The Business Standard বাংলা
ছাঁটাই হওয়া প্রযুক্তি কর্মীরা এখন কোথায়?

ছাঁটাই হওয়া প্রযুক্তি কর্মীরা এখন কোথায়?

সিলিকন ভ্যালিতে গত কয়েক মাসে কী পরিবর্তন হয়েছে, তা বুঝতে হলে খুব বেশি আগে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই মার্ক জাকারবার্গের '২০২৩ সাল হবে কর্মদক্ষতার বছর' ঘোষণার মাধ্যমেই অনেকটা আন্দাজ করা যায়। এই পরিবর্তন হয়তো সাধারণ মানুষের কানে খুব বেশি কিছু মনে হবে না, যদি না কেউ সিলিকন ভ্যালির ছাঁটাই হয়ে যাওয়া কর্মী হন। গত নভেম্বর মাসে ১১,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এই মাসের ১৪ তারিখেই মেটা আবারো ১০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেটাই একমাত্র কোম্পানি নয়। এই মাসের ২০ তারিখে অ্যামাজন তাদের নয় হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে, যারা এর আগেই আরও ১৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে ফেলেছে। ক্রাঞ্চবেজ নামক এক সূত্র অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত এই বছরে আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মোট ১,১৮,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, যে সংখ্যা গত বছরে ছিল ১,৪০,০০০ জন! এবং আরও কর্মীকে ছাঁটাই করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। মার্চের ২৪ তারিখ বিজনেস-সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সেলসফোর্সের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছে, তার কোম্পানিও ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করবে। এদিকে বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই নতুন খরচ-সতর্কতাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। ২০২২ সালের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যে পরিমাণ লোকজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে, তা মোট জনশক্তির মাত্র ৬ শতাংশ। এই কোম্পানিগুলোর জনশক্তি কতটা বড় তা এর মাধ্যমেই আন্দাজ করা যায়। এর সাথে যদি ২০০০-এর দশকের প্রথমদিকে হওয়া ব্যাপক ছাঁটাইকরণের তুলনা করা হয়, তবে দেখা যায় ৬,৮৫,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে জনশক্তি ২৩ শতাংশ কমে গিয়েছে। তবে এরপরেও এই ব্যাপক ছাঁটাইকরণের বিপরীতে দুটো প্রশ্ন চলে আসে যায়। প্রথমত, কারা এই ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছে? এবং দ্বিতীয়ত, এই ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা এখন কোথায় রয়েছেন? কম্পিউটিং টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের টিম হার্বার্টের মতে, বেশিরভাগ প্রযুক্তি কোম্পানিতেই ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর তেমন আঘাত আসেনি। মূল ছাঁটাইকরণ হয়েছে সেলস এবং রিক্রুটমেন্টের মতো বিভাগে। ২০২০ সালের বসন্ত থেকে ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রায় দশ লক্ষ নতুন কর্মীকে নিয়োগ দেয়। এই বিশাল পরিমাণ নিয়োগের জন্য প্রচুর রিক্রুটারের প্রয়োজন ছিল। প্রতি রিক্রুটার বছরে কমপক্ষে ২৫ জন নতুন কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। এই রিক্রুটারদেরকেই এখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ফলে ছাঁটাই করা হচ্ছে তাদেরকে। তবে প্রযুক্তিবিদ বা ইঞ্জিনিয়াররাও যে একেবারেই বাদ পড়ছেন না তা নয়। এপ্রিলে নতুনভাবে মেটা পুরো কোম্পানির কাঠামোকে সাজাবে। প্রতিভাবান প্রযুক্তি কর্মীকে ছেড়ে দেওয়ার অর্থ তারা অন্যান্য খাতের ডিজিটাল উদ্ভাবনে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবেন। বহুদিন ধরেই বিভিন্ন শিল্প খাত এই ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রতিভাবান কর্মীদের অভাবে ভুগছিলো। সিলিকন ভ্যালির এই ছাঁটাইয়ে তারা সেই সুযোগ পেয়েছে। যেমন: জন ডিয়ার নামের এক ট্রাক্টর নির্মাণকারী কোম্পানি ছাঁটাই হওয়া প্রযুক্তি কর্মীদেরকে নিয়োগ দিয়ে তার কোম্পানিতে স্মার্ট ফার্ম মেশিনারি তৈরি করা শুরু করেছেন। গত বছর কোম্পানিটি টেক্সাসের অস্টিনে নতুন অফিস খুলেছে, যেটি সিলিকন ভ্যালির পর নতুন প্রযুক্তি হাব হয়ে উঠেছে। এদিকে সফটওয়্যারের প্রতি আগ্রহী গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিভাদেরকে খুঁজছে। ব্যাংক, রিটেইল দোকান আর স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ছাঁটাইকৃত কর্মীদের একাংশের হাত ধরে আবার নতুন জেনারেশনের স্টার্টআপ তৈরির এক জোয়ার দেখা গিয়েছে। চ্যাটজিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই টুল তৈরির এক বিশাল হিড়িক দেখা গিয়েছে। আশাবাদীরা মনে করছেন এই ছাঁটাইকরণের ফলে এক নতুন 'ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাকশন'-এর জোয়ার শুরু হবে, উদ্যোক্তারা নতুন ধরনের অ্যাপ নির্মাণের দিকে মনোযোগী হবেন। নতুন এআইগুলোর সাহায্য নিয়ে হয়তো এগুলো হবে আরও দ্রুত। আর এর ফলে নতুন ধরনের কাজের সুযোগ হবে, যা এর আগে কেউ ভাবেনি, যেমনটা ভাবা হয়নি ডিজিটাল বিপ্লবের আগে। *সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট*
Published on: 2023-04-01 17:49:56.520178 +0200 CEST