The Business Standard বাংলা
২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতের ১৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার

২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতের ১৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার

২৮ অক্টোবরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বেড়েছে। গতকাল রাতে বিএনপি নেতা খাইরুল কবির খোকনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দকেও বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, গত বুধবার রাতে সারাদেশে ১৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ১০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, গতকাল রাত আটটার দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হাশেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল গণি গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২৪ মে সায়েন্স ল্যাবের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে হাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া রাত সাড়ে আটটার দিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে বিএনপির নেতা হাজি মনিউর রহমান ওরফে মনিরকে আটক করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, মনিউর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যসচিব। তিনি তার চকবাজারের বাসা থেকে কামরাঙ্গীরচরে একটি কাজে গেলে সেখান থেকে তাকে পুলিশ আটক করে। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা ছিল। সেগুলোতে তিনি জামিনে আছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ' নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থমথমে অবস্থা, পুলিশ টহল বেড়েছে, আশেপাশে পুলিশের কয়েকটি প্রিজনও দেখা গেছে।' রাজধানীর বাইরেও তৎপর প্রশাসন। *রাজশাহীতে আটক ৩৫ বিএনপি নেতা-কর্মী* রাজশাহীতে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুর সবুর বুলেট, জেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রনিসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ। *খুলনায় গ্রেফতার ৫২ জনকে আদালতে নেওয়া হয়েছে* খুলনা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে জেলা ও মহান্গর পুলিশ গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৫২ জনকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মহানগর পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৩১ জনকে, জেলা পুলিশ ২১ জনকে। অন্যদিকে জামায়াতের ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। #দিনাজপুরে জামায়াত-বিএনপির ১৫ জন গ্রেপ্তার দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলায় আটক হয়েছেন ছয়জন। এ ছাড়া বিরামপুরে ১, ঘোড়াঘাটে ৫ ও নবাবগঞ্জে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। *ঠাকুরগাঁওয়ে আটক ১৬* ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৬ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা। *পাবনায় গ্রেফতার অন্তত ২৭ জন* পাবনায় বিএনপির অর্ধশত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের নেতারা। গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। *মৌলভীবাজারে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেফতার ৩* পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে মৌলভীবাজারে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। জেলার কয়েকটি স্থানে এবং মৌলভীবাজার শহরে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। এসময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করতেও দেখা যায়। জেলাব্যাপী পুলিশের এই তৎপরতায় বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, 'গত ২৮ ও ২৯ জুলাই থেকে আজপর্যন্ত সারাদেশে মোট গ্রেপ্তার ৩,৭৭০ জন, পুলিশের হামলার ২০১০ জনের অধিক, নতুন করে ৪১০ টি মামলায় আসামী ২৭,৮৩০ জন।' *রাজধানীর প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী* সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখ আমিনবাজার চেকপোস্ট বসিয়ে জোর তল্লাশী শুরু করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতালের সামনে এই চেকপোস্ট ও তল্লাশী কার্যক্রম শুরু করা হয়। বেলা ১২টা নাগাদ আমিনবাজারে পরিচালিত পুলিশের চেকপোস্ট ঘুরে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে ঢাকাগামী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ক্ষেত্রবিশেষে তাদের সাথে থাকা ব্যাগপত্র তল্লাশী করছে পুলিশ। এক্ষেত্রে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস, গণপরিবহন, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলের প্রতি পুলিশের বিশেষ নজর লক্ষ করা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এসময় বিভিন্ন যাত্রীর কাছে তাদের গন্তব্য, কোথা থেকে আসছেন, পেশা কী– এসব প্রশ্ন করতে দেখা গেছে। কিছুক্ষেত্রে যাত্রীদের পরিচয় নিশ্চিতে তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। এদিকে চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও মালামাল তল্লাশী করায় চেকপোস্টের স্থানে যানবাহন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। যদিও স্বাভাবিক রয়েছে মহাসড়কের আরিচামুখী লেন। চেকপোস্টে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শহীদুল ইসলাম, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে, চেকপোস্টে থাকা ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শহীদুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, '২৮ তারিখে যেহেতু রাজধানীতে দুটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ রয়েছে, সেহেতু কেউ যেন ঢাকায় প্রবেশ করে কোন নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই পুলিশের এই চেকপোস্ট কার্যক্রম চলছে।' অপরদিকে, পুলিশের পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে র‍্যাব। সকাল থেকে একজন স্কোয়াড কমান্ডারের নেতৃত্বে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার হাইওয়ে থানার সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশে করতে দেখা গেছে র‍্যাব সদস্যদের। যোগাযোগ করলে র‍্যাব-৪ এর (সিপিসি-২) এর কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ' আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসাবে চেকপোস্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের নজরদারি রয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, এবং কোথাও যেন কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি নাহয়– সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।' এদিকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমরা বার বার শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলছি, জনগণকে জানাচ্ছি। আপনারা কী দেখছেন? দেখছেন তো, প্রতিদিন একশ/দেড়শ/দুইশ করে নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করছে গোয়েন্দা পুলিশ। আমাদের নেতা খায়রুল কবির খোকন (যুগ্ম-মহাসচিব) জাতীয় পর্যায়ের নেতা … তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো, তার সদস্য সচিব মঞ্জুর ইলাহীকে কয়েকদিন আগে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো … গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কুষ্টিয়ার কৃষক দলের মেহেদি হাসান আকবরকে নির্যাতন করে মারা হয়। এদের দিক থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস একযোগ হচ্ছে।' * *প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ডের জেলা প্রতিবেদকগণ।*
Published on: 2023-10-26 16:26:46.539554 +0200 CEST