The Business Standard বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির প্রতিক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলো বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির প্রতিক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলো বাংলাদেশ

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রত্যাহার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দেওয়া বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার স্বার্থে দেশের সব স্তরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দ্ব্যর্থহীন অঙ্গীকারের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে মার্কিন এই ঘোষণাকে বিবেচনায় নিতে চায়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে স্পষ্টতই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ধারাবাহিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দেশের মানুষ অভূতপূর্ব আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নিরবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে যেখানে ২০০৬ সালে দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল; ২০২২ সালে এসে তা হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই সময়ের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার ২৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখন একটি আন্তর্জাতিক রোল মডেল বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মধ্যে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উত্তরণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকারের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। বাংলাদেশে কোনো সরকারের ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার নজির নেই। জনগণের ভোটাধিকারকে আওয়ামী লীগ সরকার পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের জন্য দলটিকে নিরলস সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। সরকার সব ধরনের বৈধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য শান্তিপূর্ণ সভা ও সমাবেশকে গুরুত্ব দেয় বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নির্বাচনী সংস্কারের প্রক্রিয়া চলে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে জারি করা ১ কোটি ২৩ লাখ জাল ভোটারের বিষয়টি সুরাহার জন্য ছবিসংবলিত ভোটার পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছে। ভোটারদের পাশাপাশি ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টদের মধ্যেও আস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালুর বিধান চালু হয়েছে। এছাড়া, জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) অব্যাহতভাবে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে নিজের কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে গৃহীত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, পুরো নির্বাহী প্রশাসন বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থেকে কমিশনের নির্দেশিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালনে করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে যাতে আপস করতে না হয় সেজন্য সরকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের আইনবহির্ভূত চর্চা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়া কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। আরো বলা হয়, সরকার আশা করছে, স্থানীয় যেসব অগণতান্ত্রিক শক্তি সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তারা সতর্ক থাকবে এবং সংবিধানে নির্দেশিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে তাদের বিভ্রান্তিকর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অর্জনকে ধরে রাখা পুরোপুরি দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতি সরকার জোরালো সমর্থনের প্রশংসা করে।
Published on: 2023-05-25 10:48:48.612162 +0200 CEST