প্রথম আলো
ঢাকা উত্তর সিটি যে সড়কে দুর্ভোগ-দুর্ঘটনার কারণ ‘নর্দমা’

ঢাকা উত্তর সিটি যে সড়কে দুর্ভোগ-দুর্ঘটনার কারণ ‘নর্দমা’

রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। অথচ সড়কটির এক পাশে দুই যুগ ধরে রয়েছে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সরু নর্দমা। নর্দমার ওপর আলাদা করে বসানো স্ল্যাবগুলোর (কংক্রিটের তৈরি ঢাকনা) কিছু কিছু এদিক-সেদিক সরে গেছে। কোনোটি কোনোটি ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও স্ল্যাবই নেই। এতে সড়কের পাশে বড় বড় গর্তের মতো হয়ে আছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত সড়কের এই দশা। এই অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ১০০ ফুট চওড়া সড়কটির পুব পাশে থাকা নর্দমার কারণে ওই পাশে যান চলাচলের জায়গাও কমে গেছে। কেননা, মূল সড়ক থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচু হওয়ায় স্ল্যাবের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করা কঠিন। এ ছাড়া মধ্য বাড্ডার অংশে স্ল্যাবের ওপর বসে নানান ভ্রাম্যমাণ দোকান।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্র বলছে, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত এ সড়ক নাম প্রগতি সরণি আর নতুন বাজার থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত সড়কের নাম বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সরণি। ২০০০ সালের দিকে তৎকালীন সিটি করপোরেশন এ সড়কের পাশে সাইড ড্রেন (পার্শ্ব নর্দমা) তৈরি করেছিল। তখন নর্দমার ওপর আলাদা স্ল্যাব বসানো হয়। এসব স্ল্যাব ভেঙে গেলে সংস্কার করা হয় বা নতুন স্ল্যাব বসানো হয়।তবে সময়মতো সংস্কারকাজ হয় না বলে অভিযোগ করলেন এ সড়কের পাশের দোকানি, পথচারী ও পরিবহনচালকেরা। তাঁরা বলেন, এ কারণে নর্দমার কোনো না কোনা অংশ সারা বছরই উন্মুক্ত থাকে। এতে দুর্ভোগ লেগেই থাকে।গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরেন এ প্রতিবেদক। এ সময় দেখা যায়, বেশির ভাগ জায়গায় স্ল্যাব সরে গর্তের মতো হয়ে আছে। কোনো কোনো স্থানে স্ল্যাব নেই। কোথাও স্ল্যাব ভেঙে রড বের হয়ে আছে। এ কারণে স্ল্যাবের ওপর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। সড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে স্ল্যাবের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল যাওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান সড়কের পাশের দোকানিরা। মধ্য বাড্ডা এলাকার ফুটপাতে তিন বছর ধরে ঘড়ি বিক্রি করেন ভোলা জেলার বাসিন্দা আকতার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এসব স্ল্যাবের ওপর দিয়ে চলতে গেলে মাঝেমধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের চাকা পড়ে যায়। মাঝেমাঝে লোকজনও পড়ে যায়। গভীরতা কম হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। তবে কর্মদিবসে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে।এ সড়ক হয়ে প্রায়ই গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন আল আমিন। তিনি বলেন, পুরো ঢাকা শহরের কোথাও এমন স্ল্যাব নেই। যানবাহনের চাপ বেশি থাকলে যখন বাঁ দিকে চাপিয়ে গাড়ি এগোনোর চেষ্টা করেন, তখন গর্তে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।উত্তর বাড্ডা এলাকার দোকানি মোহাম্মদ সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানের সামনে নর্দমার দুটি স্ল্যাব চুরি হয়ে গেছে। নর্দমা উন্মুক্ত থাকায় লোকজন ইচ্ছেমতো সেখানে বর্জ্য ফেলে। বর্ষা মৌসুমে নর্দমার পানিতে সড়ক তলিয়ে যায়। গত বর্ষায় একাধিকার এ সড়ক পানির নিচে ডুবে ছিল বলে জানান স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। মধ্য বাড্ডা এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের বৃষ্টিতে এই সড়ক মানুষকে অনেক ভুগিয়েছে। কয়েকবার সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে ছিল। নর্দমাগুলো পরিষ্কার থাকলে হয়তো ভোগান্তি কম হতো।ডিএনসিসির এক সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক একাধিকবার খুঁড়ে পাইপ বসানো হয়েছে। তবে ফুটপাত ঘেঁষে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ নর্দমাটি রেখে দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। এই পথ হয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। পানির সংযোগ করতে ঢাকা ওয়াসাও সড়কটি কাটবে। তাই তারা নর্দমা সংস্কার করে অর্থের অপচয় করতে চাননি। মেট্রোরেল ও ওয়াসার কাজ শেষে সমন্বিতভাবে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।তবে ব্যস্ত সড়কের পাশে এভাবে নর্দমা নির্মাণ প্রকৌশলগত দিক থেকে কোনো মানদণ্ডেই পড়ে না বলে মন্তব্য করেন যোগাযোগবিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৌশলগত দিক বিবেচনা করে এসব স্ল্যাব বসানো হয়নি। নর্দমা থাকার কথা ছিল ফুটপাতের নিচে। যেহেতু সড়ক ও ফুটপাতের মাঝে নর্দমা করা হয়েছে, তাই সেখানে বড় স্ল্যাব বসিয়ে সড়কের সঙ্গে একীভূত করে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এভাবে নর্দমা করার কারণে পথচারী ও চালকদের জন্য পথটি অনিরাপদ হয়ে গেছে। স্ল্যাব সরে যাওয়ায় মানুষ বর্জ্য ফেলে এটি ভরাট করছে। এতে নর্দমার কার্যকারিতা নষ্ট হচ্ছে; অন্যদিকে সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
Published on: 2024-02-03 12:42:20.603249 +0100 CET