The Business Standard বাংলা
উচ্চ বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হলো বিজনেস সামিট

উচ্চ বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হলো বিজনেস সামিট

তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ বিজনেস সামিট- এর শেষদিনে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ (এফডিআই) নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের ব্যবসায়ীদের একটি শীর্ষ সংগঠন- ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফসিসিআই) এর সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, এই তিনদিনে বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতা ও সুবিধাগুলো বিশ্বের সামনে সফলভাবে তুলে ধরতে পেরেছে। ফলে দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আইসিটি ও পোশাক খাতে আরো বিদেশি বিনিয়োগ আসার আশা করা হচ্ছে। সমাপনী দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জসীম উদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, 'সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশিদের থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় আমরা এখনও আরো আত্মবিশ্বাসী'। সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত যে, বিপুল তরুণ শ্রমশক্তি থাকায় এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বারের মতো ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আরো বেশি এফডিআই আকর্ষণ করবে। প্রায় ১৭ কোটি গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান স্থানীয় বাজারও এতে ভূমিকা রাখবে। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এ ব্যবসায়ী সংগঠনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিন দিনের এ বিজনেস সামিট আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে সৌদি আরব, জাপান, যুক্তরাজ্য, চীন, কোরিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি যোগ দেন। তিন দিনে মোট ১৭টি  প্ল্যানারি সেশনে স্থানীয় ও বিদেশী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে তাদের আগ্রহের পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতাও তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে বেশকিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। এফবিসিসিআই'র পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রধানত তিনটি কারণ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান, স্থানীয় বিশাল বাজার এবং বিপুল তরুণ শ্রমশক্তি। বাংলাদেশে চিনিকল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গ্রিন এনার্জি, সার কারখানায় সৌদি আরব বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও জানায় এফবিসিসিআই। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বিষয়ে তারা এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটিকে বাংলাদেশে পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট স্থাপনেরও আহ্বান জানিয়েছে। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, 'আমাদের প্লাাস্টিক পণ্যের জন্য বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন হয়, যা পেট্রোকেমিক্যাল থেকে আসে। তারা এখানে এ ধরণের প্ল্যান্ট করতে পারে'। তিনি আরো বলেন, এক সময় আমাদের বিদেশিদের বলার মত তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু, দেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের। আর ২০৪১ সালের মধ্যেই তা এক লাখ কোটি ডলারের হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের বানিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আনা সম্ভব বলে মনে করে এফবিসিসিআই। জসীম উদ্দিন বলেন, 'বিজনেস সামিটে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো আলোচনা করা হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমরা আশা করি'। বিজনেস সামিটের মাধ্যমে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা আগামীতে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলেও মনে করে এফবিসিসিআই। *#সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের জন্য যা অপরিহার্য* সোমবার বিজনেস সামিটের এক পৃথক প্লানারি সেশনের আলোচনায় বক্তারা মতপ্রকাশ করেন যে, ভূমি অধিগ্রহণসহ এ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং অর্থায়ন ও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ (পিপিপি) সফল করার জন্য অত্যাবশ্যক। এবিষয়ে আমলাদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান তারা। বক্তারা বলেন, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে পিপিপির যথেষ্ট ভুমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু, ২০১০ সালে এ কার্যক্রম শুরু হলেও তাতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম আখন্দ বলেন, পিপিপি উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের প্রধান বাধা ভূমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন জটিলতা এবং আমলাদের মানসিকতা, যা পরিবর্তন হওয়া দরকার। রাজুক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়েও আলোকপাত করে তিনি বলেন, তাই সরকার পিপিপি কর্তৃপক্ষ গঠন করলেও তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয়। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এর সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় বিধিমালা মেনে চলার বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে, এসব বিষয়ে খরচ কমানোর প্রতি গুরুত্ব দেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজয় পিপিপি প্রকল্পকে সফল করার ক্ষেত্রে জোরালো রাজনৈতিক অঙ্গীকার, স্বীকৃত আইনি কাঠামোর মতো বিভিন্ন বিষয়ে ঘাটতির প্রতিও আলোকপাত করেন। পিপিপি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় লেগে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জং কিউন। তিনি বলেন, আমলান্তান্ত্রিক সমস্যার কারণে বাংলাদেশে এ ধরনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোরিয়ার চেয়ে অনেক দেরি হয়।
Published on: 2023-03-13 18:20:07.006724 +0100 CET