The Business Standard বাংলা
দুশো বছরের এক আশ্চর্য দোকান, যেখানে মেলে দুষ্প্রাপ্য ওষুধও, একসময় মিলত বাঘের দুধ!

দুশো বছরের এক আশ্চর্য দোকান, যেখানে মেলে দুষ্প্রাপ্য ওষুধও, একসময় মিলত বাঘের দুধ!

পাশের ব্যস্ত রাস্তা থেকে রিক্সা, বাইকের হর্নের সঙ্গে মানুষের তুমুল হট্টগোলের শব্দ ভ্যাপসা গরমকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। দুপুরের এই গরমে কড়া রোদ মাথায় নিয়ে একজন এলেন তার স্ত্রীর জন্ডিস আর পেট খারাপের ওষুধ নিতে। কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা শুনে নিয়ে দোকানি সুজিত ওষুধ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আগত লোকটির স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। এ কথা জানার পর আগে লেখা ওষুধ থেকে কয়েকটি বাদ দিলেন। ত্রিফলা পাউডারের বোতল ক্রেতার হাতে দিয়ে তা প্রতিদিন রাতে গুলিয়ে খাওয়ার নিয়ম বলে দিলেন সুজিত। অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতো কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে আর খাবার-দাবারে সতর্ক হতে হবে তা-ও বলে যেতে লাগলেন। তার পরামর্শে যে জিনিসটির বারবার উল্লেখ ছিল, সেটি হলো—'সন্তানকে ছোটবেলা থেকে চিনি, ময়দা আর বাইরের দুধ খাওয়ানো যাবে না। এগুলোর থেকেই সব রোগের উৎপত্তির শুরু, যা বাত ও গ্যাসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগায়।' পুরান ঢাকার নবাবপুর রথখোলার ২০০ বছরের পুরোনো স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ছোট্ট দোকানটিতে সার সার তাকের মধ্যে অনেকগুলো জং ধরা টিনের বাক্স সাজানো। এগুলোর মধ্যেই রাখা আছে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য গাছের শেকড়বাকড়। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ওষুধ হিসেবে দেওয়া হয় এগুলো। আগত রোগীদের কয়েকজন বলেছেন, এগুলো ব্যবহারে তারা সুফল পেয়েছেন। রোগ তো সারেই, এগুলো নিয়মিত সেবনে অনেকেই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারছেন বলে ছোট্ট এই দোকানটিতে বারবার আসেন ভেষজ ওষুধ নিতে। দোকানির আসনে বসে থাকা সুজিত ও তার ভাই বাবুই এখানকার ডাক্তার। কোন রোগের কী দাওয়াই দিতে হবে, সেগুলো কীভাবে সেবন করতে হবে, ওষুধসমেত তারা নিজেরাই বলে দেন। ভেষজ একেকটি উপাদানের গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে তারা রোগীদের সামনে গড়গড় করে বলে যেতে থাকেন। ডাক্তারি পড়াশোনা না থাকলেও কীভাবে তারা এত কিছু মনে রাখেন আর কোথা থেকে শিখলেন—এসব প্রশ্নই তখন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে এত ক্রেতার সমাগম দেখে বুঝতেই পারছিলাম এই ভিড় কমার নয়। তাই কেনাবেচার মাঝেই আগ্রহ থেকে প্রশ্নটি করে বসলাম। দোকানি সুজিত বললেন, 'বংশ পরম্পরায় আমাদের এই ব্যবসা চলছে। দাদা-বাবার থেকে অনেককিছু শিখেছি। আমার পড়াশোনার বিষয় ছিলো বায়োটেকনোলজি এবং মেডিসিন। বায়োটেকনোলজি পড়তে গিয়ে নানা সমস্যার উৎপত্তি ও রোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আর মেডিসিন পড়ার ফলে রোগের ওষুধ সম্পর্কে জেনেছি। 'রোগের কারণ, পরিবারের অন্য কারও আগে এই সমস্যা ছিল কি না—সবকিছু বিস্তারিত জেনে ওষুধ দেওয়া হয়। ওষুধ হিসেবে ভেষজ এসব উপাদানের অনেক গুণাওগুণ ও উপকারিতা রয়েছে। কারণ প্রকৃতি থেকে উৎপাদিত এসব ওষুধ কখনো ক্ষতি করে না। বরং বহু জটিল আর কঠিন রোগের জন্য অনেক আগ থেকে ভেষজ উপাদান ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে অ্যালোপ্যাথি ওষুধের চাহিদা বেশি হওয়ায় কারণ, এটি দ্রুত কাজ করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে চাইলে ভেষজ ওষুধের কার্যকারিতা অনেক বেশি।' *সময়ের সঙ্গে বদলায়নি কিছুই* পুরান ঢাকার রথখোলার এই গলির বেশিরভাগ দোকান বহু পুরোনো। বাইরে থেকে দেখে 'মেসার্স শাহ বণিকের দোকান'কে এমনই এক পুরোনো আর অগোছালো দোকানই মনে হয়েছিল। রংচটা ফাটল ধরা দেয়ালে বাংলা ও ইংরেজি দু-ভাষাতেই বড় বড় অক্ষরে লিখে রাখা হয়েছে দোকানের নাম। কিছু লেখা আবার সময়ের বিবর্তনে রং উঠে ঝাপসা হয়ে গেছে। এই দোকানের বেশিরভাগ আসবাবপত্র ও মালামাল কয়েক প্রজন্ম পুরোনো। সময়ের সঙ্গে সবকিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও, শাহ বণিকের এই দোকানটিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দাদার দাদা যে গদিতে বসে বিক্রিবাট্টা করেছিলেন, সেটি এখনো ব্যবহার করা হয় দোকানের ক্রেতাদের বসতে দেবার জন্যে। দোকানি সুজিত জানান, জং ধরা টিনের বাক্সগুলো তার দাদার আমল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোনো জিনিসের অন্যরকম জৌলুস থাকে, তা মাথার ওপর ঘুরতে থাকা পাখাটি দেখে বোঝা যাচ্ছিলো। ৭০ বছর ধরে এটি একই গতিতে ঘুরে চলেছে। ২০০ বছরে অনেক কিছু বদলে গেলেও, একই জায়গায় ঠায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দোকানটি। কয়েক পুরুষ ধরে চলে আসা বণিকদের এই ব্যবসা এখনো কালের বিবর্তনে টিকে আছে সগৌরবে। বণিকদের এই ব্যবসার ইতিহাস জানা যায় সুজিতের মুখে। তিনি বলেন, 'আমার দাদার দাদা এই দোকানটি শুরু করেছিলেন। তার নাম ছিলো বিলাই বণিক। তখনকার লোকজন অনেক সন্তান নিত, কিন্তু সাধারণ কোনো রোগ হলেই মানুষ মারা যেত। আমার দাদার দাদাদের অনেক ভাইবোন এভাবে মারা যায়। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তার নাতিপুতিদের বাঁচাতে তিনি হেকিমি ও ভেষজ ওষুধের ওপর জ্ঞান নিতে শুরু করেন। সেখান থেকেই এই দোকানটি শুরু হয়েছিল। মানুষ উপকার পেতে শুরু করলে এভাবেই বংশপরম্পরায় এই দোকানের দায়িত্ব একে একে অন্যদের কাঁধে এসে পড়ে। আমাদের বেশিরভাগ ক্রেতা বয়স্ক লোকজন। অল্পবয়সি যারা আসেন, তারাও তাদের দাদা বাবাকে দেখেছে বলে এখানকার ক্রেতা।' পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতেই পুরোনো সবকিছু দোকানের মধ্যে সযত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে। দোকানের ছোট্ট তাকগুলোতে জং ধরা টিনের বাক্সে যেসব ভেষজ উপাদান সাজিয়ে রাখা আছে, সেগুলোর মূল্য টাকার অঙ্কে কম নয়। একসময় এই দোকানে পাওয়া যেত আকড় কাঠ। লোকমুখে এটি আগড় কাঠ নামে পরিচিত। সুগন্ধি ও পারফিউম তৈরিতে এই কাঠ ব্যবহার করা হয়। এক কেজি আগড় কাঠের দাম ৫ লক্ষ টাকার বেশি। দুবাইয়ের শেখরা ঘরে সুগন্ধি হিসেবে এগুলো জ্বালিয়ে থাকে। দাম বেশি বলে এই কাঠের ক্রেতা পাওয়া দুষ্কর। বর্তমানে তাই এই কাঠ দোকানে রাখা হয় না। আগড় কাঠের কথা বলার সময় দোকানি সুজিত হাসতে হাসতে একটি পুরোনো গল্প জুড়ে দিলেন। গল্পটি ছিল তার দোকানে আসা এক ক্রেতাকে নিয়ে, যিনি আগড় কাঠ কিনতে এসে কোনোমতে পালিয়ে গিয়েছিলেন দাম শুনে। 'লোকটা সৌদি থেকে দেশে বেড়াতে এসেছেন। কয়েক বছর আগের ঘটনা এটি। দেশে আসার সময় তার মালিক তাকে বলেছিলেন বাংলাদেশ থেকে কিছু একটা উপহার নিয়ে আসতে। কী নেওয়া যেতে পারে এটা তার সৌদি মালিককে জিজ্ঞেস করলে তিনি আগড় কাঠের কথা বলেন। লোকটি ভেবেছিলেন কাঠের আর এমন কী দাম হবে! তিনি যখন আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন এই কাঠ আছে কি না। আমি তার অবস্থা দেখেই বুঝেছিলাম তিনি এর দাম সম্পর্কে জানেন না। কয়েকটা দোকানে গিয়ে দাম শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে আমার দোকানে ছুটে আসেন। তখন তিনি নিরাশ হয়ে বলছিলেন, সৌদি গিয়ে তার মালিককে বলবেন এই কাঠ কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।'—গল্পটি বলার সময় সুজিত বেশ আনন্দ পাচ্ছিলেন দৃশ্যটি পুনরায় মনে করে। *সংরক্ষণে আছে ৩ হাজারের বেশি উপাদান* দোকানে একজন মধ্যবয়সি ব্যক্তি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে ঢুকলেন। মেয়ের চুল পড়ার সমস্যার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি শ্যাম্পু, স্পা, কন্ডিশনার ও তেল কিনতে এসেছেন। ছোট বোতলের এই প্যাকেজের সবগুলোর দাম পড়ল এক হাজার টাকা। লোকটি জানালেন, তিনি এই শ্যাম্পু ব্যবহার করে ১ মাসের মধ্যে সুফল পেয়েছেন। কিন্তু তার মেয়ের বেলায় এটি তেমন কাজ করছে না, তাই মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। সব শোনার পর সুজিতের সেই পূর্বের পরামর্শ, 'কোনোমতেই চিনি, ময়দা, দুধ খাওয়া যাবে না। এসব থেকে তৈরি খাবারও না।' তার মতে, খাদ্যাভাসে পরিবর্তন না আনলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাবে না। কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তা জানানোর জন্য নিজের ব্যক্তিগত নাম্বার ক্রেতাদের দিয়ে দিলেন। কবিরাজি, হেকিমি ও বনাজী ওষুধ মিলিয়ে ৩ হাজারের ওপর উপাদান রয়েছে 'শাহ বণিকের দোকানে'। দেশের বিভিন্ন জেলাসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, স্পেন ও বিভিন্ন দেশ থেকে এসব বনাজী উপাদান সংগ্রহ করা হয়। বেশিরভাগ উপাদান ব্যবহারের সুবিধার্থে পাউডার করে বিক্রি করা হয়। দোকানের কাছাকাছি তাদের নিজস্ব মিল-কারখানা রয়েছে, যেখানে এগুলো ভাঙিয়ে গুঁড়ো করা হয়। সুন্দর একটি স্টিলের বাটিদানীর মধ্যে দুরকমের তকমা ও দুরকমের ভুষি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলোর ধরনে কী পার্থক্য রয়েছে, তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। ভুষির মধ্যে একটি ছিল বেশি সাদা আর হালকা ধরনের। তকমার পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। একটি মোটা, অন্যটি চিকন আর লম্বাটে। সুজিত জানালেন, সচরাচর বাজারে যে ভুষি পাওয়া যায়, এগুলোর মান তেমন ভালো না। তাদের দোকানে ভারত থেকে আমদানি করে গোল্ড ভুষি আনা হয়। তবে দামের ক্ষেত্রে দুটির তেমন পার্থক্য নেই। ১০০ গ্রাম দেশি ভুষির দাম ২০ টাকা, আর গোল্ড ভুষির দাম পড়ে ৩০ টাকা। তকমা নিয়ে আসা হয় পাটানা থেকে। দেশি ১০০ গ্রাম তকমার দাম ৩০ টাকা, যেখানে পাটানার তকমার দাম তিনগুণ বেশি। টিনের বাক্সে কাগজ এঁটে দিয়ে কোনটায় কী রাখা আছে, তা লিখে রাখা হয়েছে। বৃদ্ধ তারক, কুসুমদানা, অশ্বগন্ধা, আইড়া গোটা, প্রথম চাপের সরিষার তেল, আতশ, কবাব চিনি, শৈলজ, রতনজোত, আকড়কড়া থেকে কত শত নাম যে দেখতে পেলাম। ক্রেতাদের প্রয়োজনমতো দাড়িপাল্লায় মেপে এগুলো বিক্রি করা হয়। দোকানের ভেতরে আরেকটি ঘর আছে। যেখানে বস্তাবন্দি করে সব মালামাল রাখা হয়। রান্না থেকে শুরু করে কাপড় রং, চুলের রং—সবকিছুর প্রাকৃতিক উপাদান শাহ বণিকের এই দোকানে পাওয়া যায়। 'শৈলজ' নামের উপাদান রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। 'রতনজোত' হচ্ছে প্রাকৃতিক এক ধরনের রং। এটি দিয়ে আগেকার দিনে লিপস্টিক বানানো হতো। চুল রং করতেও এটি ব্যবহার করা হয়। খাসির মাংস রান্নায় হালকা রং আনতে রতনজোত ভেঙ দেওয়া হতো। নারীদের রূপচর্চার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি ক্রিম, লিপজেল পাওয়া যায়। 'বৃদ্ধ তারক' এক ধরনের শস্যদানা, যা নিয়মিত খেলে মানুষ সহজে বৃদ্ধ হয় না এবং সুস্থ থাকতে পারে। একেকটি প্রাকৃতিক উপাদানের এমন হাজারো গুণ ও ব্যবহার রয়েছে। 'কবাবচিনি' যেমন সর্দির সময় ম্যানথলের কাজ করে। এটি কিউবা ও ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত হলেও রথখোলার এই ছোট্ট দোকানে পাওয়া যায়। স্পেন ও কাশ্মীরের বিখ্যাত জাফরান রয়েছে 'শাহ বণিকের দোকানে'। যদিও এই 'শাহ বণিক' নামকরণটি তাদের নিজেদের দেওয়া নয়। ঔপনিবেশিক শাসনামলে এই নাম দিয়েছিল ইংরেজ সরকার। *এখানে বাঘের দুধ পাওয়া যেত!* কথিত আছে, ১৮২০ সালে প্রতিষ্ঠিত 'শাহ বণিকের দোকানে' একসময় বাঘের দুধ পাওয়া যেত। সত্যিই কি এই দোকানে বাঘের দুধ কেনাবেচা হয়! সুজিতকে এ কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'এটি অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো হলেও সত্য। তবে বাঘ থেকে দুধ সংগ্রহ করে আনা হয় না। এটি মূলত বাঁশ থেকে উৎপাদিত একধরনের পানি। এই পানি চোখ, ব্রেন, হজম থেকে যেকোনো রোগের জন্য খুব উপকারী ওষুধ বলা চলে। বাঁশ লাগানোর পর থেকে প্রতিদিন পানি দিতে হয়। ঠিক ৫ বছর, অর্থাৎ ১৮৬৭ দিন পর বাঁশটি ৯০ ফুট লম্বা হয়। বাঁশ থেকে কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভেতরের পানি সংগ্রহ করা হয়। প্রতি কেজি পানির দাম ৮ হাজার টাকা। 'ছোটবেলায় গল্পে শোনা যেত রাজারা বাঘ শিকার করে সেই দুধ সোনার বাটিতে রাখত। অন্য ধাতুর পাত্রে রাখলে সেগুলো ফেটে যেতো বা শক্ত হয়ে যেত। বাঘের দুধ যেমন দুর্লভ জিনিস ছিল, তেমনি বাঁশ থেকে যে পানিটা পাওয়া যায় সেটার পরিমাণও অনেক কম। সেখান থেকেই লোকমুখে এটি বাঘের দুধ বলে রূপকথার মতো পরিচিতি পেয়ে যায়।' *নিয়মকানুনের ফর্দ* একটি কাগজের ওপর নিয়মকানুন মেনে কী কী খেতে হবে তার চার্ট করা হয়েছে। দোকানে আসা ক্রেতাদের খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে এই কাগজের নিয়ম মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়। দোকানের নাম ও ঠিকানার সঙ্গে এখানে লেখা আছে, সকালে নিয়ম করে ৩ আঙুলের ১ চিমটি কালোজিরা খেতে হবে। তারপর খেতে হবে এক গ্লাস গরম পানি। ধনিয়া, মেথি ভিজিয়ে রাখা পানি পানসহ পিঁপুল ও মরিঙ্গা নামের মসলা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে হবে। সবশেষে রাতে ১ চিমটি জৈন চিবিয়ে খাওয়ার পর, রোজ ২টা বড়ি খেতে হবে। কালো গোল বড়িগুলো বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণে তারা নিজেরাই বানিয়ে থাকেন। ১ মাসের বড়ির দাম রাখা হয় ২৫০ টাকা। সুজিত ও তার ভাইয়ের ভাষ্যমতে, এই চার্ট মেনে চললে ওভারথিংকিং, মুড সুইং, গ্যাস ও বাতের ব্যাথার মতো অনেক রোগ থেকে নিস্তার মিলবে। সুজিত বলেন, 'একসময় মানুষ ভেষজ ওষুধের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ছিল। তখন ব্যবসার হালচাল এবং বিক্রি অনেক বেশি হতো। করোনার পর মসলা চা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের প্রতি ফের মানুষের ঝোঁক বেড়েছে। আমাদের দাদা-বাবার পর আমি ও আমার ভাই এই দোকানের হাল ধরেছি। পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতে দোকানটিকে নতুন করে সাজানো হয়নি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কী করবে এটা তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের ইচ্ছা আছে এই দোকান ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।'
Published on: 2023-04-24 08:31:34.715235 +0200 CEST