The Business Standard বাংলা
সমাবেশকে ঘিরে আটক করা হচ্ছে দলের নেতাকর্মীদের: বিএনপি

সমাবেশকে ঘিরে আটক করা হচ্ছে দলের নেতাকর্মীদের: বিএনপি

আজকের সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় প্রবেশের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের চেকপোস্টে আটক ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি। *আমিনবাজার* বিএনপির গণসমাবেশের আগে ঢাকার আমিনবাজারের প্রবেশপথে চেকপোস্ট থেকে পুলিশ ৫০ এরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতারা। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আমিনবাজার পুলিশের চেকপোস্ট থেকে এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সকালে সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তার ছোট ভাই মো. আজাদুলকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আটককৃত আজাদুল ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে। অপরদিকে ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, সকালে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীতে দলীয় সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের অন্তত ৪০টি হাইয়েস মাইক্রো আটকে দিয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "এটি আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ, বিশেষ কোন কারণে এটি পরিচালিত হচ্ছে না।" এসময় চেকপোস্টে ধীরগতির কারণে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট ও যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাভারের বাসিন্দা রাসেল জানান, সকাল ৯টায় তিনি মিরপুরের বাসে উঠেন। কিন্তু কিছুদূর পরই দীর্ঘ জ্যামের মধ্যে পড়েন। আর কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে হেঁটেই আমিনবাজার পৌঁছান তিনি। ওই রুটের একজন নিয়মিত বাস চালক বলেন, "আমি প্রায়ই আমিনবাজারে চেকপোস্ট দেখি। কিন্তু আজ অনেক বেশি সময় লাগছে। দেড় ঘণ্টা আটকে আছি, কখন আমিনবাজারে পৌঁছাবো জানি না। অনেক যাত্রী পায়ে হেঁটে আমিনবাজারের দিকে রওনা দিয়েছে।" পুলিশকে চেকপোস্টে যাত্রী ও পথচারীদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে। *কুমিল্লা* কর্মসূচিতে যেতে 'গুপ্ত বাধার' সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন কুমিল্লার বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি মহাসড়কে গাড়ি বন্ধ না করা হলেও নিজেদের রিজার্ভকৃত বাসে করে তারা কর্মসূচিতে যেতে পারছেন না। তাই কুমিল্লা থেকে ঢাকার অন্যান্য বাসে করে যাত্রা করছেন তারা। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা যুবদল কর্মী আরিফুল ইসলাম জানান, "ঢাকায় কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য আমরা ১০টি গাড়ি ভাড়া করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বাস চালকেরা ঢাকায় যেতে অপরাগতা প্রকাশ করে।" কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন জানান, "আজকের কর্মসূচি বানচাল করতে একটি পক্ষ গুপ্তভাবে কাজ করছে। তারা নানা হুমকি দিয়ে বাস চালকদের জিম্মি করছে।" তিনি জানান, কর্মসূচিটি মূলত ঢাকার হলেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন যাবার জন্য বাস ভাড়া করে। কিন্তু কুমিল্লা থেকে ভাড়াকৃত কোনো বাসই আজ ঢাকা যেতে রাজি হয়নি। *টাঙ্গাইল* ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল থেকে যাত্রা শুরু করা মাইক্রোবাসে বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৩ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ধামরাই থেকে নাগরপুর উপজেলার ১৬ বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অপর দিকে বিএনপির নেতা কর্মীদের নিয়ে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঢাকার মহাসমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্য মঙ্গলবার রাতে বাসযোগে যাত্রা শুরু করে। তারা গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা এলাকায় আসলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এসময় একটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করা হয়। তিনি আরো জানান, বিষয়টি গোপালপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাটি বিষয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। গোপালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন ভুইয়া বলেন, "ঘটনা জানার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশের মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাইনি। পরে জেনেছি তাদের নাকি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ থানায় দায়ের করেননি।"
Published on: 2023-07-12 11:42:38.493416 +0200 CEST