যায়যায়দিন
আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের আরও ২৬৪ জন বিজিপি

আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের আরও ২৬৪ জন বিজিপি

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজার উখিয়ার ৩ পয়েন্ট দিয়ে কয়েক দফায় সেদেশের বিজিপির ২৬৪ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করে আশ্রয় নিয়েছেন। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান সকালে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর শতাধিক সদস্য অস্ত্র সহকারে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাদেরকে রহমতের বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় দেন। পরে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বালুখালী ক্যাম্পের কমান্ডার এসে তাদেরকে হেফাজতে নেন। তিনি আরো জানান সে দেশে তুমুল সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কে জীবন যাপন করতেছে । মুহু মুহু মর্টারশেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উখিয়া, ঘুমধুম ও তুমব্র সীমান্তে বসবাসরত গ্রামবাসীরা নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাচ্ছে । বেশ কিছু দিন ধরে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে দেশটির তুমুল সংঘর্ষ সহ লড়াই চলে আসছিল । সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যরা সম্মুখ যুদ্ধে আক্রমণ সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে ১১৫ জন সেদেশের বিজিপি সদস্য অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করে বিজিবির হেফাজতে আশ্র গ্রহণ করে। গতকাল মঙ্গলবার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল, ধামনখালী, পুটিবিলা ও আঞ্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে ৩ দফায় অনুপ্রবেশ করে ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। শরীফুল ইসলাম বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া বিজিপির সদস্য সংখ্যা ছিল ১১৫। ।এরপর একসঙ্গে আরও ১১৪ জন প্রবেশ করেন উখিয়ার বালুখালীর রহমতের বিল সীমান্ত দিয়ে। এখন আনজুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে সেনা ও শুল্ক কর্মকর্তাসহ গেল কয়েকদিনে মায়ানমার থেকে গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামে। এ ঘটনায় কক্সবাজার বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ পরিস্থিতিতে সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা আবারও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রশাসন পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে৷ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছেন । যাযাদি/এসএস
Published on: 2024-02-06 14:02:14.080314 +0100 CET