The Business Standard বাংলা
বৃষ্টিতে স্বস্তি, লোডশেডিং কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ

বৃষ্টিতে স্বস্তি, লোডশেডিং কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে সার্বিক জনজীবনে। চাহিদা কমে যাওয়ায় লোডশেডিংও অনেকটা কমেছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুরে (সোমবার, ১২ জুন) লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১১ হাজার ১২৮ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৩৭২ মেগাওয়াট। বৃষ্টির প্রভাবে বিদ্যুতের চাহিদা কমে এসেছে। এতে বিদ্যুতের আরো সুষম বন্টন সম্ভব হয়। ভোক্তাদের কাছেও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ২০ স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৭ মিলিমিটার (এমএম) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি এবং নীলফামারীর ডিমলায় ৩২ এমএম, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৩১ এমএম এবং কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২০ এমএম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওমর ফারুক আরো বলেন, এসব অঞ্চলের তুলনায় অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টিপাতের মাত্র ছিল কম, ১ থেকে ২ এমএম। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রাও কমে আসে। ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ থেকে ৩১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। যেখানে এপ্রিলে রেকর্ড করা হয় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ৫৮ বছরে ছিল সর্বোচ্চ। রবিবারও (১১ জুন) লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। ১৩ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল ১১ হাজার ৯৭৬ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল এক হাজার ২৬৪ মেগওয়াট। এর আগে ৬ জুন রাত ১টা নাগাদ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। তখন মোট চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৪৬ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ছিল মাত্র ১১ হাজার ৪৮০ মেগাওয়াট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশের বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর এ বছর এটি রেকর্ড লোডশেডিং ছিল। এর আগেরদিন (৫ জুন) এক হাজার ৩২০ মেগওয়াটের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সেদিন লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ২১৩ মেগওয়াট। কয়লার অভাবে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটও সেদিন বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ এই বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১১৪ দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাতে বাধ্য হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২২ সালে কমাতে হয়েছিল ১১৩ দিন। বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃপক্ষ অবশ্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ এনে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করেছে। এস আলম গ্রুপের বাঁশখালীর এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। পাওয়ার প্লান্টটি এখনো তার বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার পরীক্ষা সম্পন্ন করেনি, যে পরীক্ষা বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পূর্বশর্ত। ১৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করার পর, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এপ্রিল মাসে আবার ১৫ হাজারের মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। রামপাল বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাওয়ার প্ল্যান্টের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ ঘাটতি দেখা দেয়।
Published on: 2023-06-12 14:17:21.503326 +0200 CEST