The Business Standard বাংলা
কোন দেশে সবচেয়ে ভালো রাতের ঘুম হয়?

কোন দেশে সবচেয়ে ভালো রাতের ঘুম হয়?

মানুষের স্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য অংশ হলো ঘুম। জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় পার হয় ঘুমিয়েই। এরপরও ঘুম সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানিনা। বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ঘুমের সময়ের মধ্যে তারতম্য রয়েছে; যেমন– পূর্ব এশিয়ার মানুষ ইউরোপ বা আমেরিকার মানুষের চেয়ে  কম ঘুমায় বলে জানা গেলেও ঘুমের মান সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো দেশের মানুষের মধ্যে রাত জাগার প্রবণতা বেশি থাকলেও, কিছু কিছু দেশের মানুষ আবার ভোরের পাখি। কিন্তু কেন এ পার্থক্য? নতুন এক গবেষণায় খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এর উত্তর। গবেষণাটিতে জানুয়ারি ২০২১ থেকে জানুয়ারি ২০২২ এর মধ্যে পরিধানযোগ্য ডিভাইস থেকে সংগৃহীত বেনামি তথ্য ব্যবহার করে, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর এবং ওরা হেলথ, ফিনল্যান্ডের একটি স্লিপটেক স্টার্ট আপের গবেষকেরা ৩৫টি দেশের ২,২০,০০০ জনেরও বেশি মানুষের ঘুমের অভ্যাস বিশ্লেষণ করেছেন। তারা স্লিপ ট্র‍্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে ঘুমের সময়ে ব্যবহারকারীদের নড়াচড়া, হৃদস্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা পূর্বের থেকে  দীর্ঘ সময় ধরে এবং আরও নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে পেরেছে। আগের গবেষণা অনুযায়ী, যেসব মানুষ ঘুমের পেছনে কম সময় ব্যয় করেন, তারা ওই সময়টা বেশি কাজে লাগাতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণাটি বিশ্বব্যাপী ঘুমের ধরনের ভিন্নতা দেখানোর মধ্য দিয়ে ঘুম সম্পর্কিত প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। যেমন– এশিয়ার  দেশগুলোর মানুষ সাধারণ সাপ্তাহিক দিনগুলোতে সাড়ে ছয় ঘণ্টারও কম ঘুমিয়ে থাকেন, যা বৈশ্বিক গড় থেকে ৩০ মিনিট কম। এর বিপরীতে, উত্তর ইউরোপের দেশগুলো যেমন– এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসহ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মানুষেরা গড়ে সাত ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমাতে যাওয়ার এবং ঘুম থেকে ওঠার বিষয়টি যে একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাও উল্লেখ করা হয় এই গবেষণায়। এশিয়ার মানুষ অন্যান্য দেশের মানুষের তুলনায় গড়ে প্রায় ৩৫ মিনিট পর ঘুমাতে গেলেও প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন। এমনকি, তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বেশি ঘুমিয়ে তা পুষিয়ে  নেন না। *কোন দেশের মানুষ কখন ঘুমোতে যান, আর কখন ওঠেন?* সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে– শিশুর যত্ন, কাজ এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলনের মতো সামাজিক কারণগুলো ঘুমের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। যেমন– ফজরের নামাজ পড়া মুসলিম দেশগুলোতে এবং  ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহে 'ভাত ঘুম' বা 'সিয়েস্তা', ঘুমের ধরণকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ কাজের সময় এবং ঘুমের সময়ের ঘাটতি বিশ্বব্যাপী কাজের ধরণকে প্রভাবিত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মজীবীরা সপ্তাহে গড়ে ৩৬.৫ ঘন্টা পরিশ্রম করেন, যেখানে ডাচ কর্মজীবীরা সপ্তাহে গড়ে ২৭ ঘণ্টা কাজ করে থাকেন। ফলে কোরিয়ার জনগোষ্ঠী  ঘুমানোর সময় গড়ে প্রায় ৪০ মিনিটের মতো কম পায়। সর্বোপরি এই গবেষণা, স্লিপ ট্র‍্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে সংগৃহীত উপাত্ত/ডাটা ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ঘুমের অভ্যাসের জটিলতা বোঝার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ।
Published on: 2023-12-24 11:23:03.233264 +0100 CET