The Business Standard বাংলা
অবরোধে বগুড়া থেকে পরিবহন খরচ বেড়েছে ৪০ শতাংশ

অবরোধে বগুড়া থেকে পরিবহন খরচ বেড়েছে ৪০ শতাংশ

চলমান অবরোধের কারণে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম বাজার বগুড়ার মহাস্থান হাট থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সবজি পরিবহনের খরচ গড়ে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়া-সিলেট রুটে প্রতি ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে গড়ে ৩৬ শতাংশ বা ৮ হাজার টাকা। বগুড়া-চট্টগ্রাম রুটে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ বা ১০ হাজার টাকা। আর বগুড়া-ঢাকা রুটে পরিবহন খরচ বেড়েছে ৩৮ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা। সবজির ট্রাকের ভাড়া বাড়ানোর 'যৌক্তিকতা' তুলে ধরে মহাস্থান হাটের ট্রাক ব্যবসায়ী সৈকত ইসলাম বলেন, 'অবরোধের জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়ে চালকরা রাস্তায় যেতে চায় না। তাদের বেতন বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাস্তা-ঘাটে এখন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। যেকোনো সময় গাড়ি ভাঙা কিংবা পোড়ানোর আতঙ্ক রয়েছে। এ কারণে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।' মহাস্থান বাজারের আড়তদার সমিতি বলছে, এ বাজার থেকে এখন প্রতিদিন অন্তত ৩৫ ট্রাক সবজি ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় যায়। এক ট্রাকে প্রায় ৩০০ মণ সবজি থাকে। মহাস্থান হাট থেকে সবজি সাধারণত বস্তা ও কার্টনে প্রক্রিয়াজাত করে ট্রাকে তোলা হয়। আগে প্রতি বস্তা পণ্য বগুড়া থেকে ঢাকায় পরিবহন খরচ ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এখন ওই পণ্যের পরিবহন খরচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আগে প্রতি ক্যারেটের খরচ ছিল ৭৫ টাকা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়। তবে অবরোধের প্রথম দিকে ট্রাক ভাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল বলে জানান মেসার্স ইশামনি ট্রেডার্সের সহকারী ম্যানেজার জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, অবরোধের শুরুর দিকে এক ট্রাক পণ্য বগুড়া থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর জন্য প্রতি ট্রাকের ভাড়া পড়েছিল ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এখন তা কমে ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকায় নেমেছে। যদিও স্বাভাবিক সময়ে এই পথে ভাড়া দিতে হয় ২৪ হাজার টাকা। মহাস্থান হাট থেকে সবজি কিনে প্রায় ৪০ বছর ধরে সিলেটে বিক্রি করেন মো. সাব্বির হাসান। তিনি জানান, 'রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হঠাৎ পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে এখন সবজির উপর। আগে সিলেটে যাওয়ার জন্য ট্রাক ভাড়া ছিল ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। এখন সেখানে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া বেশি হলেও সবজি সরবরাহ ঠিক আছে।' এদিকে এবার সবজির ফলনও হয়েছে কম। এবার আগাম সবজির ফলন কমার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন জানান, অন্যান্য বছরে সাধারণত অক্টোবর মাসে এত বৃষ্টি হয় না। এবার অতিমাত্রায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে সবজি চাষাবাদ শুরু হতে দেরি হয়েছে। এ কারণে আগাম সবজির ফলন কিছুটা কম হচ্ছে। তবে এখন থেকে যে সবজিগুলো বাজারে আসবে সেগুলোর ফলন অনেক ভালো পাওয়া যাবে। তবে সবজির ফলন কম হলেও, বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় লাভ বেশি হচ্ছে। এতে খুশি কৃষকরা। হাটে অন্তত ১০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার আগাম জাতের শীতকালীন সবজির দাম খুব ভালো। চাহিদা বেশ। অবরোধের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে পণ্য কিনছেন। তবে সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি সবজিতে দাম কমেছে ৪ থেকে ৫ টাকা। এটা কাঁচামালের ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়।
Published on: 2023-11-13 16:48:12.200919 +0100 CET