The Business Standard বাংলা
পাবলিক স্পিকিং বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন: প্রতিটি যুক্তিতে জয়লাভ করতে ১ নম্বরেই যে দক্ষতার প্রয়োজন

পাবলিক স্পিকিং বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন: প্রতিটি যুক্তিতে জয়লাভ করতে ১ নম্বরেই যে দক্ষতার প্রয়োজন

যারা যুক্তিতে জয়লাভ করেন এবং বিতর্ক বা ডিবেটিংয়ে ভালো, তারা শুধু ভালো বক্তাই নন, চমৎকার শ্রোতাও হয়ে থাকেন। গুড লিসেনিং স্কিল তথা ভালো করে কথা শোনার দক্ষতা আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং আপনাকে অন্যের কাছে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু খুব কম লোকের মধ্যেই এই গুণ দেখা যায়। অনেকেই পরিকল্পনা করেন যে, এখন থেকে তারা বলবেন কম, শুনবেন বেশি। অথচ কথা বলার সময় উল্টোটাই ঘটিয়ে ফেলেন। ভালো শ্রোতা হয়ে উঠতে 'উইন এভ্রি আর্গুমেন্ট: দ্য আর্ট অব ডিবেটিং, পারসুয়েডিং, অ্যান্ড পাবলিক স্পিকিং' নামক বইতে পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক ও লেখক মেহদি হাসান দুই ধরনের শ্রবণচর্চার উল্লেখ করেছেন- ক্রিটিক্যাল লিসেনিং (সমালোচনামূলক শ্রবণ) এবং এমপ্যাথেটিক লিসেনিং (সমানুভূতিসম্পন্ন শ্রবণ)। *১। ক্রিটিক্যাল লিসেনিং* 'এটা কি সত্যি নাকি মিথ্যা?', 'এর কি আসলেই কোনো অর্থ আছে?', 'যা শুনছি তা কি আদৌ বিশ্বাস করার মতো?'- এ ধরনের প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুধাবন করতে বক্তার কথা সচেতনভাবে শোনা, বোঝা এবং মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শিক্ষক যখন আপনার লেখা একটি রচনার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অথবা আপনার বস যখন আপনার লেখা প্রতিবেদনের ভুল তুলে ধরছেন, তখন আপনাকে এমন ক্রিটিক্যাল লিসেনারই হতে হবে। ক্রিটিক্যাল লিসেনার হওয়ার কিছু কৌশল হলো- *মনকে সংকীর্ণ করবেন না* আপনি যখন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তর্ক করছেন, তখন আগে থেকেই ধরে নেবেন না যে তারা বোকার মতো কিছু বলছে কিংবা যা বলছে সবই ভুল। সেসব পয়েন্ট বা লাইনগুলোর জন্য ভালো করে তাদের কথা শুনুন যা আপনি আপনার নিজের মন্তব্য তুলে ধরতে পরে ব্যবহার করতে পারবেন। অবশ্যই নিজের যুক্তি নিয়ে আত্মবিশ্বাস রাখা উচিত। কিন্তু অপরপক্ষ কোথায় শক্তিশালী বা আপনার জোর কোথায় কমে যাচ্ছে সেটা বুঝতে মনের দুয়ার রাখতে হবে একদম উন্মুক্ত। *মন সাফ রাখুন* আপনার আশেপাশের ব্যক্তিরা যখন কথা বলছেন কিংবা কোনো বিষয়ে মত দিচ্ছেন, তখন একদম ঝিমোবেন না বা মনোযোগ হারাবেন না। এটি আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করবে। সতর্কভাবে শোনার মাধ্যমে আপনি অপর পক্ষের অযৌক্তিক বা মিথ্যা দাবি ধরে ফেলতে পারবেন; সাথে সাথে নিজের পালটা যুক্তি উপস্থাপন করে তর্ক জিতে নিতে পারবেন। *প্রয়োজনীয় নোট নিন* ক্ষুরধার মনন আর চৌকস স্মৃতিশক্তি ক্রিটিক্যাল লিসেনিংয়ে সহায়ক। আর এ দুটোতেই শান দিতে পারে নোট নেওয়ার অভ্যাস। হ্যাঁ, চর্চাটা একটু 'ওল্ড ফ্যাশনড' বটে; তবে ভুলে যাবেন না, পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ এখনো নোটস নেওয়ার অভ্যাসটা ধরে রেখেছেন। লন্ডনে একটি কনফারেন্সে বিল গেটসের সাথে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ব্রিটিশ বিলিয়নেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন জানান, বছরে তিনি কয়েক ডজন নোটবুক শেষ করেন। *২। এমপ্যাথেটিক লিসেনিং* এ ধরনের শ্রবণ প্রক্রিয়ায় বক্তার সাথে সংযোগ স্থাপন করে তার চোখেই সবকিছু দেখার চেষ্টা করা হয়। এর উদ্দেশ্য বক্তার মতামতের উপর ফোকাস করা এবং সেসবের উৎস বোঝা। মনে হতে পারে, এতে আর মাথা খাটানোর কী আছে! এতো খুবই সহজ। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক বুদ্ধিমান লোকও এতে উতরে যেতে পারেন না। এখানে রইলো কিছু কৌশল- *নিজের উপস্থিতি জানান দিন* অন্যান্য বক্তা এবং যারা দেখছেন বা কথোপকথনটি শুনছেন তাদের কাছে এটি পরিষ্কার করুন যে, আপনি অন্য বক্তার প্রতি মনোযোগী। আপনার শতভাগ মনোযোগ যেন আপনার নিজেকে ঘিরেই না হয়, সেটি নিশ্চিত করুন। 'লিসেন লাইক ইউ মিন ইট: রিক্লেইমিং দ্য লস্ট আর্ট অব ট্রু কানেকশান' বইয়ের লেখক জিমেনা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, "নিজেকে শান্ত করুন, সব ডিভাইস দূরে রাখুন আর নিজের মনোযোগ অপর ব্যক্তির দিকে নিয়ে যান।" *চোখে চোখে কথা হবে* সমানুভূতি প্রকাশ এবং গভীর মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে আই কন্ট্যাক্ট বা চোখে চোখ রেখে কথা বলার গুরুত্ব অনেক বেশি। গবেষণায়ও একে সমর্থন করে। চিকিৎসা সম্পর্কীয় একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের যোগাযোগ রোগীর ক্লিনিক্যাল এমপ্যাথি বুঝতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। পাবলিক স্পিকারদের আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যিনি কথা বলার সময় শ্রোতাদের চোখ এড়িয়ে যান তার তুলনায়, যে বক্তা শ্রোতার চোখে চোখ রেখে কথা বলেন, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের প্রবণতা বেশি থাকে মানুষের। *সঠিক প্রশ্নটি করুন* কথা বলার সময় অপরপক্ষকে এমন প্রশ্ন করুন, যা তাদের কথোপকথন চালিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। প্রয়োজনে কিছু ফলো-আপ প্রশ্ন করুন, যেন তারা বুঝতে পারে যে আপনি আসলেই তাদের উত্তরগুলো শুনছেন। শুধু 'হ্যা' বা 'না'-তেই উত্তর শেষ হয়ে যায়, এমন প্রশ্ন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। বরং এমন প্রশ্ন সামনে আনুন যা আলোচনাকে অর্থবহ করে।
Published on: 2023-08-18 14:04:05.167005 +0200 CEST