The Business Standard বাংলা
যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪৮

যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪৮

যুদ্ধপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামাজে জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। একজনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ডিউটি অফিসার সেলিম মিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেলে চকরিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি। কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া বাজারে বিকাল তিনটার দিকে জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পেকুয়া স্থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দার। চট্টগ্রামে সাঈদীর গায়েবানা জানাজা পড়ার অনুমতি দেওয়া না হলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত ও ১২ জন আটক হয়েছেন। এর আগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়ার সময় রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৩টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় সাঈদীর প্রথম নামাজে জানাজা ঢাকায় করার দাবিতে  তার সমর্থকরা মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেয়। ভোর ৫টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সাঈদীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। এদিকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ খুলনায় দাফনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। খুলনা মহানগরী সোনাডাঙ্গা থানাধীন সিদ্দিকিয়া মহল্লায় মহল্লায় দারুল কুরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসায় রাত ১১টার দিকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। মাদ্রাসাটি 'সাঈদী সাহেবের' মাদ্রাসা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। বিক্ষোভকারীরা বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ ওই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজাভুক্ত হওয়ায় ওই কবরস্থানে তার লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া খুলনায় যাতে সাঈদীর লাশ দাফন না করা হয়, সেজন্য সোনাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। স্থানীয় নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ওই সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেছেন, তার বাবার জীবনদশায় ওই কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য জমি দান করে গেছেন। সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, সেখানে যেন সাইদীকে দাফন না করা হয়, সে বিষয়ে নজরুল পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন। তবে সাঈদী জীবদ্দশায় খুলনায় লাশ দাফন করার জন্য অসিয়ত করে গিয়েছিলেন বলে জানান দারুল কুরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা জামে মসজিদের ইমাম আসাদুজ্জামান। আসাদুজ্জামান বলেন, 'খুলনা শহরে মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর জন্য ১৯৮৩ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। জীবদ্দশায় সাঈদী ও তার স্ত্রীর করে যাওয়া অসিয়ত অনুযায়ী মরদেহ দাফনের জন্য এখানে নির্ধারিত স্থান আছে। তাই মৃত্যুর খবর পেয়ে মাদ্রাসা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মাদ্রাসায় জরুরি বৈঠকে বসেছি আমরা।' তিনি আরও বলেন, সাঈদীর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দেশে আসার পর খুলনায় মরদেহ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তার পরিবার যেখানে সিদ্ধান্ত দেবে, সেখানে দাফন করা হবে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর এ নেতা। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আমৃত্যু কারাদণ্ডভোগের সময় সাঈদী রোববার দুপুর ২টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর কাশিমপুর কারাগারের চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
Published on: 2023-08-15 14:52:10.249254 +0200 CEST