প্রথম আলো
মাছ ও মাংসের দাম এখনো চড়া

মাছ ও মাংসের দাম এখনো চড়া

রোজা অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাজারে মাছ ও মাংসের দাম কমছে না। ক্রেতাদের এখনো উচ্চমূল্যেই কিনতে হচ্ছে এসব পণ্য। এ ছাড়া চাল, ডাল, আটা, ময়দা, আলু ও তেলের দামও উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল হয়ে আছে। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও তার খুব বেশি সুফল বাজারে মিলছে না। ১৫ মার্চ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর মাছ, মাংসসহ ২৯টি পণ্যের খুচরা মূল্য বেঁধে দেয়। দাম বেঁধে দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরও এসব পণ্যের অধিকাংশই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা। অথচ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর খুচরায় ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৭৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম ২৬২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।বাজারে মুরগির দাম না কমার কারণ হিসেবে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে হলে মুরগির বাচ্চা, পোলট্রির খাবার ও আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম কমাতে হবে। আর এ খাতকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে ক্ষুদ্র খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, প্রতি কেজি গরুর মাংস খুচরায় ৬৬৪ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ থেকে ৭৮০ টাকায়। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গতকাল প্রতি কেজি চাষের রুই মাছ বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। আকারভেদে চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দাম ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। চাষের কই মাছের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।বাজারে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যেসব মাছ বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আইড়, দেশি শোল ও মাগুরের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। ৫০০ গ্রাম ওজনের বেশি ইলিশের দাম এক হাজার টাকা কেজি। রাজধানীর মালিবাগ বাজারের মাছ বিক্রেতা পাপ্পু দাস প্রথম আলোকে বলেন, মাছের বাজার প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। এক দিন দাম কিছুটা কমলেও আরেক দিন বাড়ছে।সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রুই মাছের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ইলিশের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া বেড়েছে গরু, খাসি ও ব্রয়লার মুরগির দামও। ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দাম বেঁধে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগটি ভালো ছিল। কিন্তু সেটির বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই আমাদের সংশয় ছিল। কারণ, বেঁধে দেওয়া দাম কার্যকর না হলে ক্রেতার কোনো লাভ নেই।’
Published on: 2024-03-29 03:22:41.398419 +0100 CET