The Business Standard বাংলা
বাড়তি মূল্য দিয়েও মিলছে না নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ, দুর্ভোগে টেক্সটাইল শিল্প

বাড়তি মূল্য দিয়েও মিলছে না নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ, দুর্ভোগে টেক্সটাইল শিল্প

*জাতীয় গ্রিডে সরকারের অতিরিক্ত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস সরবরাহের পদক্ষেপের পরেও সংকটে রয়েছে দেশের টেক্সটাইল শিল্প। জানা গেছে, রমজানে বেশকিছু গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় চালু হয়েছে। সরবরাহকৃত অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব প্ল্যান্টে।* বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, তারা গ্যাস সরবরাহে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। "রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাতে পুনরায় চালু হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সরবরাহকৃত গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশেষায়িত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এর ফলে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের পরেও তেমন সুবিধা পাচ্ছে না ওই অঞ্চলের টেক্সটাইল কারখানাগুলো," বলেন ওই কর্মকর্তা। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে প্রায় ১০০টি টেক্সটাইল মিল রয়েছে। জানা গেছে, গ্যাসের জন্য উচ্চ মূল্য পরিশোধ করেও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছে না মিলগুলো। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প। বিটিএমএ'র পরিচালক আরও বলেন, "গাজীপুর ও মাওনা এলাকার কারখানায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তারপরেও চাহিদা মেটাতে সেটি যথেষ্ট নয়।" ক্যাপটিভ পাওয়ার তৈরির জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি গ্যাস ব্যবহার হয় টেক্সটাইল মিলগুলোতে। টেক্সটাইল মিলগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি মোহম্মদ আলী খোকন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "একদিকে বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে, আবার সাপ্লাই ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অনেক কারখানার ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ অবস্থায় চলে এসেছে। এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।" গত ফেব্রুয়ারি থেকে সরকার শিল্পে ব্যবহার হওয়া গ্যাসের মূল্য সর্বোচ্চ ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে; এ সময় সরকার নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শিল্প মালিকরা বর্ধিত গ্যাসের মূল্য দিয়ে আসছেন, একইসঙ্গে দিচ্ছেন বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যও। কিন্তু প্রতিশ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি লোকসানে পড়ে কোনো কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন উদ্যোক্তারা। অবশ্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর তথ্য বলছে, গ্যাস উৎপাদনে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে আরো কিছুটা উন্নতি হওয়ার আভাস রয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে সরকার। দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে মহেশখালী বন্দরে এসেছে পৌঁছানোয় প্রায় ৩০০ এমএমসিএফ এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেছেন, এপ্রিলের মধ্যে আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। কর্মকর্তা অবশ্য উল্লেখ করেন, যোগ হওয়া গ্যাসের পরিমাণ ২০০ এমএমসিএফে নেমে এসেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুয়ায়ী, দেশে প্রতিদিন ৩,৬০০ থেকে ৪,০০০ এমএমসিএফ গ্যাস চাহিদা রয়েছে। গত জানুয়ারিতে দৈনিক সরবরাহ ছিল ২,৬৫০ এমএমসিএফের মতো। বর্তমানে তা বেড়ে ২,৯০০ এমএমসিএফে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় তা ৬০০ থেকে ১,০০০ এমএমসিএফের ঘাটতি রয়েছে। এদিকে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম পরিবর্তন হলে, স্থানীয় বাজারে তা সমন্বয় করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও তা করা হচ্ছে না, যা নিয়ে উদ্যোক্তাদের অসন্তোষ রয়েছে। গ্যাসভিত্তিক শিল্প খাতের অন্তত ১০ জন উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে গ্যাস এলাকার কিছু এলাকায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অথচ তাদের প্রায় আড়াইগুণ বাড়তি বিল গুণতে হচ্ছে। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেমইএ) নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিয়মিত বিরতিতে গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে দুই-একদিনের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যানডার্ডকে জানিয়েছেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে রূপগঞ্জ-ভিত্তিক এক টেক্সটাইল মিলার বলেন, কোনো যুক্তি ছাড়াই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এরপরেও গ্যাস সংকটের কারণে গড়ে ৫০ ভাগ সক্ষমতার নিচে চলছে মিলগুলো। তিনি বলেন, "রমজানে আমাদের আড়াই গুণ গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হবে; তিতাসের অতিরিক্ত চার্জ, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে হবে। ব্যবসা না করে কীভাবে এত বড় খরচ মেটানো যায়, তা আমাদের জানা নেই।" পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে সামনের তিন মাসের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মিল টিকে থাকা থেকে ছিটকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। "যদি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, মিলগুলো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবে না; আরেকটি ওয়েকবোর্ড আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে", যোগ করেন তিনি।
Published on: 2023-04-08 10:41:14.744657 +0200 CEST