The Business Standard বাংলা
হোয়াইট হাউসে সেরা বিতার্কিক রংপুরের রাকিব

হোয়াইট হাউসে সেরা বিতার্কিক রংপুরের রাকিব

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সেরা বিতার্কিক হয়েছে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহ মুহাম্মদ রাকিব হাসান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই একটানা ১৪৪টি বিতর্কে জিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রেকর্ড করেছে। মার্কিন সরকার আয়োজিত সংসদীয় বিতর্কে এই অর্জনের নায়ক রাকিব রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই অর্জন নিয়ে বৃহস্পতিবার রাকিবের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)। *টিবিএস: এই প্রতিযোগিতায় আবেদন পদ্ধতি কেমন...?* *রাকিব হাসান:* আবেদন করেছিলাম গত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি। আবেদন অনলাইনে করতে হয়। এখানে কোনো খরচ লাগে না। নিবন্ধন করতেও আসলে কোনো খরচ লাগে না। গুগল মিটের মাধ্যমে বিতর্কে অংশগ্রহণ করি। *টিবিএস: প্রতিযোগিতার দলে আর কে কে ছিল...?* *রাকিব:* 'বিশ্বের ভবিষ্যৎ নেতাদের খোঁজা' শীর্ষক 'হোয়াইট হাউস আন্তর্জাতিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৩' গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইন মাধ্যমে মার্কিন সরকার আয়োজিত সংসদীয় এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের ৭৩ দেশের ৫৩৪ জন বিতার্কিক অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে তিনজন বাঙালি ছিল। আমি বাংলাদেশের রংপুর থেকে অংশগ্রহণ করি। প্রবাসী বিতার্কিক ছিল দুজন। তৌহিদ ও আকবর। তবে তাদের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। আমি আয়োজকদের অনুরোধ করেছিলাম, আমাকে একটি টিম তৈরি করে দিতে। তারা এই দুইজনের সাথে একটি টিম করে দিয়েছিল। সম্ভবত ইউরোপের কোনো দেশ থেকেই তারা অংশগ্রহণ করেছিল। বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফলাফল গত ১৭ মার্চ হোয়াইট হাউসে প্রকাশিত হয়। মার্কিন সরকার প্রতি বছর একটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি বা এশিয়ান পার্লামেন্টারি বিতর্কের আয়োজন করে থাকে। মার্কিনীসহ অংশগ্রহণকারী ৭৩ দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে হোয়াইট হাউস রেকর্ড বুকে দেশের নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে বলে আমি মনে করি। *টিবিএস: এ প্রতিযোগিতায় কোন কোন বয়সের প্রতিযোগী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে...?* *রাকিব:* এই প্রতিযোগিতার জন্য কোনো বয়সসীমা ছিল না। মানে সব বয়সের মানুষই এখানে অংশগ্রহণ করতে পারত বা পারে। অনেকগুলো বিতর্ক হয়েছে। প্রত্যেক বিতর্কে আলাদা আলাদা বিষয় ছিল। ফাইনাল ছিল নেদারল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে। *টিবিএস: পড়াশোনা কোন কোন প্রতিষ্ঠানে?* *রাকিব:* আমি প্রথমে পড়াশোনা করেছি দিনাজপুরের হিলিতে একটা বেসরকারি স্কুলে। এরপর রংপুরে এসে ক্লাস ফাইভে বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজে ভর্তি হই। এরপর ক্লাস সিক্সে পুলিশ লাইনস স্কুলে চান্স পাই। তারপর থেকে এখানেই পড়াশোনা করছি। এখন দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছি। বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে। *টিবিএস: বিতর্কে প্রথম অংশগ্রহণ কখন?* *রাকিব:* ২০১৯ সাল থেকে মূলত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুরু করি। রংপুর টাউন হলে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবার অংশগ্রহণ করে দলগতভাবে আমরা তৃতীয় স্থান অধিকার করি। এরপর ২০২২ সালে রংপুর মহানগর পর্যায়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছি। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে। এরপর ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার পেয়েছি। *টিবিএস: রেকর্ড ভাঙার গল্প...* *রাকিব:* আমি টানা ১৪৪টি বিতর্কে জিতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছি। এ কারণে হোয়াইট হাউস রেকর্ড বুকে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সবশেষ রেকর্ড করেছিলেন লুই অ্যান্ডারসন। তিনি একটানা ১৩৯টি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেন। বাংলাদেশি হিসেবে আমার এই নতুন রেকর্ড অনবদ্য এক অর্জন। *টিবিএস: সেরা দল রাশিয়া, বিতার্কিক রাকিব। কেমন লাগছে?* *রাকিব:* এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাশিয়ান ফেডারেশন, প্রথম রানারআপ হয়েছে কিংডম অভ নেদারল্যান্ডস, দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইনালের সেরা বক্তা হল্যান্ড লোপ মিশিগান (রাশিয়ান ফেডারেশন)। টুর্নামেন্টের সেরা বিতার্কিক হয়েছে শাহ মুহাম্মদ রাকিব হাসান (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ)। এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি। অমূল্য অর্জন। এই অর্জন দেশেরও। তবে এই অর্জনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারিনি। *টিবিএস:* *পুরস্কার নিতে যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার কারণ কী?* *রাকিব:* গত ২৮ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮ টায় ওয়াশিংটন হোয়াইট হাউস সাউথ কোর্ট অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেফ জায়েন্টস। ভিসা পাইনি বলে সরাসরি পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারিনি। *টিবিএস: ভবিষ্যতে কী হতে চাও?* *রাকিব:* আমার মূল যাত্রা বিতর্কে। আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে কসমোলজিস্ট হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। *টিবিএস: পরিবারে কে কে আছে?* *রাকিব:* বর্তমানে আমরা রংপুর শহরের লালকুঠি এলাকায় থাকি। আমাদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার রামরায়পুরে। বাবা শাহ মো. আবু সায়েম পেশায় ব্যবসায়ী। মা মোছা. রোকেয়া বেগম গৃহিণী। আমি জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমরা দুই ভাই এক বোন। বোন বড়। সে একাদশ শ্রেণিতে বিয়াম মডেল কলেজে পড়াশোনা করছে। ছোট ভাই রংপুর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বাবা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন। *টিবিএস: সময় দেওয়ার ধন্যবাদ।* রাকিব: আপনাকেও ধন্যবাদ।
Published on: 2023-03-30 16:22:57.401435 +0200 CEST