The Business Standard বাংলা
বিদেশি ঋণে ২০ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা

বিদেশি ঋণে ২০ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা

সরকার বিদেশি ঋণের সুদের উপর ২০ শতাংশ কর আরোপ করতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এতে বিদেশি ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এমনিতেই বেকায়দায় আছেন। এর মধ্যে যদি আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের বোঝা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে বাড়বে সরকারের বোঝাও। আসন্ন বাজেটে বিদেশি ঋণের করমুক্ত সুদ প্রদানের বিদ্যমান সুবিধা প্রত্যাহার এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বাজেটে দ্বৈত করারোপন পরিহার চুক্তি (ডিটিএএ) অনুসরণও নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। অন্যদিকে খসড়া আয়কর আইন ২০২৩-এ অন্যান্য আয়ের উপর কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা মূল ব্যবসার ক্ষতির বিপরীতে নির্ধারণ করা হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী এসব পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও বলেন, খসড়া আয়কর আইনের ৫৬ ধারার আওতায়, পেমেন্টের সময় সব ধরনের সুদের ওপর ২০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে। নতুন আইনে সব অস্পষ্ট বিষয় স্পষ্ট করা হবে জানিয়ে তারা বলেন, সংসদে যদি আইনটি পাশ করা হয়, তাহলে সুদ প্রদানের উপর উৎসে কর কর্তন বাধ্যতামূলক হবে। কোনো কোম্পানি যদি আন্তঃকোম্পানি ঋণ থেকে সুদ পায়, তবে নতুন আইন অনুসারে তাদেরও কর দিতে হবে। অন্যদিকে অনেক কোম্পানি লোকসান দেখাচ্ছে, কিন্তু অন্যান্য উৎস থেকে বড় মুনাফা করছে। নতুন আইনে এই লোকসান সমন্বয় সুবিধাও বাতিল করা হবে। সূত্র জানায়, আয়কর আইনটি আগামী ৪ জুন সংসদে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার এমন ব্যবস্থা নিলে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া অর্থের প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী নেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বলেন, বাজেটের এই পদক্ষেপে বৈদেশিক ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। ব্যবসায়ীদের যদি অন্য উৎস থেকে এই আয়ের ওপর অতিরিক্ত কর দিতে হয়, তাহলে এটি ব্যবসার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কর বিশ্লেষক স্নেহাশিষ বড়ুয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'ঋণদাতা যদি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা না হয়, তাহলে বিদেশি ঋণদাতার সুদের আয় থেকে কর অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হলে কোম্পানির ব্যয় বাড়বে। বাংলাদেশ এখনও কোনো ঋণদাতা দেশের সঙ্গে দ্বৈত করারোপন পরিহার চুক্তি স্বাক্ষর করেনি।' সাধারণত ঋণ দেওয়া ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের ব্যবসা। তবে আন্তঃকোম্পানি ঋণও বৈধ, যদি সেটি এজিএম-এ অনুমোদিত হয়। এখন আন্তঃকোম্পানি ঋণ থেকে কোনো সুদ এলে তার ওপরও টিডিএস আরোপ করা হবে। সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ঋণদাতা কোম্পানিকে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের সময় তার সুদের আয়ের ওপর কর দিতে হবে। সুদের আয়ের উপর ঋণগ্রহীতার কর্তিত কর সমন্বয় করার পর কোম্পানিকে কর দিতে হবে। স্নেহাশিষ মাহমুদ অ্যান্ড কোং-এর প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার স্নেহাশিষ বলেন, 'ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তাদের আয় সঞ্চয় করে এবং কঠিন সময়ের জন্য সেভিংস ডিপোজিটে বিনিয়োগ করে। এ ধরনের ডিপোজিট থেকে প্রাপ্ত আয় এখন অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসাবে বিবেচিত হয়। এখন সময় যখন খারাপ যায়, তখন ব্যয় মেটানো হচ্ছে এই আয় দিয়ে। 'প্রস্তাবিত আইন অনুসারে, ব্যবসায়িক ক্ষতির বিপরীতে যদি অন্যান্য আয় বন্ধ করা না যায়, তবে অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত এই আয়ের উপর অতিরিক্ত কর দিতে হবে ব্যবসায়ীদের, যা তাদের জন্য বোঝা বাড়াবে।' এনভয় টেক্সটাইল কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে আমরা কঠিন সময় পার করছি, তাই বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য একটি নীতিমালা দরকার। 'সরকার যদি শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এটি মূলধন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতির মূল্য পরিশোধের জন্যই এই অর্থ ব্যবহার করছি।' বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯৬.২৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণ ছিল ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১১.১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
Published on: 2023-05-30 19:29:57.185309 +0200 CEST