যায়যায়দিন
তিন দিনের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা

তিন দিনের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটের আগে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় মোট তিনদিন বন্ধ পাচ্ছেন কর্মজীবীরা। এ সুযোগে রাজধানী ছাড়ছেন অনেকেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামে ছুটছেন মানুষ। এলাকায় গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন ভোটাররা। তাদের মধ্যে ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। রাজধানীর ফার্মগেট, কল্যাণপুর, গাবতলী-মহাখালী-সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। কেউ যাচ্ছে ছুটি কাটাতে, কেউ নিজ এলাকায় ভোট দিতে। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য ভিড় করেছে মানুষজন। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, কাজকর্ম স্বাভাবিক চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্স মিনিস্ট্রিস অ্যান্ড ডিভিশন্স’ এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশে ৩৭ নম্বর ক্রমিকে দেওয়া ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ৭ জানুয়ারি (রোববার) সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, রাজধানী ছাড়তে বাসস্ট্যান্ডে চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভিড় আরও বাড়ে। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড় অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বাস কাউন্টারগুলোতেও বেশি ভিড় হয়। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন হুমায়ূন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘টানা তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। ভোট দিতে বাড়ি যাব। কাজ কম থাকায় বৃহস্পতিবার একটু আগেই অফিস থেকে বের হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে আমার বউ-বাচ্চা। তাদের কাছে প্রার্থীরা বারবার এসেছেন, ভোট চেয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য অভিভাবক নির্বাচনে আমার অংশগ্রহণ থাকা উচিত বলে মনে করি। তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছি।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যাত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা (বৃহস্পতিবার) অফিস বন্ধ দিলে ভালো হতো। তাহলে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরে যেতে পারতাম। অফিস করে গাড়ি ধরতে খুব কষ্ট হলো।’ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিভিন্ন বাসের টিকিট বিক্রি করা কমিশন এজেন্ট মো. আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘যাত্রী এসেছে। টিকিটও বিক্রি হয়েছে। অনেকেই বাড়ি ফিরছেন।’ এ টার্মিনালে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে বাসে তুলে দিতে এসেছেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বরিশালের রাতুল ইসলাম। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী এলাকায় ভোটার হয়েছে। এবারই প্রথম ভোট দেবে ও। তাই বাড়ি যাওয়ার জন্য তার মধ্যে একটু বাড়তি উচ্ছ্বাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক খোলা থাকায় আমি আজ যেতে পারছি না। শনিবার যেহেতু দূরপাল্লার বাস চলবে তাই ওই দিন অফিস শেষ করে আমি বাড়ি যাব।’ এদিকে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মাহমুদ যাবেন সিরাজগঞ্জে। তিনি বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর এটাই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আনন্দ উপভোগ করতে চাই। মেসের সবাই বাড়িতে চলে গেছে, তাই দুইদিন আগেই বাড়ি যাচ্ছি।’ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি যাত্রী। সন্ধ্যার পর এই চাপ আরও বাড়ে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বরিশালের বেশিরভাগ লঞ্চের কেবিন আগেই বুক হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ ব্যবস্থাপকরা। যাযাদি/ এস
Published on: 2024-01-05 06:29:14.318344 +0100 CET