কালের কণ্ঠ
সিমেবিতে নিয়োগে অনিয়ম / সাবেক ভিসিসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সিমেবিতে নিয়োগে অনিয়ম / সাবেক ভিসিসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক উপা চা র্য (ভিসি) ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীসহ ৫৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও ইউজিসির অনুমোদন না নেওয়াসহ নিয়োগে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের উপপরি চা লক মো. জাবেদ হাবীবের কাছে মামলাটি করা হয়। দুদকের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী পরি চা লক মো. ইসমাইল হোসাইন ইমন এ মামলা করেন। বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন মো. জাবেদ হাবীব। মামলায় সাবেক উপা চা র্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ছাড়াও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরী, উপপরি চা লক (পরিবহন ও উন্নয়ন) ফাহিমা খানম চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার অঞ্জন দেবনাথ, সহকারী কলেজ পরিদর্শক মাইদুল ইসলাম চৌধুরী, সহকারী পরি চা লক (পরিবহন ও উন্নয়ন) মো. গোলাম সরোয়ার, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলাল আহমদ চৌধুরী, সহকারী পরি চা লক (বাজেট) শমসের রাসেল, জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী মো. ফারাজসহ ৫৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ব্যক্তিগতভাবে বা অন্যদের লাভবান করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যমান বিধি-বিধান ও আইন-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের পাঁচ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে সাবেক উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের নিয়োগবিধি না মেনে প্রার্থীদের যথাযথ বয়স ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ২২০ জনকে ছয় মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে মেয়াদ অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার পর চাকরি নিয়মিত না করে আবার অ্যাডহকে দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৮-এর ১২-এর ১০ উপধারা অনুযায়ী উপা চা র্য শূন্য পদে অ্যাডহক নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে মেয়াদ অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে হয় চা করি নিয়মিত করতে হবে, অথবা অব্যাহতি দিতে হবে। কোনোভাবেই আবার অ্যাডহকে নিয়োগ বা মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। কিন্তু তত্কালীন উপা চা র্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগতভাবে ও অন্যদের লাভবান করার অসত্ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যাডহকে নিয়োগ দেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরী তাঁকে ওই কাজে সহযোগিতা করেন। দুদকের অনুসন্ধানের বিভিন্ন তথ্য এজাহারে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্ম চা রীর সংখ্যা ২৩৯। কিন্তু ইউজিসি অনুমোদিত পদ আছে ১১২টি। অনুমোদিত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৯৮ জনকে এবং ইউজিসি থেকে তাঁদের বেতন-ভাতা জনতা ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ১৪১ জনের নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি থেকে কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমোদন নেয়নি। অনুসন্ধানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৫৮ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক। তৎকালীন সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে ২০২১ সালের ৬ নভেম্বর কালের কণ্ঠে ‘উপা চা র্য পরিবারের ১৩, বিএনপি-জামায়াতের ১৭ জন নিয়োগ’ শিরোনামে প্রধান সংবাদ ছাপা হয়। নিয়োগে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পরদিনই ইউজিসি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অনুসন্ধানে ১০৯টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। দুদকের তদন্তেও অনিয়ম দুর্নীতির সত্যতা পায়।
Published on: 2024-04-03 21:45:56.019863 +0200 CEST