প্রথম আলো
রাখাইনে তুমুল লড়াই, সীমান্তে আতঙ্কে স্কুল বন্ধ

রাখাইনে তুমুল লড়াই, সীমান্তে আতঙ্কে স্কুল বন্ধ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বাংলাদেশের সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর জেরে আজ সোমবার এক দিনের জন্য ঘুমধুম সীমান্তবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাঝখানে কিছুদিন গোলাগুলি বন্ধ ছিল। গত শনিবার থেকে আবারও মিয়ানমারের ভেতরের থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকার মানুষজন গোলা ও বোমার আওয়াজে আতঙ্কিত।ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শনিবার থেকেই মিয়ানমারের ভেতরের থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আজ আবারও ৩৩ নম্বর পিলার সীমানার ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড তুমব্রু পশ্চিম কুলে সকাল থেকে মিয়ানমারের ভেতরের থেমে থেমে গোলাগুলির বিকট আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা জানান, সকাল থেকে মিয়ানমারের ভেতরের গোলাগুলির কারণে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকার বাইশ ফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজা বনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রুæসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কুল তুমব্রুæসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকালে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তে মিয়ানমারের ওপারে সীমান্তের কাছে হেলিকপ্টারও উড়তে দেখা গেছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্তের কাছে বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলেন, পালংখালীর আনজুমান পাড়া সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ওপারে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আরাকান আর্মিসহ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন ও শীন রাজ্যের কয়েকটি শহর দখলে নিয়েছেন বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ জোরালো হয়েছে।*মিয়ানমার বাহিনীর ঘাঁটি দখলের দাবি * থাইল্যান্ডে নির্বাসিত মিয়ানমারের একদল নাগরিক পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাকান আর্মি রোববার রাখাইন রাজ্যের মিনবিয়া শহরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৩৮০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর দখলে নিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, রাখাইনের ম্রাউক ইউ, কিউকটা ও রাথেডং এলাকায় দুই পক্ষের লড়াই চলছে। আরাকান আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জান্তার আর আমাদের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য নেই। তারা এখন আরও বেশি গোলা নিক্ষেপ ও আকাশ থেকে বোমা হামলা চালাচ্ছে।’
Published on: 2024-01-29 14:47:26.497121 +0100 CET