প্রথম আলো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদে পদে আর্থিক অনিয়ম: ইউজিসি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদে পদে আর্থিক অনিয়ম: ইউজিসি

জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তৃতীয় গ্রেড বা তার ওপরের গ্রেডে বেতন পাবেন না। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুজ্জামানকে দ্বিতীয় গ্রেডে বেতন দিয়ে সরকারের বেতন স্কেলের ব্যত্যয় ঘটানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই নিজেদের মতো করে ১১টি বাস ও ২টি মাইক্রোবাস কেনা হয়েছে। আবার নীতিমালার বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণকালে দৈনিক মজুরি বিল দেওয়া হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে পদে পদে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষতি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বাজেট পর্যালোচনা করতে গিয়ে ইউজিসি ২৫টি বিষয়ে আর্থিক অনিয়ম ও আপত্তির তথ্য পেয়েছে। ক্ষতি হওয়া টাকা আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বলেছে ইউজিসি।এ বিষয়ে কথা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রথমত তিনি নতুন। আর যেসব আপত্তির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো তিনি যোগ দেওয়ার আগের ঘটনা। তবে কিছু আপত্তি সঠিক বলে তাঁর কাছেও মনে হয়েছে। যেমন রেজিস্ট্রারকে দ্বিতীয় গ্রেডে বেতন দেওয়ার বিষয়টি। কিছু বিষয় আছে, যা সব বিশ্ববিদ্যালয়েই হয়ে থাকে, যেমন বাজেটে আন্তখাত সমন্বয়। তবে তিনি আপত্তির বিষয়গুলো দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির বাজেট দল গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করার সময় বিভিন্ন সময়ে ঘটা আর্থিক অনিয়মগুলো পাওয়া গেছে।ইউজিসি বলেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইউজিসির প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই দুটি মাইক্রোবাস ও একটি বাস কেনা হয়েছে। একই অর্থবছরে ইউজিসির বাজেট বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও ১০টি বাস কিনে আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিলে জমা দিয়ে ইউজিসিকে জানাতে বলা হয়েছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু যানবাহন ভাড়ায় চালিত। কিন্তু সে বিষয়েও ইউজিসির অনুমোদন নেই। অথচ যেকোনো প্রকার ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার নিয়ম আছে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে ইউজিসি। উপাচার্য দপ্তর, রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক কাউন্সিল ও ব্যক্তিগত শাখায় কর্মকর্তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। বই-ভাতা বাবদ শিক্ষকদের প্রতিবছর ৩ হাজার টাকা হারে দিয়ে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষকপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকার অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দিতে বলেছে ইউজিসি। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্যও টাকা দেওয়া হয়েছে।ইউজিসি বলছে, প্রশিক্ষণ ভাতার নীতিমালার বাইরে প্রশিক্ষণকালে ৬০০ টাকা হারে দৈনিক মজুরি বিল দিয়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। আবার অনিয়ম করে একই প্রশিক্ষণে একই ব্যক্তিকে অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে উভয় ক্ষেত্রে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশ ও বাজেট পরিপত্র অনুযায়ী, এক খাতের টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর অথবা আন্তখাত সমন্বয়ের সুযোগ নেই। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির দেওয়া বাজেট বরাদ্দ থেকে খাতে খাতে কমবেশি বাজেটে আন্তখাত সমন্বয় করা হয়েছে, যা নিয়মের ব্যত্যয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে ইউজিসি।চালক, বাসের সহকারী (হেলপার) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ না থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা করা হয়েছে। আবার চালক ও হেলপারদের তদারকির জন্য ভাতা দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র চালক, সিনিয়র গার্ড পদ জনবল কাঠামোয় না থাকা সত্ত্বেও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মের ব্যত্যয় বলে মনে করে ইউজিসি। এভাবে ২৫টি বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে ইউজিসি। ইউজিসি বলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বাজেট সেল নেই। এ জন্য বাজেট-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ইউজিসি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশও করেছে। এখন জাতীয় বেতন স্কেলসহ সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।
Published on: 2024-03-11 12:41:53.767263 +0100 CET