামালগ্রাম এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ঠাণ্ডায় চরাঞ্চলের মানুষ অনেক কষ্টে দিন যাপন করছেন। এছাড়াও শিশু, বৃদ্ধ এবং গবাদী পশু নিয়ে আমরা বিপদের মধ্যে আছি। আমাদের চরাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকার শুকুর আলী ও শাহাদত হোসেন জানান, শীতের প্রকোপ এবং ঠণ্ডায় তারা সময়মতো কাজে বের হতে পারেন না। এতে করে আয় কমে গেছে তাদের। বেরুবাড়ী এলাকার সেকেন্দার আলী ও শামিম মিয়া জানান, গবাদী পশু নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইফতেখারুল ইসলাম পল্লব বলেন, হাসপাতালে শীতজনিত বিভিন্ন রোগির চাপ বেড়েছে। তবে সরকারের যে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেয়া আছে আমরা রোগীদের সেভাবেই চিকিৎসা দিচ্ছি এবং রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও কয়েক দিন এমন থাকবে। মেহেরপুর ও গাংনী প্রতিনিধি জানান, জেলায় শীতকালীন বিভিন্ন ফসলের ভাল হলেও শৈত্যপ্রবাহ ও ঘনো কুঁয়াশায় বোরো বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অনেক বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে মরে যাচ্ছে। ফলে বোরো ধান আবাদ করতে চারা সংকটের আশংকা করছে চাষী। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কোল্ড ইনজুরির কারণে ধান রোপণ বা উৎপাদনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। চাষীরা জানান, শীতকালীন ফসল গম, ভুট্টা, মশুর সহ সবজি ফসলের জন্য যত শীত পড়বে তত ভাল হবে। কিন্ত বোরো বীজতলা ঠান্ডাজনিত কারণে মরে যাচ্ছে। যদি চারা মরে যায় তবে কাংখিত জমিতে ধান রোপন করা যাবেনা। গাংনী উপজেলার রাইপুর গ্রামের চাষি মকলেছুর রহমান জানান, সপ্তাহ খানেক আগেও বোরো ধানের বীজতলা সবুজ ছিল। কয়েকদিনের তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারার পাতা মরে যাচ্ছে। ধানের চারা মারা যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা আর কুয়াশার জন্যই এমন হচ্ছে। ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। যুগির গোফা গ্রামের ধান চাষি আবু বকর জানান, কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। নেই রোদের তাপ। সন্ধ্যার পরে থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। আর গভীর রাত থেকে পড়ছে কুয়াশা। প্রতিদিন সকালে বোরো ধানের বীজতলায় দড়ি টেনে কুয়াশাগুলো ফেলে দেয়া হচ্ছে। পলিথিন দিয়েও বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন চাষিরা। তার পরেও হলুদ হয়ে গেছে ধানের চারা। এমন অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকলে ধানের চারার পাতা মরে যাবে। গাংনী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুর রউফ জানান, এখনও শীতের কুয়াশার কারণে সেই ভাবে বোরো ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়নি। সেইভাবে ক্ষতি হয়নি। পলিথিন ব্যবহারের ফলে বীজতলা গরম হয়ে থাকে এবং কুয়াশা পলিথিন ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজ তলা রক্ষা পায়। এজন্য কৃষকদের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যে কৃষকদের বীজতলার জমিতে পানি জমে আছে সেগুলো নিষ্কাশন করতে হবে। তার পরও কোন সমস্যা হলে ছত্রাক নাশক ব্যবহার করতে হবে। আরও কয়েকদিন এমন অবহাওয়া থাকলে বোঝা যাবে আসলে কুয়াশার কারণে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন যায়যায়দিনকে জানান, শীত মৌসুমের সকল ফসলই ভাল আছে তবে বোরো বীজতলা ও আলুর কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে চাষীদের বীজতলা সকালে লাঠি দিয়ে শিশির ঝরিয়ে ফেলা এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চল (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, দেশের সীমান্তবর্তী বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলা নওগাঁয় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীত আর হিমেল হাওয়ায় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। জেলার হাসপাতালগুলোতে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের। এমন পরিস্থিতিতে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ২০-৩০ জন। এ প্রতিবেদন লোখা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৫০ জন রোগি ভর্তি রয়েছে। রোগির সংখ্যা আরও বাড়লে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিদিনই শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগির সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বয়ষ্ক ও শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। হাত-পায়ে মোজা পরাতে হবে। আবার ঘামে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারহানা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিনই প্রায় ২০-৩০জন করে রোগি ভর্তি হচ্ছেন শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে। বর্তমানে ১৫০ জন রোগি ভর্তি আছে। আরও রোগি বাড়লে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হবে।’ চার বছরের শিশু রুনু রাণীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি গ্রামের সুখী রাণী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে রয়েছি। এখন একটু সুস্থ্য। অনেক রোগির চাপ এখানে। তবুও ডাক্তাররা সাধ্যমতই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।’ নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রিমি খাতুন বলেন, ‘নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আমার ১১ মাস বয়সী ছেলেকে দুই দিন আগে ভর্তি করেছি হাসপাতালে। ডাক্তাররা বলছে আরও ৪-৫ দিন ভর্তি থাকতে হবে।’ মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকার মানিক হোসেন বলেন, ‘ঠান্ডা লাগার কারণে ডায়রিয়া হয়েছে। তিনদিন হলো হাসপাতালে ভর্তি আছি। চিকিৎসকরা ভালো করেই চিকিৎসা করছেন। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ্যতাবোধ করছি।’ নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিস এর মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রিফাত হাসান বলেন, ‘শীতজনিত কারণে হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। শীতের গরম পোশাক পরিধান করাসহ ঠাণ্ডা খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ দিনাজপুর প্রতিনিধ জানান, সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। গত ৫ দিন থেকে ঠান্ডার প্রভাবে মানুষ ঠিকমতো কাজ কর্ম করতে পারছে না। সারাদিন সূর্য়ের মুখ দেখা মিলছেনা, বিশেষ করে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে মানুষ নিয়মিত কাজ কর্ম করতে পারছেনা, এতে করে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। এ দিন জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস এর ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, শৈত্য প্রবাহ আরো কয়েক দিন থাকবে এবং আগামী ১৬ হতে ১৮ তারিখের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনের টানা শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখন দিনাজপুরে। গত তিন দিন থেকে ১০ ডিগ্রীর নিচে নেমেছে তাপমাত্রা। ১৩ ও ১৪ জানুয়ারী ৮ দশমিক ৮ ও ৮দশমিক ৫ তাপমাত্রা থাকার পর সোমবার তাপমাত্রা রেকড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী। দিনমজুর রমজান মিয়া বলেন, বাজারের উর্দ্ধগতিতে যেখানে দু-বেলা দু-মুঠো খাবার যোগাড় করায় কঠিন সেখানে শীতের কাপড় কেনার সাধ্য কোথায়। আর শীতের কারনে এখন মজুরির কাজও পাওয়া যাচ্ছেনা। ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মাহমুদ আলম লিটন বলেন, প্রয়োজনের তুলুনায় সরকারী কম্বলের বরাদ্ধ অনেক কম থাকায় সবাইকে কম্বল দেয়া সম্ভাব হচ্ছেনা। ফুলবাড়ী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, এ পযন্ত ৪২শ কম্বল বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। আরো কম্বলের চাহিদা পাঠানো করা হয়েছে। এদিকে শীত জনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার। শহরের চিকিৎসক একেএম রেজাউল ইসলাম লাবু বলেন, বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ জন্য তিনি শিশু ও বৃদ্ধদের সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন। চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিন ধরে এ উপজেলার মানুষ সূর্যের উষ্ণতা পায়নি। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝড়ছে কুয়াশা। বইছে হিমেল হাওয়া। ফলে স্বাভাবিক কর্মজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এছাড়া শীতের কারণে বোরো বীজতলা ও আলুক্ষেত নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বোরো বীজতলা। উপজেলার গ্রামীণ শহর রানীরবন্দর বাসস্ট্যান্ডে রিকশাভ্যান চালক রবিউল ইসলাম ও ইজিবাইক চালক গোলাম মোস্তফা জানান, 'ঠান্ডা কমছে না। বরং বাড়ছে। হামার গরিব মানুষের যত জ্বালা। জার (ঠান্ডা) সহ্য হয় না। বাড়িত বসিও থাকা যাচ্ছে না। গরিব মানুষ বাড়িত বসি থাকিলে কে খাবার দিবে। বাইর হইছি, যা কামাই (আয়) হচে, গাড়ির জমা দিয়া কিছু থাকে না। দিন চলা কঠিন হয়া (হয়ে) গেইছে। হিমশীতল বাতাস আর ঠান্ডার কারণে কাহো (কেউ) (হামার) আমাদের গাড়িত উঠির (উঠতে) চাছে (চাচ্ছে) না। ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভেড়ামারা শহরসহ গ্রামঞ্চলে কুয়াশা, হালকা বাতাস আর প্রচন্ড শীতে জরাজীর্ণ জনজীবন যাত্রা। নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা ফুটপাতের দোকান গুলোতে ভীড় করছে। রেলষ্টেশনের মানুষেরা শীতের মধ্যে তাদের কে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু বলেন, ইতিমধ্যে দরিদ্র, সহায় সম্বলহীন মানুষের মধ্যে কম্বল দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে বরাদ্দ পেলে আবারও দরিদ্র ও সহায় সম্বলহীন মানুষের মধ্যে শীতের সামগ্রী দেওয়া হবে। একটু মানবতার ছোঁয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মালদ্বীপ প্রবাসী জীবন রহমান মহন বলেন, গরীব অসহায় দুঃস্থ মানুষের সার্বিক সহযোগীতা করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় অর্ধশতাধিক অসহায় হতদরিদ্র ও শীতার্ত পরিবারের মাধ্যে লেপ বিতরণ করা হয়েছে। ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, গত চার দিনের প্রচন্ড শীতে কাবু হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। অটো ভ্যান চালক ঘারুয়া গ্রামের সবুজ মিয়া বলেন, ঠান্ডার কারণে লোকজন বাহিরে কম বের হয়। তাই আয়ও কম হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় বসে থেকে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সামান্য কিছু টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড়ে কথা হয় নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের মিন্টু শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভয়ানক কুয়াশার কারণে সকাল সাতটার মধ্যে ভাঙ্গায় পৌঁছতে পারি না। ফলে কোন জমির মালিক কাজের জন্য আমাকে নেন না। এরকম অনেক দিনমজুর সকালে বাড়ি থেকে বের হতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে কাজ সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের। ভাঙ্গা বাজার শীতের পোশাক বিক্রয়কারী ফারুক হোসেন জানান, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হাত মোজা ও পায়ের মোজা। বছরের শেষ দিকে এসে, এত শীতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2024-01-16 06:13:06.055534 +0100 CET