যায়যায়দিন
আতঙ্ক কাটেনি বান্দরবানের বাসিন্দাদের, খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র

আতঙ্ক কাটেনি বান্দরবানের বাসিন্দাদের, খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র

বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মিসহ বিদ্রোহী কয়েকটি গোষ্ঠীর তুমুল লড়াই চলছে। এর মধ্যে কোন কোন সীমান্ত শহর দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। আরাকান আর্মির সাথে টিকতে না পেরে এরই মধ্যে গত দু’দিনে ২৬৪ জন বিজিপি’র সদস্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিরস্ত্র করে বিজিবি তাদের আশ্রয় দিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবারও ওপার থেকে এপারে মর্টারশেল, বোমা এসে পড়েছে একাধিক বার। ঘুমধুম ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘুমধুম বেতবুনিয়া বাজারসংলগ্ন ছৈয়দ নুরের বসতঘরে একটি মর্টার শেল এসে পড়েছে। এতে ঘরটির জানালা ভেঙে গেছে ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, রাতভর সীমান্তের মধ্যে গোলাগুলির আওয়াজ শুনেছি। গ্রামবাসীদের মধ্যে খুবই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে সপরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। মর্টারশেল পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির বাসায় মর্টাশেল পড়েছে শুনে আমরা সেখানে গিয়েছি। এদিকে, ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত হয়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। অনেকে নিজ বাড়ি ঘর ছেড়ে আত্মীয়ের বাসায় থাকছেন। গ্রামের দোকানগুলোতে তালা ঝুলছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ তথ্যমতে, ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে শুধু বিজিপি সদস্য নন, সেনাবাহিনীর সদস্য, কাস্টমস সদস্য ও আহত মিয়ানমারের সাধারণ নাগরিক আছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পয়েন্ট পরির্দশন করে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদে যান ডিসি ও পুলিশ সুপার। পরে মিয়ানমারের ছোড়া মর্টারশেলের আঘাতে নিহত জলপাইতলী এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান ডিসি। সেই সঙ্গে প্রশাসনে পক্ষ থেকে হোসনে আরার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। পরির্দশন শেষে সার্বিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত জনগণকে অনুরোধ করছি নিরাপদে আশ্রয়ে আসার জন্য। সবাই যেন কয়েকটা দিন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকে এটা আমার অনুরোধ। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা হয়েছে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি। কোন ধরনের অনুপ্রবেশ যেন ঘটতে না পারে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি। এলাকার লোকরা যাতে আতঙ্কিত না হয় এজন্য আমরা সবাইকে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে বলে বার্তা দিচ্ছি । কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তে গত বছর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) লড়াই চলছে। মাঝে কিছুদিন উত্তেজনা কমে এলেও সপ্তাহ ধরে আরও দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির সময় মাঝেমধ্যে মর্টারশেল ও গুলি বাংলাদেশে এসে পড়ছে। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বিদ্রোহীদের চলমান সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশেও। এ নিয়ে সীমান্তের পাশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।বাসস যাযাদি/এসএস
Published on: 2024-02-06 15:50:15.382027 +0100 CET