The Business Standard বাংলা
জায়গা কমে আসছে বেডরুমের, এক বছরে মাথাপিছুতে কমেছে ১৭%

জায়গা কমে আসছে বেডরুমের, এক বছরে মাথাপিছুতে কমেছে ১৭%

বেডরুমে মানুষের মাথাপিছু গড় ফ্লোর স্পেস এক বছরে ১৭.৪৭% কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আয় না বাড়ার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা। বিবিএস এর 'বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স ২০২১' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে মাথাপিছু বেডরুমের আকার নেমেছে ৮১.৭ বর্গফুটে। ২০২০ সালে দেশের লোকজন গড়ে ৯৯ বর্গফুটের বেডরুম ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পল্লী এলাকায় ২০২১ সালে গড় ফ্লোর স্পেস ৮৪.১ বর্গফুটে নেমে এসেছে, যা এর আগের বছর ছিল ৯৫ বর্গফুট। এ হিসাবে পল্লীতে মাথাপিছু বেডরুমের ফ্লোর স্পেস কমেছে ১০.৯ বর্গফুট বা ১১.৫%। শহর এলাকায় বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু বেডরুম ব্যবহারের পরিমাণ কমেছে প্রায় ২৯%। আগের বছরের ১০৪ বর্গফুট থেকে কমে শহরে এর আকার গত বছর ঠেকেছে ৭৪.৩ বর্গফুটে। আগের বছরগুলোতে পল্লীর তুলনায় শহরে মাথাপিছু বেডরুমের আকার বড় থাকলেও এবারই প্রথম শহরে মাথাপিছু বেডরুম গ্রামের তুলনায় ক্ষুদ্রতর হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় মাথাপিছু বেডরুমের গড় আকার সর্বনিম্ন ৬৭.৪ বর্গফুট। আর পৌরসভা এলাকায় মাথাপিছু গড় বেডরুমের আকার ৮১.৭ বর্গফুট। আগের জরিপগুলোতে সিটি ও পৌর এলাকায় শয়ন কক্ষের আকারের তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আয় না বাড়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই আগের চাইতে ছোট বাসায় থাকছেন বলে মনে করছেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া অনেকেই সাবলেট ভিত্তিতে বসবাসের কারণেও মাথাপিছু জায়গার পরিমাণ কমছে। এর ফলে প্রায় ২৫% পরিবারকে টয়লেট শেয়ার করতে হচ্ছে বলেও পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনএসডিএ) কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্তরাও আগের চেয়ে ছোট আকারের বাড়িতে বসবাস করছে। তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারার ধনী এলাকায় ৫-৭ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর এলাকা বাদ দিলে মাথাপিছু বেডরুমের মেঝের গড় আয়তন ৫০ বর্গফুটের কম হবে। তিনি আরও বলেন, যারা আগে ১৪০০-১৬০০ বর্গফুটের বাড়িতে থাকতেন তারা এখন ১০০০-১২০০ বর্গফুটের বাড়ি খুঁজছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুটের বাড়িগুলোর, যেগুলোর ভাড়া ১০,০০০ থেকে ১১,০০০ টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম মনে করেন, দ্রুত নগরায়নের কারণে প্রতিবছর গ্রামের অনেক মানুষ কাজের সন্ধানে বড় শহরে চলে যায়। এই মানুষগুলো মূলত শেয়ারে ভাড়া নিয়ে থাকার ফলে সাবলেট ও টয়লেট শেয়ারের হার বেড়ে যায়। তিনি মনে করেন, বেডরুমের ফ্লোর স্পেস কমার পাশাপাশি সাবলেটিং এবং টয়লেট শেয়ার করার মতো বিষয়গুলোর সাথে নগরায়নের সম্পর্ক রয়েছে। *সিটি অঞ্চলে নিজের বাসায় থাকে ২৭.৮৭% খানা* দেশের ১৩.১৬% খানা ভাড়া বাসায় থাকে বলে জানিয়েছে বিবিএস। বিনা ভাড়ায় থাকা আরও ১.৯৭% মিলে অন্যের বাসায় থাকছে মোট ১৫.১৩% খানা। এ হিসাবে সারাদেশে নিজেদের বাসায় থাকে ৮৪.৮৭% খানা। তবে সিটি এলাকায় বসবাসকারী খানাগুলোর মাত্র ২৭.৮৭ শতাংশ নিজেদের বাসায় থাকছেন বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ভাড়ায় থাকা পরিবারের সংখ্যা সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৬৮.৫৮%। এর বাইরে সিটিতে ৩.৫৫% পরিবার অন্যের বাড়িতে বিনা ভাড়ায় থাকেন। সব মিলে সিটিতে অন্যের যায়গায় বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৭২.১৩%। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পল্লী এলাকার ৯৪.৮৩% পরিবারই নিজেদের বাড়িতে থাকে। অবশিষ্ট খানাগুলোর ৩.৪৪% ভাড়ায় ও ১.৭৩% বিনা ভাড়ায় অন্যের বাড়িতে থাকছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় ৩০.২৪% খানা ভাড়ায় ও ২.২৪% বিনা ভাড়ায় মিলে অন্যের বাড়িতে থাকে ৩২.৪৮% খানা। আর নিজেদের বাড়িতে থাকে পৌরসভার ৬৭.৫২% পরিবার। ঢাকা বিভাগের ৬৪.৩৮% খানার নিজস্ব আবাস রয়েছে। বিভাগটির ৩৩.৮৮% খানা ভাড়ায় ও ১.৭৪% বিনা ভাড়ায় মিলে অন্যের বাড়িতে থাকে ৩৫.৬২% খানা। বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহের সর্বোচ্চ ৯৫.১২% খানা নিজেদের বাড়িতে থাকছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। *সাবলেটে থাকছে ২.৮৫% খানা* সারা দেশে ২.৮৫% খানা সাবলেট ভিত্তিতে ভাড়া বাসায় থাকছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "নিম্ন, মাঝারি এবং সীমিত আয়ের গোষ্ঠীর মধ্যে সাবলেট থাকার প্রবণতা বেশি এবং তা মূলত শহুরে এলাকায় বেশি দেখা যায়।" এতে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাগুলোতেই সাবলেটে থাকা পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। পল্লী এলাকায় ২.০৮% খানার বিপরীতে সিটি করপোরেশন এলাকায় সাবলেটে থাকছে ৬.৫৫% খানা। আর পৌরসভায় সাবলেটের হার ৪.৫৭%। ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ৪.২৭ শতাংশের পরই সিলেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪.২৪% খানা সাবলেট থাকে। রাজশাহী বিভাগে সাবলেট থাকছে সর্বনিম্ন ১.৬৯% খানা। *টয়লেট শেয়ার করে ২৫% খানা* দেশের ৭৫% খানার নিজস্ব টয়লেট ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। এর ফলে ২৫% খানাকে টয়লেট শেয়ার করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভাড়ায় থাকা ও সাবলেটের প্রবণতা রয়েছে এমন এলাকাগুলোতেই টয়লেট শেয়ারিংয়ের প্রবণতা বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৩৩.১% খানা টয়লেট শেয়ার করতে বাধ্য হচ্ছে। পৌরসভা এলাকায় ২৫.৪% এর বিপরীতে পল্লীতে টয়লেট শেয়ার করে ২৫% খানা। বিভাগ হিসেবে রংপুরে সর্বোচ্চ ৩১% খানার পরেই রাজশাহীতে টয়লেট শেয়ার করে ২৭.৬% খানা। আর চট্টগ্রামে এর হার সর্বনিম্ন ৯.৮%।
Published on: 2023-04-29 09:46:55.583718 +0200 CEST