প্রথম আলো
রামচন্দ্রপুর খাল একটি ভবনের পুরোপুরি, অন্যটির একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে

রামচন্দ্রপুর খাল একটি ভবনের পুরোপুরি, অন্যটির একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে

টিনের ছাউনির আধা পাকা ভবনটির পুরোটাই ছিল খালের জায়গা দখল করে বানানো। এই ভবনের পাশে আরেকটি দোতলা ভবনের আংশিক ছিল খালের জায়গায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে টিনের ছাউনির ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেঙে দেওয়া হয়েছে দোতলা ভবনটির খালের জায়গায় করা অংশও। আজ শনিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে খালের জায়গা উদ্ধার করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান চালাচ্ছে সংস্থাটি।আজ বেলা ১১টার দিকে অভিযান শুরু করা হয়। শুরুতে গতকাল যে ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনের অবৈধ অংশ ভাঙা হয়েছিল, সেই ভবনটির পেছনের দিকের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি খাল পাড়ের রাস্তার জায়গায় থাকা মাটি সরানো হয়। এরপরই ১০ তলা ওই নির্মাণাধীন ভবনের পশ্চিম পাশে খালের পাড়ে থাকা টিনের ছাউনির আধা পাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। পরে ভাঙা হয় পাশের একটি দোতলা ভবনের অবৈধ অংশ। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জায়গায় খাল খননের কাজও করছে ডিএনসিসি। অভিযানের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার খালের মোহনার জায়গা দখলে নিয়ে বানানো যে দুটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছিল, সেই জায়গাতে আজ খননকাজ শুরু করেন ডিএনসিসির কর্মীরা।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, একতলা ভবনটি পুরোটাই খালের জায়গায় ছিল। আর দোতলা ভবনের আংশিক (কোনাকুনি) প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত খালের জায়গায় ছিল। সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংস্থাটির সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, প্রথম দিন ভাঙা নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের মালিককে নিজ দায়িত্বে ভবনের বাকি অবৈধ অংশ ভেঙে অপসারণ করতে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। না হলে সিটি করপোরেশন নিজেরাই ওই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে।রামচন্দ্রপুর খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানের পাশাপাশি খালের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজও করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। গতকাল এ কাজে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন। ওই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা খালের যেসব ময়লা-আবর্জনা তুলে বস্তায় ভরে খালের পাড়ে রেখেছিল। সেগুলো এখনো সরানো হয়নি। আজ বিকেলে গিয়ে আবর্জনাভর্তি বস্তাগুলো খালের পাড়ে স্তূপ করে ফেলে রাখতে দেখা গেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, দুই দিনে প্রায় ৬৫০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে দেওয়া ভবনগুলোর রাবিশ (ইট-কংক্রিটের টুকরা) রয়েছে। উদ্ধারকৃত জায়গায় খননের মাটিও সরানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে খালের পাড়ে রাখা বর্জ্যভর্তি বস্তাগুলোও সরানো হবে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রামচন্দ্রপুর খালটি শুরু হয়েছে বছিলা ৪০ ফুট ব্রিজ থেকে। পুরো বছিলা হাউজিং দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিলিত হয়েছে খালটি। রামচন্দ্রপুর মৌজার এ খাল স্থানীয়ভাবে ‘সুজন সখী’ এবং ‘কাটাসুর খাল’ নামেও পরিচিত।
Published on: 2024-02-24 16:23:52.369022 +0100 CET