প্রথম আলো
গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশ সরকারি ‘ছায়াতলের’ বাইরে থাকা মানুষের নিরাপত্তা নেই

গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশ সরকারি ‘ছায়াতলের’ বাইরে থাকা মানুষের নিরাপত্তা নেই

সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা লোকেরা একদিকে ব্যাংক লোপাট করছে, টাকা পাচার করছে, অন্যদিকে বিরোধীদের ব্যবসা দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, সরকারি ছায়াতলের বাইরে থাকা মানুষের সম্পদের এখন আর কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার তাদের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এসব কথা বলেন। ‘ব্যাংক লোপাট ও অর্থ পাচারের’ প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ছয়টি দল ও সংগঠনের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ। গতকালের সমাবেশে এই মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার ‘লুটপাটের স্বার্থে’ পুরো বাংলাদেশকে ‘তালুকদারিতে’ পরিণত করেছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিরোধীদের দমনপীড়নে ব্যবহার করছে। লুটপাটের জন্য ব্যবসায়িক একটি গোষ্ঠীকে সরকার ছয়টি ব্যাংক ‘বরাদ্দ দিয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন মঞ্চের নেতারা। সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হলেও নিত্যপণ্যের দাম কমাতে পারছে না। ঋণের নামে যারা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মেরে দিয়েছে, তারা সরকারের লোক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পারলেও সাধারণ কৃষককে দড়ি বেঁধে জেলে ঢোকানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, সরকারি ছায়াতলের বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের জীবন ও সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। গ্রামীণ নামে ড. ইউনূসের যত প্রতিষ্ঠান আছে, সব দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্‌ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আকবর খান প্রমুখ। সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট ঘুরে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।
Published on: 2024-02-16 17:10:46.149045 +0100 CET