The Business Standard বাংলা
শাওনের ‘বিজ্ঞানপ্রিয়’ এখন অনেকের!

শাওনের ‘বিজ্ঞানপ্রিয়’ এখন অনেকের!

"ছোটবেলাতে আমি এক সমস্যায় পড়ি। শিক্ষক যখন পড়াতেন, তখন তাদের পড়ানোতে কোনোভাবে আমি মনোযোগ দিতে পারতাম না। এজন্য যখন টিউটর রাখা হতো, তাদের কাছেও বেশিদিন পড়তে পারিনি। আমি যখন নিজে নিজে পড়ার চেষ্টা করতাম, তখন দেখতাম নিজেই গভীরভাবে পড়তে গিয়ে অনেক বিষয়ে কৌতুহল জাগছে; কিন্তু যথার্থভাবে উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই। সেসময় মনে হতো, এমন কেউ যদি থাকতো যে বিজ্ঞানের গভীর বিষয়গুলো উত্তর দিতে পারবে! তখন চিন্তা করি এ ধরনের প্রশ্ন করার মতো যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম থাকতো যেখানে প্রশ্ন দেখে অনেকে বিশ্লেষণ করে উত্তর দিতে পারবে। সেই ভাবনা থেকেই 'বিজ্ঞানপ্রিয়' শুরু"- কথাগুলো বলছিলেন 'বিজ্ঞানপ্রিয়'র জনক মোহাম্মদ শাওন মাহমুদ। বিজ্ঞানকে ভালোবেসে অজানাকে জানার এবং জানানোর প্রচেষ্টা থেকেই শুরু করেন বিজ্ঞানপ্রিয়র যাত্রা। সময়টা ২০১৮ সাল। বছরজুড়ে চিন্তাভাবনা করার পর ডিসেম্বরে শাওন মাহমুদ শুরু করেন বিজ্ঞানপ্রিয়কে নিয়ে পথচলা। শুরুতে খুলেছিলেন একটি ফেসবুক গ্রুপ। সেটার জন্য বন্ধুবান্ধবদের বলতেন বিজ্ঞানের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেওয়ার জন্য। সেখান থেকেই শুরু। এখন অবধি বিজ্ঞানের বিষয়ে প্রায় আড়াই লাখের মতো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কৌতুহল মেটানোর চেষ্টা করেছেন জনমানুষের। বিভিন্ন সূত্রের সমন্বয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন শাওন মাহমুদ। প্রশ্নের উত্তর দেওয়াকে পেশা নয় বরং শখ হিসেবেই নিয়েছেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত মোহাম্মদ শাওন মাহমুদ অপবিজ্ঞান কিংবা কুসংস্কার নয়, বরং শুদ্ধতম উপায়ে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই খুলেছিলেন বিজ্ঞানপ্রিয়'র দ্বার। যে লক্ষ্যে বিজ্ঞানপ্রিয় সকলের কাছে তুলে ধরা হয়েছিলো, সেটি অবশ্য সফল। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় 'ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট লাইব্রেরি' হিসেবে বিজ্ঞানপ্রিয় কুড়িয়েছে সুনাম। *'বিজ্ঞান যখন সবচেয়ে প্রিয়'* 'বিজ্ঞান যখন সবচেয়ে প্রিয়'- এটিকে প্রতিপাদ্য করেই এগিয়ে চলছে বিজ্ঞানপ্রিয়। বিজ্ঞানপ্রিয় নামের রহস্যের কথা জানাতে গিয়ে শাওন বলেন, 'যারা বিজ্ঞানপ্রিয়'র পেছনে কাজ করছে, বিজ্ঞান যদি তাদের প্রিয় না হতো তারা কিন্তু সেভাবে কাজ করতে পারত না। তাই আমাদের নাম বিজ্ঞানপ্রিয়।' বিজ্ঞানপ্রিয়'র সার্বিক উদ্দেশ্যের কথা বলতে গিয়ে শাওন জানান, 'আমরা সরাসরি যারা বিজ্ঞানমনস্ক তাদেরকে নিয়ে কাজ করি না। যারা বিজ্ঞানমনস্ক নয় যেমন: পাড়ার কাকু বা খালাম্মা বা কাজের বুয়া বা বিজ্ঞান নিয়ে যাদের পড়াশোনা কম, তাদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক গড়ে তোলা যায় কিনা সে লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। যাদের মাধ্যমে বা যাদের হাত ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিজ্ঞানের প্রতি এবং বিশেষ করে গবেষণার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী হবে, সেই প্রয়াসে আমরা এই কার্যক্রমটা শুরু করেছি।' গবেষণাই বিজ্ঞানপ্রিয়'র মূল আধার। গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরি করে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র ছবিভিত্তিকই নয়, ভিডিওর মাধ্যমেও বিজ্ঞানসম্মত অনেক অজানা তথ্য জনসমক্ষে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা বেছে নেন বিভিন্ন পিয়ার রিভিউড জার্নাল। প্রতিটি কন্টেন্ট প্রকাশের সাথে সাথে তারা জুড়ে দেন তথ্যসূত্র। এর মূল কারণ জানাতে গিয়ে শাওন বলেন, 'আমরা সাধারণ মানুষের বিজ্ঞান নিয়ে আমরা কাজ করি, যাতে সাধারণ মানুষ বোঝে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে তুলে ধরার জন্য আমরা কোর সায়েন্স না বরং পপুলার সায়েন্সটাকে বেশি প্রাধান্য দেই। যাতে মানুষের পক্ষে বোঝা সহজ হয়।' *যেভাবে চলে 'বিজ্ঞানপ্রিয়'র কর্মযজ্ঞ* বিজ্ঞানপ্রিয়'র কাজের ধরনটাও বেশ গোছানো। শুরুতে তারা বছরের কোন দিনে কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবে বা কন্টেন্ট প্রকাশ করবে তার একটা তালিকা প্রস্তুত করে। পরবর্তী সময়ে সেই দিনগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করে। উদাহরণস্বরূপ- ১৯২১ সালের ১৭ মার্চ বিশ্বে প্রথম জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও গর্ভপাত পরিষেবা নিয়ে ড. মেরি স্টোপস লন্ডনে ক্লিনিক গড়ে তুলেছিলেন। এই তথ্যটিকে কেন্দ্র করে তারা পরবর্তী সময়ে উক্ত তারিখে ছবির মাধ্যমে কন্টেন্ট প্রকাশ করে। শাওন বলেন, "আমরা প্রতিবছর একটা শিডিউল রাখি যে এই টপিক নিয়ে আমরা এই দিনে কাজ করবো। কিন্তু যখন কোথাও কোনো গুজব ছড়িয়েছে যেটা বিজ্ঞানের অংশ, যেমন কিছুদিন আগে একটা গুজব ছড়িয়েছিল যে ষাঁড়ের পেটে বাছুর হয়েছে। আবার একজন বয়স্ক নারী মারা গেছেন চার বছর আগে, তিনি নাকি আবার ফিরে এসেছেন। এই ধরনের গুজব যখন ছড়ায়, সেই গুজবগুলোর পেছনে আমরা কিছু কার্যক্রম চালাই। যার মাধ্যমে এগুলো থেকে মানুষ বের হতে পারে। আমাদের কাজ হচ্ছে যেকোনো গুজব বা যেকোনো অপবিজ্ঞান বা কুসংস্কারকে বিজ্ঞানের আওতায় রেখে সেটাকে সমাধান করার চেষ্টা করা।" বিজ্ঞানপ্রিয় বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞানের শুদ্ধতম রূপ পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। শাওন বলেন, "আমরা মূলত টেক্সটেড ভিডিও বানাই। মানুষজন যেহেতু বই পড়া কমিয়ে দিয়েছে, তাই আমরা চাইছি তারা যেন পড়ে পড়ে ভিডিওগুলো দেখে। আমাদের যে ভিডিওগুলো থাকে সেগুলোতে খুব স্পেসিফিক তথ্য থাকে। আমাদের কন্টেন্টের ফুটেজগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়। কিছু কিছু পেইড ওয়েবসাইট আছে, যেখান থেকে আমরা স্টক ফুটেজগুলোগুলো সংগ্রহ করি। তাছাড়া ৩০ শতাংশ ভিডিও নিজেরা মোবাইল দিয়ে রেকর্ড করে তৈরি করি।" *শিশু থেকে বুড়ো: বিজ্ঞান জানবে সবাই* প্রতিদিন ৫টি করে ছবির মাধ্যমে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রচারের কাজ করে বিজ্ঞানপ্রিয়। তাছাড়া দু'দিন পরপর আসে ভিডিও কন্টেন্ট। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানপ্রিয় দেড়শ'র বেশি ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়েছে। সবমিলিয়ে ৪৭ জন সদস্য বিজ্ঞানপ্রিয়তে কাজ করে। ভিডিও এডিটিংয়ের মূল কাজ শাওন মাহমুদ নিজের হাতেই করেন। তবে গ্রাফিক ডিজাইনিং, কন্টেন্ট তৈরির জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে। শাওন বলেন, 'আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট তৌহিদ অন্তর মূলত গ্রাফিক ডিজাইনার। তিনিই সবকিছুর ডিজাইন করেন। তাছাড়া আমাদের কনটেন্ট তৈরির দলে ৬ জন সদস্য আছে। রিসার্চ টিমে ৭ জন কাজ করে। কন্টেন্টের সত্যতা যাচাই থেকে শুরু করে কপিরাইট পড়বে নাকি বা কেউ আগে এর আগে তৈরি করেছে নাকি সেটা যাচাই করে রিসার্চ টিম। আমাদের লেখক ও উপদেষ্টা সহকারে মোট ৪৭ জন সদস্য আছে। আমাদের রাইটার প্যানেলে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত এবং কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক যুক্ত আছেন।' দর্শকের পছন্দের তালিকাতেও বিজ্ঞানপ্রিয় উপরেই রয়েছে। কন্টেন্টে বিজ্ঞানের বিষয় থাকায় তারা চেষ্টা করেন ৮ থেকে ৮০ সবার কাছেই যাতে বোধগম্য হয়, সেভাবে তুলে ধরার। শিশু-উপযোগী নয়, এমন কোনো কন্টেন্ট বিজ্ঞানপ্রিয় থেকে প্রকাশিত হয় না। অনুপ্রেরণা হিসেবে কি কেউ কাজ করেছে নাকি জানতে চাইলে শাওন বলেন, 'আমি নির্দিষ্ট করে কাউকে বলবো না, কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেমন খান একাডেমি, টেন মিনিটস স্কুল- তাদের দেখে সবসময় অনুপ্রাণিত হই। টেন মিনিটস স্কুল দেখে শিখেছি, ফেসবুকের মাধ্যমেও জ্ঞান দান সম্ভব! খান একাডেমি থেকে শিখেছি যে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষামূলক কোনো বিষয় শেখানো যায়। তাছাড়া আমরা সব জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করি।' *আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতায়* বিজ্ঞানপ্রিয়'র কাজ কেবল কন্টেন্ট প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও তারা কাজ করেছে। বিজ্ঞানপ্রিয়'র কর্ণধার শাওন বলেন, 'আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে আমরা অনেকরকম কাজ করি। সেখান থেকে আমরা জানতে পারি যে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। এরপর আমরা তার ফোন নাম্বার সংগ্রহ করি এবং তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। তার সাথে আমরা দুই-তিনদিন নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলাম যাতে এমন কোনো ঘটনা সে না ঘটায়। পরবর্তী সময়ে আমরা তাকে আমাদের বিজ্ঞানপ্রিয়'র দলে যুক্ত করি। যাতে সে আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে এবং আমাদের সাথে কাজ করতে পারে। সে এখন এই কথা সবসময় বলে, বিজ্ঞানপ্রিয় না থাকলে তার সাথে আরো খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারতো।' বিজ্ঞানপ্রিয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে ও ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে- এটি নিয়েই খুশি শাওন মাহমুদ। তাছাড়া ২০২২ সালে বিজ্ঞানপ্রিয় 'জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড' এবং লায়ন ফাউন্ডেশন থেকে 'হিরো অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেছে। *প্রজেক্ট প্রাচি* শাওন ও তার দল নিজেদের টিউশনি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই বিজ্ঞানপ্রিয় চালাচ্ছেন। তবে তারা তাদের 'প্রাচি' প্রজেক্টের জন্য ফান্ডের আবেদন করেছেন। প্রজেক্ট 'প্রাচি'র পূর্ণরূপ হলো প্রাথমিক চিকিৎসা। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আমাদের দেশে কাজ কম হওয়ার কারণেই তারা নিয়েছেন এই উদ্যোগ। শাওন বলেন, 'প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্কুল-কলেজেই আমাদের বেসিক বিষয়গুলো শিখিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন: হাত কেটে গেলে কী করতে হয়, পুড়ে গেলে কী করতে হয়; এখনও পুড়ে গেলে অনেকে ডিম লাগায় বা টুথপেস্ট লাগায়। যেটি আসলে ভুল ধারণা। এই ব্যাপারগুলোর মুখোমুখি হয়ে আমরা চিন্তা করলাম যে আমরা প্রত্যেকটা স্কুলে গিয়ে, প্রত্যেকটা যদি নাও পারি, আমরা প্রত্যেকটা জেলার অন্তত কেন্দ্রীয় স্কুলগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসার ট্রেনিং দেওয়াবো। আমাদের কাছে রেড ক্রিসেন্ট থেকে সনদপ্রাপ্ত তিনজন ট্রেইনার রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসার একটা ট্রেনিং দেবো এবং সরকারের সাহায্য যদি পাই তাহলে সেটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে আমরা অবশ্যই পারবো।' তিনি আরো বলেন, 'সম্প্রতি আমরা অনলাইনে প্রজেক্ট 'প্রাচি'র জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছি। ১৮০০ মানুষ কুইজে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কুইজের মাধ্যমে জানতে পারলাম খুব কম মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা রাখে।' প্রতিবছর বিজ্ঞানপ্রিয়'র হাত ধরে বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন 'নেবুলা' প্রকাশিত হয়। এছাড়াও ঢাকার একটি স্কুলে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সাইবার নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে 'সেভটিনস' নামক কর্মশালার আয়োজন করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও দু'বার আয়োজন করেছেন এমন কর্মশালা। পরিবারের থেকে পুরোদমে সমর্থন পেয়েছেন শাওন মাহমুদ। এমনকি বিজ্ঞানপ্রিয়'র জন্য আর্থিক যে কোন প্রয়োজনেও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন শাওনের বাবা-মা। প্রতিনিয়ত পাশে থেকে জুগিয়েছেন সাহস। মাঝে একাধিকবার উত্থানপতন এলেও থমকে যায়নি শাওনের বিজ্ঞানপ্রিয়। ৪ লাখ ৮০ হাজারের অধিক সদস্য নিয়ে এগিয়ে চলছে বিজ্ঞানপ্রিয়। *ভবিষ্যৎ ভাবনায়* ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে শাওন জানান, 'আমাদের বর্তমান কাজ মূলত ফেসবুককে কেন্দ্র করে। তবে ভবিষ্যতে আমরা ইউটিউবে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করবো। কীভাবে গবেষণাপত্র লেখা যায়, প্রকাশ করতে হয় এই জাতীয় টিউটোরিয়াল আমরা তৈরি করবো।' ২০২২ সালে গুজব কীভাবে ছড়ায় এবং গুজবের সাথে ব্যক্তি কোনোভাবে যুক্ত ছিল কি-না তা জানার জন্য একটি জরিপ করেছিলো বিজ্ঞানপ্রিয়। পুরো জরিপটি বিজ্ঞানপ্রিয় গ্রুপের যেসব সদস্য আছেন, তাদের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছিলো। সেখানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলো। যদিও এখনো গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়নি, তবে তাদের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ৭০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে জীবনে একবার হলেও গুজব ছড়িয়েছে। তাই গুজব ও অপবিজ্ঞান রোধে নিয়মিত কাজ করে যেতে চায় বিজ্ঞানপ্রিয়।
Published on: 2023-03-24 16:07:13.435165 +0100 CET