যায়যায়দিন
প্রচারণার শেষ দিনে গুলি-সংঘর্ষ ভাঙচুর-আগুন, নিহত ২

প্রচারণার শেষ দিনে গুলি-সংঘর্ষ ভাঙচুর-আগুন, নিহত ২

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে আজ শুক্রবার সকাল ৮টায়। তবে এর আগে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষ, গুলি, ক্যাম্প ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মীসমর্থকদের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পিরোজপুর-৩ আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের হামলায় আহত অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের গুলি ও হামলায় নৌকার একজন কর্মী নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। এদিকে ঝিনাইদহ সদরের পৃথক স্থানে একই সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভা আহ্বান করায় জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। নোয়াখালী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী প্রচারণাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত তিনটি যানবাহন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের লোহাগাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ এবং জামালপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের তিনটি মোটর সাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ-১ আসনের মুকসুদপুরে জনসভা করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। পিরোজপুরে হামলায় আহত কর্মীর ঢামেকে মৃত্যু পিরোজপুর-৩ আসনের মঠবাড়িয়ায় বুধবার বিকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামিম শাহনেওয়াজের সমর্থক জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েত এবং একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সমর্থক সিরাজুল ফরাজীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় সিরাজুল ফরাজী ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীর পঞ্চায়েতের মাথায় কুপিয়ে জখম করেন। স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে প্রথমে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতেই জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বুলি বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হামলার অভিযোগ করেন। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।’ মুন্সীগঞ্জে গুলিতে নিহত নৌকার কর্মী মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার সমর্থক ডালিম সরকারকে গুলি করে হত্যা এবং সোহেল মিয়াকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে ওই হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো ইউনিয়ন জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চলছে। হামলায় আহত সোহেল মিয়া বলেন, ‘আমরা নৌকার ক্যাম্পে অবস্থান করছিলাম। আকস্মিকভাবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর ভাই শিপন পাটোয়ারীর নেতৃত্ব সন্ত্রাসী দল ক্যাম্পে হামলা চালায়। তাদের এলোপাথাড়ি গুলিতে ডালিম সরকার গুলিবিদ্ধ হন। আমরা তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকে পিটিয়ে আহত করে তারা।’ স্থানীয়রা জানান, ১০-১২ জনের একটি দল নৌকার ক্যাম্পে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ডালিমকে উদ্ধার করে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ডালিম সরকার নৌকার প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ও একই এলাকার বাসিন্দা। হামলার ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘কাঁচি’ প্রতীকের হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থকরা জড়িত বলে নৌকা সমর্থকরা দাবি করছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ‘জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’ এর আগে মঙ্গলবার রাতে এ আসনের বজ্রযোগিনীর বটতলা এলাকায় নৌকার ক্যাম্পে স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাঁচি) ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থকরা মোটর সাইকেলযোগে এসে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঝিনাইদহে ১৪৪ ধারা জারি ঝিনাইদহে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা শহরের ২টি স্থানে একই সময়ে নির্বাচনী সভার আহ্বান করায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে একই সময়ে পৃথক দুই স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সভা আহ্বান করে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় দুপুর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ওই দুই এলাকায় ৪শ’ গজের মধ্যে জননিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও মিছিল-মিটিং সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আদেশ অমান্য করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ নোয়াখালীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ নোয়াখালী-৫ আসনের কবিরহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারকালে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় বাটইয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আলাবক্স তাহের, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ উভয়পক্ষের ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রচার কাজে ব্যবহৃত তিনটি গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আলাবক্স তাহেরসহ শতাধিক নেতাকর্মী ওবায়দুল কাদেরের পক্ষে ভূঁইয়ারহাট বাজারে গণসংযোগ করতে যান। একই সময় সেখানে গণসংযোগে আসেন বাটইয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী। তারা নৌকার পক্ষে গণসংযোগ ও স্লেøাগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন আলাবক্সের লোকজনের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালে তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় আহত আলাবক্স তাহের অভিযোগ করেন, ওবায়দুল কাদেরের পক্ষে গণসংযোগকালে বাধা দেন স্থানীয় বাটইয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ওরফে শাহিন। পরে তারা উপজেলার ভূঁইয়ারহাট বাজারে চলে গেলে আবার শাহীন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাদের গণসংযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে গণসংযোগে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের তিনটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নৌকার পক্ষে গণসংযোগ চালাতে গিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।’ লোহাগাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত তিনটার দিকে উপজেলায় আমিরাবাদ মাস্টারহাট অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের আমিরাবাদ ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শহিদুল কবির বলেন, ‘কার্যালয়ের চারদিকে আগুন দেওয়া হয়েছে। আগুনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের ব্যানার ও শতাধিক পোস্টার পুড়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তারপর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ মোটর সাইকেলে আগুন, ক্যাম্প ভাঙচুর জামালপুর-৫ (সদর) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদের সমর্থকদের তিনটি মোটর সাইকেলে আগুন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিমের একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহেশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর এলাকায় নৌকা ও ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে নৌকার আরও কয়েকজন সমর্থক সেখানে যান। তারা সেখানে থাকা ঈগল প্রতীকের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পের চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করেন। এরই মধ্যে ঈগল প্রতীকের আরও কিছু সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে নৌকার সমর্থকদের ধাওয়া দেন। এ সময় নৌকার সমর্থকদের তিনটি মোটর সাইকেলে আগুন দেন ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা। পরে রাত ১১টার দিকে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে উভয় পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এ কথায় তারা কর্ণপাত না করায় এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় তিন সাংবাদিক আহত হন। ঈগল প্রতীকের সমর্থকদের নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন তিন পুলিশ। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ঈগল প্রতীকের সমর্থকেরা জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব সদস্যসহ তারা সেখানে যান। তাদের প্রায় আড়াই ঘণ্টা বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কোনোভাবেই সড়ক ছাড়ছিলেন না। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। এ সময় তাদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’ গোপালগঞ্জে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল আলম শিকদার ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। মুকসুদপুর থানার ওসি মো. আশ্রাফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।’ এদিকে, আজ সকাল ৮টায় প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে। এ সময়ের পরে কোনো প্রার্থী জনসভা, পথসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। তবে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর ৭৮ ধারায় নির্বাচনে প্রচারের সময়সীমা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় জনসভা আহ্বান, অন্য কারও জনসভায় অংশ নেওয়া যাবে না। এমনকি মিছিল, শোভাযাত্রা বা এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন বা অংশগ্রহণ করা যাবে না। এদিকে প্রচারের শেষদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। এদিকে, নওগাঁ-২ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ওই আসনের ভোট স্থগিত করেছে ইসি। প্রতিবেদন তৈরিতে গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। যাযাদি/ এস
Published on: 2024-01-05 06:46:25.845318 +0100 CET