The Business Standard বাংলা
১০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট

১০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট

প্রকল্প অনুমোদনের প্রায় ১৪ বছর পর শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড সড়কের দীর্ঘ প্রতীক্ষা অবশেষে বাস্তব পরিণতির মুখ দেখছে। শনিবার এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ২২.৫ কিলোমিটারের প্রথম অংশ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর বিকাল ৪টায় তিনি শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন। কর্মকর্তারা জানান, এক্সপ্রেসওয়ের এই অংশ দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পৌঁছাতে একটি গাড়ির প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগবে। জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উল্টোপাশের কাওলা এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠবেন এবং বিমানবন্দর টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। টোল প্লাজায় সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করার পর প্রধানমন্ত্রী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত যাবেন। *উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন* এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ধাপের সফল উদ্বোধনের নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন। তিনি টিবিএসকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে প্লাজা ও রোড লাইট স্থাপনসহ শেষ মুহূর্তের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েতে টোল প্লাজা ও রোড লাইটও ঠিকমতো বসানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল নাগাদ এক্সপ্রেসওয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ হয়েছে। ২০১১ সালে ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করে সরকার। এই এক্সপ্রেসওয়ের মূল রুটের দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিলোমিটার এবং র‍্যাম্প ও কানেক্টিং লিঙ্কের দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। *২০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী* এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পটি রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলকে সংযুক্ত করে অপেক্ষাকৃত দ্রুত ও দক্ষ টোল সড়ক উপহার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুতুবখালী পর্যন্ত যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো এখন মাত্র ২০ মিনিটে যাত্রা সম্পন্ন করতে পারবে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। সম্পূর্ণ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আগামী জুনে পুরোদমে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। *বিশাল সমাবেশের আয়োজন আওয়ামী লীগের* আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বিশাল জনসমাবেশে পরিণত করতে চায় ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি জনসভায় পাঁচ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি টিবিএসকে বলেন, এই সমাবেশ এই বার্তা দেবে যে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের অংশগ্রহণ, সমর্থন ও জনশক্তিতে বলীয়ান এবং জনগণ এই সরকারের সঙ্গে রয়েছে। সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন আরও জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন ও বিনিয়োগকারীদের একজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখবেন। *মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮,৯৪০ কোটি টাকা* সরকার ২০১১ সালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ব্যবস্থায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের নেতৃত্বে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সেতু বিভাগ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফাইন্যান্সিং হিসেবে সরকার দিচ্ছে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষ পিপিপি প্রকল্পকে সহায়তা করার জন্য ৪ হাজার ৯১৮ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের বেসরকারি অংশীদার বিনিয়োগ করছে ৬ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, আর সরকার দিচ্ছে ৭ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। চায়না এক্সিম ব্যাংক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অভ চায়না ঋণ হিসেবে বিনিয়োগকারীদেরকে ৮৬১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে। *২০৪৫ সালে এক্সপ্রেসওয়ে বুঝে নেবে সরকার* ২৫ বছরের চুক্তির আওতায় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বিনিয়োগকারীরা ২০৪৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টোল আদায় করবে এবং ২০৪৫ সালের প্রথম দিনে এক্সপ্রেসওয়ে সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এক্সপ্রেসওয়েটি আংশিক চালু হওয়ার ফলে শহরের যেসব এলাকায় এক্সিট র‌্যাম্প রয়েছে, সেখানে যানজট বাড়তে পারে। বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, এলিভেটেড রাস্তাগুলো শহরের ভেতরে যানজট নিরসনে দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে বিকল্প রাস্তা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়। তবে এ ধরনের অবকাঠামোগুলো শহরের অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা না হলে এসব অবকাঠামোর নিচের এলাকায় যানজট বাড়তে পারে। তবে মনজুর হোসেন নগরীতে বাড়তি যানজটের চাপ-সংক্রান্ত উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধন হলে শহরের মধ্যে ২২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের একটি ক্যারেজওয়ে হবে। '১৫ শতাংশ যানবাহন যদি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে, তাহলে সমান্তরালভাবে নিচের ক্যারেজওয়েতে চাপ আনুপাতিকভাবে কমবে,' বলেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যাত্রার সময় প্রায় ১০ মিনিটে নেমে আসবে বলেও উল্লেখ করেন মনজুর হোসেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাছে বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধন হলে রাজধানীর উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চলাচল নিরবচ্ছিন্ন হবে। মনজুর হোসেন ও হাদিউজ্জামান উভয়েই এক্সপ্রেসওয়েটির পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনের পর রাজধানীর ভেতরে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
Published on: 2023-09-01 19:33:10.417966 +0200 CEST