The Business Standard বাংলা
ওল্ড ইজ গোল্ড: বয়স্ক জনগোষ্ঠী কি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অপ্রত্যাশিত শক্তি হতে পারে?

ওল্ড ইজ গোল্ড: বয়স্ক জনগোষ্ঠী কি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অপ্রত্যাশিত শক্তি হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে জাপান ও চীন– বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর জনসংখ্যায় – বয়স্কদের সংখ্যাই বাড়ছে দিনকে দিন। বৈশ্বিকভাবে ৬৫ বছর বা তাদের বেশি বয়সীদের সংখ্যাটা ২০২১ সালে ছিল ৭৬ কোটি ১০ লাখ, যা আগামী ৩০ বছরে দ্বিগুণ হয়ে ২০৫০ সাল নাগাদ ১৬০ কোটি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় প্রতি চারজনের একজন হবেন ৬৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে। এমনকী এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয় অঞ্চল এবং সাব-সাহারা – বর্তমানে যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর বসবাস – সেখানেও জনসংখ্যার মধ্যে বাড়বে এই বয়সীদের অংশ। ২০২২ সালে তা ৩ শতাংশ থাকলেও, ২০৫০ সালে হবে ৫ শতাংশ। যাদের বয়স ৬৫'র কম, তারাই বৃহৎ উৎপাদনশীল কর্মীবাহিনী হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। কিন্তু, ২০১৮ সালেই প্রথমবারের মতো ৫ বছর বয়সীদের ছাড়িয়ে যায় ৬৫ বছর বয়সীদের সংখ্যা। অর্থাৎ, জন্মের মাধ্যমে যত শিশু বয়স্কদের প্রতিস্থাপন করার কথা সেটা হয়নি। এক্ষেত্রে গড় আয়ু বেড়ে যাওয়া এবং কম জন্মহার অন্যতম কারণ। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে অন্যদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বাড়বে এমন ইঙ্গিতও মেলে। জনসংখ্যা এভাবে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ঘিরে। কারণ, কিছু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বয়স্কদের আধিক্য বেশি এমন সমাজে আয় প্রবৃদ্ধির গতি কমে যায়। তবে সুখবর হলো, এমন প্রমাণও মিলছে যে, উন্নত অর্থনীতিগুলো যদি তাদের বয়স্ক নাগরিকদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে – তাহলে অর্থনীতিতে বুড়িয়ে যাওয়ার এই নেতিবাচক প্রভাবগুলো শুধু ঠেকাতে পারবে তাই-ই নয়, বরং একে একটি সুবিধাতেও রূপ দিতে পারবে। তাহলে কি ধরে নেওয়া যায়, যে বিশ্বে একটি উচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে?  তাহলে কি বয়স্ক জনগোষ্ঠী অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিজেদের নতুনভাবে নিয়োজিত রাখার উপায় খুঁজে পাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অর্থনীতিবিদ ও জনসংখ্যাবিদদের সাথে কথা বলেছে কাতার-ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। এ নিয়ে তারা বিস্তারিত অনেক কিছুই তুলে ধরেন, যার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে – বয়স্কদের বাড়তি উপস্থিতি মোট দেশজ পণ্য উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করলেও, খুব সম্ভবত মাথাপিছু আয়ে প্রভাব ফেলবে না। আর বেশিরভাগ মানুষের কাছে সেটাই মূল চিন্তার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি– বয়স্ক জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে। এতে (তরুণ) কর্মীবাহিনী কমার শূন্যতা পূরণ হবে এমন সম্ভাবনাও আছে। তাছাড়া, বয়স্ক প্রজন্মের সঞ্চিত আয় ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের চালিকাশক্তি হতে পারে। এই কাজটা সহজ নাহলেও, সেটা কীভাবে সম্ভব, ইতোমধ্যেই কিছু দেশ তা করে দেখিয়েছে। *সিলভার স্লোডাউন* কর্মক্ষম বা কর্মমুখী বয়সের জনসংখ্যাকে ২৫ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত হিসাব করে জাতিসংঘ। জনগণের মধ্যে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্বদের সংখ্যা বেড়ে চললেও – বৃদ্ধ ও নবীনদের সংখ্যায় বেশি হেরফের না হওয়ায় – অধিকাংশ উন্নত দেশগুলো এপর্যন্ত এক ধরনের অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থার মধ্যেই রয়েছে। অন্যদিকে, তীব্রভাবে জন্মহার কমে আসায় পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বর্তমানে কর্মক্ষম (২৫-৬৪ বছর) জনসংখ্যার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বয়স্ক নাগরিক রয়েছে। কিন্তু, তাদের এই কর্মক্ষম জনসংখ্যা, বয়স্কদের তুলনায় হয় সমান হয়ে আসছে, অথবা তার চেয়েও নিম্নমুখে ধাবিত হচ্ছে। এর বিপরীতে, ২০৪৫ সাল পর্যন্ত মধ্য, দক্ষিণ ও  পশ্চিম এশিয়ায় বৃদ্ধির পথেই থাকবে কর্মক্ষম জনসংখ্যা। সাব-সাহারা আফ্রিকায় যা অব্যাহত থাকবে ২০৫০ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের সময়কাল অঞ্চলভেদে পৃথক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্বিকভাবে এর পরিণতিগুলোর মধ্যে মিল থাকবে। সাধারণত কর্মমুখী জনসংখ্যার সমাজে ভোগ-চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্যের উৎপাদন হয়। ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের মতোন নির্ভরশীল বয়স-শ্রেণির জন্য পণ্যের উদ্বৃত্ত সরবরাহও থাকে। পণ্যের সরবরাহ কম থাকলে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর পেছনে সামাজিক ব্যয় বেড়ে যায়। এর পরিণতি ব্যাখ্যা করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের জনসংখ্যাবিদ্যার অধ্যাপক রোনাল্ড লি বলেন, "বয়োবৃদ্ধদের সংখ্যা বাড়ার ঘটনায় কর্মক্ষম মানুষের ওপর আরো চাপ বাড়ে, কারণ নির্ভরশীল জনসংখ্যার দেখভালের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের আরো আয় করতে হয়।" সার্বিকভাবে জনসংখ্যা এবং শ্রমশক্তি বৃদ্ধি কমে গেলে তা সমান অনুপাতে (১:১) জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলে। কিছুক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে সার্বিকভাবে বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা জিডিপির ওপর আরো মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে দেখান চীনকে। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ থেকে প্রতিবছর চীনের কর্মক্ষম বয়সীদের সংখ্যা বার্ষিক ১.৫ শতাংশ হারে বেড়েছিল। কিন্তু, ২০২০ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে তা ১ শতাংশ করে পতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, "এতে ২.৫ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাতে পারে চীন"। অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বর্তমান হারে থাকলেও তা ঘটবে। অবশ্য, তিনি এটাও বলেছেন যে, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সাথে অর্থনীতি কীভাবে তাল মেলায় – তার একমাত্র সূচক নয় জিডিপি। কারণ, জনকল্যাণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে আয়ের পরিমাণ, যা জিডিপির মাথাপিছু বন্টন অনুসারে হিসাব করা হয়। তাই একটি দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি মন্থর হওয়া বা পড়তির দিকে থাকার সময়েও – মোটামুটি গ্রহণযোগ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলে, মাথাপিছু আয় প্রবৃদ্ধি সেভাবে দুর্বল হবে না। এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গবেষণার ফলাফল। গবেষক জনাথন সাইলাস এবং লিন আল তায়ারা ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮০টি দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে মাথাপিছু আয়ের তথ্যউপাত্ত নিয়ে একটি গবেষণা করেন। সেখানে দেখা গেছে, এই প্রভাবটা ন্যূনতমও হতে পারে। সাইলাস লন্ডন হাবস অব দ্য ইউরোপিয়ান অবজার্ভেটরি অন হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পলিসি-র প্রধান এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের একজন জ্যেষ্ঠ ফেলো। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, "আমাদের গবেষণা বলছে এক্ষেত্রে বয়স ততোটা প্রভাব ফেলে না, বরং মূল প্রভাবক হচ্ছে (বয়স বাড়ার পরও) শ্রমশক্তির কর্মে নিয়োজিত থাকার সক্ষমতা।" অর্থাৎ, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাই এখানে পার্থক্য গড়ে দেয়। সাইলাসের মতে, "উৎপাদনশীলতা যাচাইয়ের প্রাথমিক একটি মানদণ্ড- বয়স; এটা চূড়ান্ত কিছু নয়। কারণ, অনেকেই ৭০ বছর বয়সেও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং নিরলস কাজও করতে পারেন।" *দ্বিতীয় জনমিতিক লভ্যাংশ* কর্মের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে যে জনগোষ্ঠীকে ধরা হয়েছে, অর্থাৎ ২৫ - ৬৪ বছর – তাদের সংখ্যা যখন বয়স্কদের তুলনায় বেশি থাকে; এবং তারা যখন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ অবদান রাখতে পারে, তখন তাকে জনমিতিক লভ্যাংশ এবং অর্থনীতির একটি সুবিধা হিসেবে প্রায়ই মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাবিদ গ্রেচেন ডেনোহাওয়ার বলেন, এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি একটা ধারণা পোষণ করা উচিত বিভিন্ন দেশের সরকারের। সেটা হচ্ছে, দ্বিতীয় জনমিতিক লভ্যাংশের। অর্থাৎ, কাজের সবচেয়ে উপযুক্ত বয়স পেরোনোর পরও বয়স্করা অর্থনীতিতে যে অবদান রাখতে পারবেন, তাকেই দ্বিতীয় জনমিতিক লভ্যাংশ বলছেন তিনি। "ধরে নিন, আপনার দেশের গড় জনসংখ্যার বয়স বাড়ছে, আর সেটা হচ্ছে স্থায়ীভাবে। এখন বেশি বয়সী এই জনসংখ্যার কিন্তু একটা ভালো সঞ্চয় আছে, এই পুঁজিকে তখন বিনিয়োগ করা যাবে। তাই যদি আপনার শ্রমশক্তি সীমিতও হয়, আপনি পুঁজি দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারবেন" আল জাজিরাকে বলেন তিনি। পুঁজির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি,  স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির মাধ্যমে যে উৎপাদন বেশি করা যায় –সেকথাই বলেছেন গ্রেচেন। এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোই সে সুবিধা নিতে পারবে। কারণ, তাদের নাগরিকদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা আছে। উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানেরও কমতি নেই। যেসব উন্নয়নশীল দেশ যদি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জীবনযাপনের ব্যয়কে সহনীয় রাখতে পারছে – তারাও পাবে এই সুবিধা। গ্রেচেন মনে করেন, এর ফলে কোনো দেশের অর্থনীতি যখন চাঙ্গা হবে, তখন দেশটি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। দেশটিতে শিশু সংখ্যা কম হওয়ায়, তারা আরো উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা পাবে। এই শিশুরা বড় হয়ে আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদনশীল ও সৃজনশীল অবদান রাখবে। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে চাইলে, সরকারগুলোকে অর্থনীতির সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে; যাতে সব বয়সীরাই প্রযুক্তির সহায়তায় আরো পণ্য বা সেবা উৎপাদন করতে পারে। রোনাল্ড লি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের সংখ্যা বেশি এমন সমাজ দ্রুত কায়িক শ্রম-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে। ফলে তাদের শিল্প ও সেবাখাত হয়ে ওঠে আরো বেশি পুঁজিঘন, এতে অন্যান্য দেশের তুলনায় তাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়ে যায়। *উভয় সংকট থেকে মুক্তির উপায়* অর্থনীতিবিদরা আবার এটাও বলেছেন, কিছু দেশ বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে, আরেক দিক দিয়ে পেছাচ্ছে। সেটা হলো- তারা কর্মের উপযুক্ত বয়সী (২৫-৬৪ বছর) জনসংখ্যাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। এটা হওয়ার একটা বড় কারণ, তারা শ্রমঘন নয় বরং পুঁজিঘন শিল্প গড়ে তুলেছে। যেখানে কর্মীর দরকার হচ্ছে কম। প্রযুক্তি কায়িক শ্রম কমানোয় অপেক্ষাকৃত কর্মমুখী বয়সীদের কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ কিছুক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়েছে। জনাথন সাইলাস বলেন, "বয়স্কদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি আমাদের আছে বিপুল বেকার তরুণ জনগোষ্ঠী। ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেকারত্বের হার ছিল ১৩ শতাংশ। তাই এসব ঘাটতি সমাধানের দিকে নজর দিলেই কেবল শ্রমশক্তির পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে।" লিঙ্গ বৈষম্যের কারণেও কিছু দেশে শ্রম সংকট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন গ্রেচেন। যেমন ভারতে নারীদের ঘরের বাইরে কাজে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। যেমন ভারতে ২০০০- এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শ্রমশক্তির ৩০ শতাংশের বেশি ছিল নারী। কিন্তু, ২০২১ সালে তা ১৯ শতাংশে নেমে আসে। তাই বৃদ্ধদের সংখ্যা বাড়ার ফলে শ্রমশক্তির যে ঘাটতি- সেটা নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলেই অনেকটা পূরণ করা যাবে। কাঠামোগত সমস্যার গভীরতাও প্রভাব ফেলছে শ্রমশক্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায়। যাকে 'প্রাতিষ্ঠানিক দীর্ঘসূত্রিতার পরিস্থিতি' বলে অবহিত করেন রোনাল্ড লি। এটা এমন এক অবস্থা– যেখানো কোনো দেশ বা সমাজের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক-সহ সরকার জনসংখ্যার গড় বয়সে আসা পরিবর্তন মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়েছে; বা প্রয়োজন অনুযায়ী, যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা এখনও করে উঠতে পারেনি। লি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ বা পরিকল্পনা না থাকায় –  "অনেক দেশের নাগরিকদের কাছে কাজ করার পাশাপাশি সন্তান নেওয়ার চিন্তা করাও আতঙ্কের। আবার যখন বয়স্করা বেশি সময় কাজে নিয়োজিত থাকছে, তখন তরুণরা আরো বেশি অবসর কাটাতেও পারছে।" বেশি বয়সের জনসংখ্যার কিছু দেশ নাগরিকদের আরো সন্তান নেওয়াকে উৎসাহ দিচ্ছে। যেমন চীনের কথাই বলা যায়। টানা তিন দশক 'এক সন্তান নীতি' কার্যকর রাখার পর চীন সরকার বর্তমানে সর্বোচ্চ তিনটি সন্তান নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে দম্পতিদের। অধিক সন্তান নেওয়া দম্পতিদের সরকারিভাবে ভাড়া বাসা দেওয়া, কর রেয়াতসহ নানান সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে চীনের কর্তৃপক্ষ। কয়েক দশক ধরে নিম্ন জন্মহার থাকা আরেকটি দেশ হাঙ্গেরি। দেশটির সরকার দম্পতিদের জন্য গর্ভধারণকালীন ছুটি, কর অবকাশ এবং তিন বা ততোধিক সন্তান আছে এমন দম্পতির ঋণ কমানোসহ নানান নীতি-সহায়তা দিচ্ছে। এমনকি বেকার বাবা-মাদের দেওয়া হচ্ছে মাসিক ভাতা। তবে একইসঙ্গে নারীদের বেশি বেশি সন্তান ধারণে উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের কর্মশক্তিতে যুক্ত করাটা সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়। তাছাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয়, শারীরিক ফিটনেস, ক্যারিয়ার– এসব চিন্তা থেকে আধুনিক অনেক মায়েরাই অধিক সন্তান নিতে চান না। এই বাস্তবতায়, অস্ট্রেলিয়া সরকার নারীদের উৎসাহ দিতে তাদের সন্তান দেখভালের জন্য যে সময় দরকার – তার বাইরে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। অর্থাৎ, তারা সুবিধেমতো সময়ে অফিস করতে পারবেন, আর বাকি সময়ে দেখাশোনা করবেন সন্তানকে। অবশ্য বাচ্চা বয়সে খুব ছোট হলেই মিলবে এ সুবিধা। এত কিছুর পরও উপরে আলোচিত দেশগুলোর নিম্ন জন্মহারে এপর্যন্ত বদলায়নি। তাই বয়স্কদেরই কীভাবে সুস্বাস্থ্য ধরে রাখা যায়, কীভাবে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যায়– তার ওপর নির্ভর করছে তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। (ঈষৎ সংক্ষেপিত)
Published on: 2023-07-02 09:15:31.951885 +0200 CEST